"রঙ্গ থিয়েটার" কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ দ্বারা পরিচালিত একটি বাংলা ওয়েব পোর্টাল, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলা নাটক এবং থিয়েটার বিষয়ক যাবতীয় খবরাখবর, নাট্য সমালোচনা ও নাট্যচিত্র প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩
তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে অনুষ্ঠিত হল বিভাবন এর ২২তম অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব
বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩
প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে চারটি দলকে নিয়ে কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ পালন করলো "সেলিব্রেশন অফ থিয়েটার"
'কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের' আয়োজনে ,- 'প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে' ,গত ২০ মে ২০২৩ এ পুরো সন্ধ্যা জুড়ে - ভিন্ন স্বাদের চারটি গল্প নিয়ে চারটি নাটিকার উপস্থাপনা ,দর্শকের মনে এক আলাদা স্বাদ এনে দিয়েছিল ৷ আয়োজক দলের বিশিষ্ট অভিনেতা , মনোজিৎ মিত্রের অভিনয়ের মাধ্যমে । প্রথম গল্প : ঘ্রাণ ৷ পরিচালনায় : পৃথা ভট্টাচার্য্য ৷ গল্প : অর্পিতা দাশগুপ্ত ঘ্রাণ অর্থাৎ গন্ধের মাধ্যমে ,যেমন , জামার গন্ধ , সেটা নতুন নাকি ঘেমো ? ফুলের গন্ধ-সেটা কী ফুল ? তা তাজা নাকি বাসি ?জিনিসপত্রের গন্ধের সাথে , মানুষের সাথে সম্পর্কের গন্ধটাও পাওয়া যায় ৷ হ্যাঁ , লুকিয়ে রাখা ঘুষের টাকা থেকে পচা ডিমের গন্ধও ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে ৷ জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি , যদি ভালোবাসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে , সেখান থেকেও যে শিল্পীর কাছে মেছো গন্ধ আসে ৷ আর,এই সব দূর্গন্ধ থেকে পালিয়ে আসতে, 'আতর' ই কি তার একমাত্র সমাধান ? নাকি! অসহ্যকর হয়ে ওঠা চারপাশ ,তাকে উন্মাদনার দিকেই ঠেলে দেয় ? ঘ্রাণ' নামক ছোট্ট নাটিকার মাধ্যমে , অল্প কথায় বাস্তব পরিস্থিতি উঠে এল , শিল্পী মনোজিৎ মিত্রের অসাধারণ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ৷
শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩
আনন্দ মহলের নাটক "না-মানুষ" আসলে মানুষেরই গল্প
নাটক নয় ! মঞ্চে এক টুকরো জীবন্ত সমাজ। আনন্দ মহলের নাটক "না-মানুষ"। জর্জ অরওয়েলের উপন্যাসের নাট্যরূপ হয়ে উঠেছে সময়ের এক প্রতীকী প্রতিলিপি। নাট্য নির্মাতা সৌরভ মুখোপাধ্যায়কে কুর্ণিশ। মঞ্চের পর্দা ওঠার সাথে সাথে এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে বসতে হল সকলকে। শুরু থেকেই আলো ও মঞ্চের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন সৃষ্টি হল। সামান্য কিছু প্রতীকী সরঞ্জাম ব্যবহার করে সুন্দর দৃশ্যপট রচনা করেছেন পরিচালক। সেই সঙ্গে আবহ। প্রতিটি আবহ সঙ্গীত নাটকের না বলা কথা গুল বলে গেল।
