মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩

তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে অনুষ্ঠিত হল বিভাবন এর ২২তম অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব








বিভাবন থিয়েটার একাডেমির আয়োজনে গত ১৭-২০ মে ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২২তম অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে।  ১৭ মে ২০২৩ উৎসবের প্রথম দিনে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার হর ভট্টাচার্য  ও বিশেষ অতিথি রূপে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের অধ্যাপক তরুণ প্রধান ও  কবি প্রবালকুমার বসু।





উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বিভাবন উপস্থাপনা করে বাদল সরকারের "সার্কাস" নাটক অবলম্বনে "ফ্যালারাম" এবং ন্যাজাট ভাবনা উপস্থাপনা করেন "দেশে ফেরা"।

১৮ মে ২০২৩, উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল চারটি নাটক। ইফটা নাট্যদল উপস্থাপনা করেন" ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর", নটমন উপস্থাপনা করেন "মন কইন্যার ব্রত", কলকাতা রঙ্গশীর্ষ উপস্থাপনা করেন "কেকয় কন্যা" ও খড়দহ থিয়েটার জোন উপস্থাপনা করেন "ঘরে বাইরে" । 

১৯ মে ২০২৩ উৎসবের তৃতীয় দিনেও ছিল চারটি নাটক থিয়েলাইট উপস্থাপনা করেন "শয়তান",বাউড়িয়া পিপলস রেপার্টরি থিয়েটার উপস্থাপনা করেন "খেয়া ঘাট",দমদম ফ্যাক্ট উপস্থাপনা করেন "Chiken Delight" ও ক্যানডিড থিয়েটার উপস্থাপনা করেন "মেজদিদির কেচ্ছা"।

 
২০শে মে ২০২৩ উৎসবের শেষ তথা চতুর্থ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় থিয়েটারের আড্ডা দিয়ে দুপুরে, উপস্থিত ছিলেন থিয়েটারে উৎসাহী বেশ কিছু মানুষ।আড্ডার পর ছিল সাতটি নাটক।ইউথোপিয়া  উপস্থাপনা করেন "কালো খ্রীষ্ট ",আসানসোল উড়ান উপস্থাপনা করেন"Matte finish",ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় উপস্থাপনা করেন "বিষবৃত্ত, "দমদম চক্রবাক  উপস্থাপনা করেন "ভয়",আয়না নাট্যদল উপস্থাপনা করেন "Reel ও Real", কলকাতা কোরাস রেপার্টরি উপস্থাপনা করেন "কুর্সি" ও বিভাবন মুক্ত নাট্য নিয়ে তাদের "Nothing to say" উপস্থাপনা করেন। 

এই চারদিন তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহ তে দর্শক ছিল বেশ ভাল।আয়োজক দল বিভাবন এর পক্ষ থেকে সুপ্রিয় সমাজদার বলেন তাদের এই অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব ২২ বছর হলো।এই উৎসবের তাৎপর্য তাদের কাছে এবং অন্তরঙ্গ নাটকের চর্চাকারীদের এখন আর একটি দলের উৎসব নয় বন্ধুদেরও উৎসব।বিশেষ ভাবে তিনি ধন্যবাদ জানান তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহ ও পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি'র সকলকে,তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই উৎসব এই ভাবে করা সম্ভব ছিল না,ধন্যবাদ জানান বন্ধু  নাট্যদল গুলিকে যারা এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সমস্ত দর্শকদের যারা রোজ ভরিয়ে তুলেছিলেন তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহ।
পরিশেষে তিনি বলেন বিগত দু বছর তারা জাতীয় অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব-"ব্রিজ বিটুইন আস" করে আসছে এ বছর তৃতীয় বর্ষে পা দেবে।যা এই অন্তরঙ্গ নাটকের চর্চার আর একটি প্রকাশ জাতীয় স্তরে।






বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩

প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে চারটি দলকে নিয়ে কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ পালন করলো "সেলিব্রেশন অফ থিয়েটার"

 

'কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের' আয়োজনে ,- 'প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে' ,গত ২০ মে ২০২৩ এ  পুরো সন্ধ্যা জুড়ে - ভিন্ন স্বাদের চারটি গল্প নিয়ে চারটি নাটিকার উপস্থাপনা ,দর্শকের মনে এক আলাদা স্বাদ এনে দিয়েছিল ৷ আয়োজক দলের বিশিষ্ট অভিনেতা , মনোজিৎ মিত্রের অভিনয়ের মাধ্যমে । প্রথম গল্প : ঘ্রাণ ৷ পরিচালনায় : পৃথা ভট্টাচার্য্য ৷ গল্প : অর্পিতা দাশগুপ্ত ঘ্রাণ অর্থাৎ গন্ধের মাধ্যমে ,যেমন , জামার গন্ধ , সেটা নতুন নাকি ঘেমো ? ফুলের গন্ধ-সেটা কী ফুল ? তা তাজা নাকি বাসি ?জিনিসপত্রের গন্ধের সাথে , মানুষের সাথে সম্পর্কের গন্ধটাও পাওয়া যায় ৷ হ্যাঁ , লুকিয়ে রাখা ঘুষের টাকা থেকে পচা ডিমের গন্ধও ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে ৷ জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি , যদি ভালোবাসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে , সেখান থেকেও যে শিল্পীর কাছে মেছো গন্ধ আসে ৷ আর,এই সব দূর্গন্ধ থেকে পালিয়ে আসতে, 'আতর' ই কি তার একমাত্র সমাধান ? নাকি! অসহ্যকর হয়ে ওঠা  চারপাশ ,তাকে উন্মাদনার দিকেই ঠেলে দেয় ? ঘ্রাণ' নামক ছোট্ট নাটিকার মাধ্যমে , অল্প কথায় বাস্তব পরিস্থিতি উঠে এল , শিল্পী মনোজিৎ মিত্রের অসাধারণ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ৷


    দ্বিতীয় নাটক : দুই পাখির ইচ্ছা পূরণ ৷ নাট্য দল : নট আ স্টোরিটেলার ৷ ভাবনা : অভিক ভট্টাচার্য্য ৷ অভিনয়ে : অহনা , অস্মিতা ৷ আমরা সবাই এটাই ভাবি যে, নদীর ওপারে সমস্ত সুখ, আর আমি এপারে দাঁড়িয়ে , সব থেকে দু:খী এই পৃথিবীতে ৷এরকম ধারণা শুধু যে মানুষেরই ,তা নয় ৷  দুই পাখির মধ্যেও একই ধারণা ৷ রবিঠাকুরের তোতাকাহিনী কবিতার কিছু লাইন দিয়ে দ্বিতীয় উপস্থাপনার সূচনা ঘটল ৷ সোনার খাঁচায় থাকা পাখিটি অফুরন্ত খাবার পাওয়ার সাথে , আধুনিক যুগে সে 'মোবাইলে' 'নেট' ও ঘাটে ৷ সে আবার এক মুখোশধারী 'বস্ ' নামক চরিত্রের অধীনস্ত ৷ এদিকে , বনের সবুজ পাখী স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়ায় , কিন্তু খাবারের সন্ধানে তাকে লড়াই ও করতে হয় ৷ উভয় উভয়কে দেখে ভাবে, অপরজন কত্ত না সুখে আছে ৷ তারা তাদের অবস্থার বদল ঘটাতে চাইল ৷ এদিকে ,বনের পাখী খাঁচার মধ্যে স্বাধীনভাবে উড়তে গিয়ে ,ব্যাস্ - অল্প স্থানে আর পারল না উড়তে ৷ ওদিকে সোনার পাখী , খোলা জায়গা পেয়ে যেই না উড়তে গেল , বহু সময়ের অনভ্যাসে আর পাখনা ঝাপটাতেই পারল না ৷ সম্মিলিত গান 'নদীর এপার.....' অসাধারণ শ্রুতিমধুর উপস্থাপনা , তার সাথে , সম্পূর্ণ গল্পে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার সুমধুর ভালোলাগা উপহার পেল দর্শক ৷

    গিরগিটির স্বভাব মানুষের চরিত্রের মধ্যেও যে ছড়িয়ে পড়ে , সেটাই দেখিয়ে দিল কয়েকজন ক্ষুদে শিল্পী ৷ পুলিশ নামক চরিত্রের মধ্য দিয়ে - ড: তাপস দাসের পরিচালনায় "এসো নাটক শিখি" নাট্যদল, এ্যান্টন চেকোভের লেখা গল্পের নাট্য রূপে দেখা গেল। পুলিশ চোর ধরার কাজ না করে নিজেই বিনাপয়সায় ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় ৷ একটা বাচ্চা যখন একই কাজ করে , তখন সেই পুলিশ অনবরত দমাদম লাঠির মার দেয় ৷ এদিকে , পুলিশ যখন জানতে পারে যে বাচ্চা টা কমিশানারের নিজের ছেলে, ব্যাস্ - আর কি ! চরিত্রের রং টা পুরোটা যেন বদলে যায় ৷ আর শিশুর মনতো জটিল নয় , সেই চোখে আঙুল দিয়েই পুলিশের আসল চরিত্র দেখিয়ে দিল - 'গিরগিটি'র চরিত্র ৷ সুপরিচিত কয়েকটি গানের সুর মিলিয়ে গল্পানুসারে নাটকে তিনটি গান বেশ প্রাসঙ্গিক ৷


    শেষ গল্পে , রূপ ও রং থিয়েট্রিক্যাল নাট্যদলের নাটক 'বাঁশী ' ৷ বন্দনা মিত্রের লেখা ,মনোসিজের পরিচালনায় ,অভিনেত্রী মোহনার একক অভিনয় , অসাধারণ ৷বেশীরভাগ মানুষ , জিনিসপত্র ভাগাভাগির সময় টাকার অঙ্কে সবথেকে দামী যে জিনিস ,তা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টাই করে ৷ কিন্তু , গল্পের একক চরিত্রাভিনেত্রীর নজর পড়েছিল - মরচে ধরা বাক্সে রাখা , সস্তা দামের একটা বাঁশীর উপর ৷ না , টাকার অঙ্কে , তার কোনো দামই যে নেই ৷ কিন্তু , সেই বাঁশিই যে , এই বাড়ির পূর্বপুরুষ ত্রিনয়নী মানে , নয়ন বৌ - শুধুমাত্র বাঁশীকেই আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছিল ৷ ঘরের সমস্ত কাজ মিটিয়ে , শ্বশুরবাড়ির , স্বামীর কাছ থেকে বারংবার মারধর খেয়ে , অপমান সহ্য করে , এই বাঁশীই ছিল নয়ন বৌ এর এক এবং একমাত্র সঙ্গী ৷ যে ঘরে দাঁড়িয়ে , আজকের শিল্পী , অত্যাচারিত  বাঁশী বাদিকার কথা বলছে , সেই ঘরে বসেই নয়নবৌ পরিস্থিতি মতন বাঁশীতে সুর বাজাতেন ৷ গল্পের প্রয়োজনে , আরেকটি চরিত্রের উপস্থাপন ঘটলেও , এই অভিনেত্রীই ছিলেন - এই গল্পকথার একমাত্র কথক ৷ এই সুন্দর সন্ধ্যের , সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন - পৃথা ভট্টাচার্য্য । 

    রিভিউ- শুভশ্রী দত্ত



    শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

    আনন্দ মহলের নাটক "না-মানুষ" আসলে মানুষেরই গল্প

    নাটক নয় ! মঞ্চে এক টুকরো জীবন্ত সমাজ। আনন্দ মহলের নাটক "না-মানুষ"। জর্জ অরওয়েলের উপন্যাসের নাট্যরূপ হয়ে উঠেছে সময়ের এক প্রতীকী প্রতিলিপি। নাট্য নির্মাতা সৌরভ মুখোপাধ্যায়কে কুর্ণিশ। মঞ্চের পর্দা ওঠার সাথে সাথে এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে বসতে হল সকলকে। শুরু থেকেই আলো ও মঞ্চের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন সৃষ্টি হল। সামান্য কিছু প্রতীকী সরঞ্জাম ব্যবহার করে সুন্দর দৃশ্যপট রচনা করেছেন পরিচালক। সেই সঙ্গে আবহ। প্রতিটি আবহ সঙ্গীত নাটকের না বলা কথা গুল বলে গেল। 