রিজওয়ানুরের চরিত্রে সায়ন্তন যথেষ্ট দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনিই নাটকের মূল কান্ডারী। সঙ্গে ছিলেন আমাদের সবার পরিচিত ক্ষমতাধারী শাসক। যার কোন নাম হয় না। বিবির চরিত্রে ইন্দ্রাণী পালের প্রতিটি সংলাপ দর্শকদের বুকে ছুরিকাঘাত করেছে। বহ্নি বিশ্বাস আমাদের বিশ্বাস করিয়েছেন পাশে থাকাটা কঠিন নয়। বহ্নি চরিত্রে জয়শ্রী যেভাবে শুরু তে নিজেকে খোলশে ঢেকে রাখলেন তাতে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়। কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নাটকে দেখানো হল যা বেশ নজরকাড়া।
অভিনেতাদের শারীরিক কসরত বাস্তব চিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। টুকরো টুকরো মন্তাজ দৃশ্যের পরিস্ফুটন আরও স্বাভাবিক হলে ভাল হত। আলোকবৃত্তে অভিনয় করার সময় অনেকেই আলো নিতে পারেননি। এটি নাটকের দূর্বল দিক। নাটকের শুরুতে এবং শেষে থার্ড ওয়াল ব্রেক করে পরিচালক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। যা দেখান হল যে পথ দিয়ে রিজওয়ানুররা চলে যায় সেখান থেকেই আবার কোন নতুন রিজওয়ানুর জন্ম নেয়। আলোক প্রক্ষেপণ সংলাপের মত কথা বলেছে। মঞ্চে হেঁটে চলে বেড়িয়েছে। আবহ প্রক্ষেপণ আরও ভাল হতে পারত।
তবে এ নাটক জিতে যাওয়ার নাটক। সব অসম লড়াইকে তুচ্ছ করে এক ইউটোপিয়ার গল্প। " না-মানুষ" এযুগের মানুষের বেঁচে থাকার নাটক।
বুধবার, ১৭ মে, ২০২৩
আলোমুখ হাওড়া এর নবতম প্রযোজনা "রামধনু"
খুব সত্যি কথা বলতে কি একটা সহজ, সাধারণ ইমোশনাল স্টোরিকে কি অসামান্য চরিত্র নির্মাণ, সংলাপ ও প্রতীকী চরিত্রের উপস্থাপনায় এক গভীর ও ব্যঞ্জনাগর্ভ শিল্প রসে উত্তীর্ণ করা যায় - "রামধনু" নাটক তারই উদাহরণ। মধ্যমেধার নাট্যবোধ দিয়ে এ প্রযোজনায় ছড়ানো ছেটানো যথার্থ শিল্পধারাকে উপলব্ধি করা প্রায় অসম্ভব অথচ নাট্যকার ও পরিচালক এবং সর্বপরি কুশিলবদের অভিনয় মাধুর্যে এই নাটকই একদম সাধারণ দর্শককে হাসিয়েছে আবার কাঁদিয়েওছে যা আমি অডিটোরিয়ামে বসে এবং পরে দর্শকদের সাথে কথা বলে( এটাও আমার কাজের অভ্যাস নাটক শেষে অন্যের সাথে আলোচনা করে নিজের দেখাটাকে মিলিয়ে নেওয়া) বুঝেছি তাঁরা অনেকেই হয়তো রামধনু নামের চরিত্রের প্রতীকী উপস্থিতি না বুঝেও ক্যাথারসিস্ট হতে অসুবিধা হয়নি বা এমনকি এক জন অন্য দলের পরিচালকের সাথেও কথা বলে বুঝলাম তিনি এ নাটকে দুই ভাই বোনের সম্পর্ক ছাড়া আর কোন স্থায়ী সম্পর্কের দিকে নাগিয়েও কেমন করে " রামধনু" চিরন্তন, স্থায়ী সম্পর্কের জাল বুনেছে - তাই নিয়ে আলোচনা করছেন সুন্দর করে। সুতরাং আখ্যানের সারল্যের মধ্যেও কিছু মৌলিক দিক আছে তা কেবল নাটকটি দেখলেই হৃদয়ঙ্গম করা যাবে। সুতরাং কাহিনীর দিকে বিশেষ যাচ্ছি না কারণ এ কাহিনী তেমন নতুন কিছু বলে না বরং বেশি করে বলবো বলার ধরণটায়, যা বুকের ভিতরটা তোলপাড় করে দেয় অসাধারণ সব সংলাপের বুননে।
শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩
কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের আয়োজনে "মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ"
![]() |
| চিত্র - মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ |
গত ৯ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরে ১৬২ তম রবি জন্মবার্ষিকীতে ‘মনে প্রাণে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী স্বর্ণালী সন্ধ্যা উদযাপিত হলো রঙ্গশীর্ষের বাসভবনে। রঙ্গশীর্ষ একটি নাট্য সংস্থা। যা বিগত সাত বছর ধরে বাংলার শহর, শহরতলী, গ্রামাঞ্চল জুড়ে এবং গোটা ভারত জুড়ে একের পর এক ব্যতিক্রমী রোমাঞ্চকর নাটক দর্শকদের উপহার দিয়ে চলেছে। কেষ্টপুরের প্রফুল্লকানুনবাসীর একান্ত অনুরোধ ও রঙ্গশীর্ষের আন্তরিকতার মেলবন্ধনে যখন সন্ধ্যেবেলায় তাদের বাসভবনের সুসজ্জিত ছাদে আলোক ঝর্ণার মধ্যে দিয়ে একের পর এক নৃত্য, গান, আবৃত্তি তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছিল তখন জোড়াসাঁকোয়ে রবি ঠাকুরের বাসভবনের ছাদের জলসাঘর অনুভূত হচ্ছিল।
![]() |
| চিত্র - উদ্বোধনী সংগীত |
এই অঞ্চলের সমাজসেবী
শম্পা চক্রবর্তী ও নাট্য ব্যক্তিত্ব বাদল কাঞ্জিলাল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন এলাকার ভদ্রমহিলারা। রঙ্গশীর্ষের আন্তরিক অনুপ্রেরণায়
উৎসাহিত হয়ে শিল্প বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো রঙ্গশীর্ষের মঞ্চে এসে
দুরুদুরু বুকে এমন একে একে তাদের শিল্প প্রদর্শন করেন। এদের মধ্যে এমন অনেকেই
ছিলেন যারা দীর্ঘদিন মঞ্চে পা রাখেননি। কিছু শিল্পী ছিলেন যারা নিয়মিত মঞ্চে ওঠা
নামা করেন। এই জন্য তাঁদেরকে বিশেষ সাধুবাদ জানাতেই হবে। সবশেষে আকর্ষণ ছিল
রঙ্গশীর্ষের নাটক। চারটি রবীন্দ্র গল্পের কোলাজ নিয়ে ‘কোলাজে রবির গল্প’।নাট্যরুপ ও নির্দেশনা পৃথা ভট্টাচার্য। অভিনয়ে - পৃথা ভট্টাচার্য, প্রীতি চৌধুরী, শুভশ্রী দত্ত, চিরঞ্জিত বারুই, সৌরভ আচার্য এবং মনোজিৎ মিত্র।অসাধারণ অভিনয় করে গেলেন সবাই। বিশে করে পৃথার অভিনয় অনেক দিন মনে
থাকবে। উপস্থিত শিশু কিশোরেরা রবীন্দ্রনাথের গল্পের সাথে আরো একবার নতুনভাবে
পরিচিত হলো। সান্ধ্য জলসায় সকলের জন্য জলখাবারের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০টিরও বেশী পারফর্মেন্স প্রদর্শিত হয়। এই রবি সন্ধ্যার সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলান কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নির্দেশক মনোজিৎ মিত্র এবং পৃথা ভট্টাচার্য।
"মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ"
এ অংশগ্রহন করেন যথাক্রমে সৃস্টিকা ভট্টাচার্য, সৈরিন্দ্রী চক্রবর্তী, দিশারী দাস, অনুস্কা মুহুরী, অনুভা চক্রবর্তী, শ্রীদাত্রী সরকার, সোমা দাস, অনন্যা সরকার, অর্পিতা সরকার, সুমিতা ভট্টাচার্য, পূজা মুখার্জি, দেবী ব্যানার্জি, রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা ভট্টাচার্য, রাখি সরকার, লাকি চক্রবর্তী, কাকলি ব্যানার্জি, মৌ ভট্টাচার্য, তমঘ্ন দাস, নন্দিনী ব্যানার্জি, ঋদ্ধিমা চৌধুরী, সঞ্চারী সেনগুপ্ত, মেরী চক্রবর্তী, সুকমল ভট্টাচার্য, শ্রেয়সী চৌধুরী, দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, শুভশ্রী দত্ত, প্ৰীতি চৌধুরী, পৃথা ভট্টাচার্য, সৌরভ আচার্য, চিরঞ্জিত বড়াই, মনোজিৎ মিত্র ও আরো অনেকে...