    রিজওয়ানুরের চরিত্রে সায়ন্তন যথেষ্ট দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনিই নাটকের মূল কান্ডারী। সঙ্গে ছিলেন আমাদের সবার পরিচিত ক্ষমতাধারী শাসক। যার কোন নাম হয় না। বিবির চরিত্রে ইন্দ্রাণী পালের প্রতিটি সংলাপ দর্শকদের বুকে ছুরিকাঘাত করেছে। বহ্নি বিশ্বাস আমাদের বিশ্বাস করিয়েছেন পাশে থাকাটা কঠিন নয়। বহ্নি চরিত্রে জয়শ্রী যেভাবে শুরু তে নিজেকে খোলশে ঢেকে রাখলেন তাতে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়। কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নাটকে দেখানো হল যা বেশ নজরকাড়া। 

    অভিনেতাদের শারীরিক কসরত বাস্তব চিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। টুকরো টুকরো মন্তাজ দৃশ্যের পরিস্ফুটন আরও স্বাভাবিক হলে ভাল হত। আলোকবৃত্তে অভিনয় করার সময় অনেকেই আলো নিতে পারেননি। এটি নাটকের দূর্বল দিক। নাটকের শুরুতে এবং শেষে থার্ড ওয়াল ব্রেক করে পরিচালক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। যা দেখান হল যে পথ দিয়ে রিজওয়ানুররা চলে যায় সেখান থেকেই আবার কোন নতুন রিজওয়ানুর জন্ম নেয়।  আলোক প্রক্ষেপণ সংলাপের মত কথা বলেছে। মঞ্চে হেঁটে চলে বেড়িয়েছে। আবহ প্রক্ষেপণ আরও ভাল হতে পারত। 

    তবে এ নাটক জিতে যাওয়ার নাটক। সব অসম লড়াইকে তুচ্ছ করে এক ইউটোপিয়ার গল্প। " না-মানুষ" এযুগের মানুষের বেঁচে থাকার নাটক।

    বুধবার, ১৭ মে, ২০২৩

    আলোমুখ হাওড়া এর নবতম প্রযোজনা "রামধনু"


     খুব সত্যি কথা বলতে কি একটা সহজ, সাধারণ ইমোশনাল স্টোরিকে কি অসামান্য চরিত্র নির্মাণ, সংলাপ ও প্রতীকী চরিত্রের উপস্থাপনায় এক গভীর ও ব্যঞ্জনাগর্ভ শিল্প রসে উত্তীর্ণ করা যায় - "রামধনু" নাটক তারই উদাহরণ। মধ্যমেধার নাট্যবোধ দিয়ে এ প্রযোজনায় ছড়ানো ছেটানো যথার্থ শিল্পধারাকে উপলব্ধি করা প্রায় অসম্ভব অথচ নাট্যকার ও পরিচালক এবং সর্বপরি কুশিলবদের অভিনয় মাধুর্যে এই নাটকই একদম সাধারণ দর্শককে হাসিয়েছে আবার কাঁদিয়েওছে যা আমি অডিটোরিয়ামে বসে এবং পরে দর্শকদের সাথে কথা বলে( এটাও আমার কাজের অভ্যাস নাটক শেষে অন্যের সাথে আলোচনা করে নিজের দেখাটাকে মিলিয়ে নেওয়া) বুঝেছি তাঁরা অনেকেই হয়তো রামধনু নামের চরিত্রের প্রতীকী উপস্থিতি না বুঝেও ক্যাথারসিস্ট হতে অসুবিধা হয়নি বা এমনকি এক জন অন্য দলের পরিচালকের সাথেও কথা বলে বুঝলাম তিনি এ নাটকে দুই ভাই বোনের সম্পর্ক ছাড়া আর  কোন স্থায়ী সম্পর্কের দিকে নাগিয়েও কেমন করে " রামধনু" চিরন্তন, স্থায়ী সম্পর্কের জাল বুনেছে - তাই নিয়ে আলোচনা করছেন সুন্দর করে। সুতরাং আখ্যানের সারল্যের মধ্যেও কিছু মৌলিক দিক আছে তা কেবল নাটকটি দেখলেই হৃদয়ঙ্গম করা যাবে। সুতরাং কাহিনীর দিকে বিশেষ যাচ্ছি না কারণ এ কাহিনী তেমন নতুন কিছু বলে না বরং বেশি করে বলবো বলার ধরণটায়, যা বুকের ভিতরটা তোলপাড় করে দেয় অসাধারণ সব সংলাপের বুননে।