![]() |
| চিত্র - "কোলাজে রবির গল্প" নাটক থেকে |
প্রচুর প্রচুর দর্শকের সমাগম ও তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রবি ঠাকুরের জন্মদিন উদযাপন ১৪৩০ এর ২৫ শে বৈশাখকে এক স্মরণীয় মুহূর্ত করে তুলেছে। সবমিলিয়ে পঁচিশে বৈশাখের এই সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য রঙ্গশীর্ষের
প্রধান উদ্যোক্তা পৃথা ও মনোজিৎকে এবং দলের সকলকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। এইভাবে
রঙ্গশীর্ষ আরও এগিয়ে চলুক। প্রতিবছর এমন সুন্দর অনুষ্ঠানের আশা নিয়ে উপস্থিত
সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আপাতত শেষ হলো রঙ্গশীর্ষের রবীন্দ্র যাপন। চরৈবেতি
চরৈবেতি…
----সুমিতা ভট্টাচার্য
![]() |
| চিত্র - উপস্থিত দর্শকবৃন্দ |
*****
আপনাদের নাট্য সমালোচনা আমাদের E-mail করুন - rangatheatre2020@gmail.com
বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩
উত্তরণের পটভুমিতে "সহবাস" : শ্যামবাজার নাট্যকাব্য
বিষয়ভাবনার দিক থেকে রমাপ্রসাদ বনিকের "সহবাস" নাটকটি নিঃসন্দেহে কিছু আলাদা মাত্রা দাবী করে। আর সেই নাটকটিই নাট্যকাব্য দ্বিতীয় বারের জন্যে মঞ্চস্থ করল রামগোপাল মঞ্চে । নাটকটি উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। নাটকের ঘটনা হল - মধু নামের এক গ্রাম্য যুবক একটি অপরিচিত মেয়েকে অচৈতন্য অবস্থায় তুলে এনে হাজির হয়েছে গ্রামের একটি হাসপাতালে। যে মেয়েটি আগেরদিন রাতে এক কামার্ত পুরুষের লালসার শিকার হয়েছে। যামিনীর জ্ঞান ফিরলে সে মধুর কথা জানে। কয়েকদিনের মধ্যে মধুর সাথে ভালো সম্পর্ক হয়। মধু যামিনী কে বিয়ে করতে চাইলে যামিনী রাজি হয়। বিয়ের পর অন্য জায়গায় এসে ঘর বাঁধে। কিন্তু সারাদিন যত ভালো সম্পর্কই হোক, মধু স্ত্রীকে কাছে টানতে পারেনা। মধু কিছুতেই বুঝতে পারেনা কেন যামিনী এমন করে ? মধুর ছোঁয়ায় তার মধ্যে ভয় আঁকড়ে ধরে। এর মধ্যে গোবিন্দ দারোগা তদন্ত গুটিয়ে আনে। বুঝতে পারে মধুই যামিনী কে সেই রাতে নেশার ঘোরে ধর্ষণ করেছিল। একটি মেয়ে তার কেউ নেই সে অন্ধ মধুই নিরাপদ এবং স্বামীও। ক্ষনিকের ভুলে যে অন্যায় মধু যামিনীর উপর করেছিল তার প্রায়শ্চিত্ত করতে যামিনীকে বিয়ে করেনি কি করেছে বোঝা না গেলেও সে যামিনীকে ভালোবাসে এটা সত্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যামিনী কি করবে?
আপনাদের নাট্য সমালোচনা আমাদের E-mail করুন - rangatheatre2020@gmail.com


.jpg)





















.jpg)