    চার মহিলা বনাম চার পুরুষ বন্ধুর নিত্য খুনসুটি, কলহ ঝগড়া যা খানিকটা বহু পরিচিত "বসন্ত বিলাপ " সিনেমার কথা মনে করায় অথচ তার পরিণতি একদম অন্যদিকে মোড় নেয় যখন তারই মধ্যে রূপতনু নামে এক তরুণ বন্ধুর ক্যানসার ধরা পড়ে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন গল্প তেমন নতুন কিছু দিচ্ছে না কিন্তু যেটা দিচ্ছে তা এক অবিশ্বাস্য মোটিভেশান যা দিয়ে ক্যানসার রোগটি জয় করে নেওয়া না গেলেও ভয়টাকে  যায় " আমরা যতক্ষণ আছি, ততক্ষণ আমাদের অনেক কাজ"  ডাক্তার মল্লার মেঘ বসুর বলা একটি সংলাপ এবং এই পর্যায়ে আরও একটি সংলাপ না বললেই নয় " জীবন মৃত্যুকে ভয় পায়, কিন্তু মৃত্যু জীবনকে ভয় পাবে কেন!  সেতো জন্ম থেকে মায়ের মতো জীবনকে আগলে রাখে " - এরকম অজস্র সংলাপ কলজের জোর সত্যিই বাড়িয়ে দেয় বইকি।

    মঞ্চ বিভাজনের ক্ষেত্রে ও নির্মাণের ক্ষেত্রটিও নজর এড়ায় না। মঞ্চের বাম দিকে তৈরি হয়েছে "নীল চা চাতাল " ( নামটিও অভিনব) যেখানে চারজন অসম বয়স্ক নিষ্কর্ম বন্ধু আড্ডা মারে, নেশা করে এবং সময় কাটায় এবং ডানদিকে মহিলা মেস যাদের মধ্যে একটা ইতিবাচক জীবন প্রবাহ আছে। এবং তার নিচে ফুটপাতে জীবন শিল্পী রামধনু যে আসলে শিল্পের বাস্তবতা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী হওয়ারই কথা, সে থাকে। এবং তার ঐতিহাসিক সংলাপ " আকাশে রামধনু বেশিক্ষণ থাকে না... "

    সত্যি কথা বলতে কি  যদিও ভালো বিষয়টি ভীষণই আপেক্ষিক, এবং ভালোর কোন শেষ নেই। তবুও এ নাটক সত্যিই ভালো।  সংলাপ ও পরিচালন শৈলী বাদ দিলে এ নাটককে ছোঁয়া যাবে না। পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ একটা আশ্রমের মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে সন্যাসীবেশী এক চিকিৎসক ২৩টি বিষাক্ত কেমো সহ্য করেও চিকিৎসা করে চলেছে এ বিশ্বাস করানোই কঠিন যদি মনের জোর ওঙ্কোলজিস্ট বলার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে। অসাধারণ লেগেছে এই কনসেপ্ট। 
     
    দ্বিতীয়ত রামধনু শরীরী উপস্থিতি যখন নাটকে আর থাকে না তখনই "রামধনু " সেবা প্রতিষ্ঠানকে নাটক খুঁজে পায়। তৃতীয়ত যখন মহিলা চিকিৎসক সদ্য ভেঙে পড়া ক্যানসার রোগীকে জীবনের গল্প শোনায় তখনই তার কল্পচোখ তার কাঙ্ক্ষিত নারীকে মুহূর্তের জন্য খুঁজে পায় এবং পরিশেষে একদিকে মৃত্যু আর একদিকে জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন গল্পের নায়ক রূপতনু শেষবার তার নায়িকাকে দেখে নেয় - তখন মনে হয় আসলে আমরাই কি পার্থিব ও অপার্থিব জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জীবন নাটকটিকে উপলব্ধি করি না!!!  অসাধারণ মনে হয়েছে এই পর্যায়ে। মনে হয়েছে এ নাটক সব মানুষের দেখা দরকার। 

    অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই বলবো একটা কমপ্লিট টিমগেম। এই সময়ের যে কোন নাটকের একটা উদাহরণ। তবু্ও আলাদা করে বলবো  ছন্দক চরিত্রের অভিনেতা সন্দীপন চ্যাটার্জীর কথা। এই অভিনেতা এখন বিভিন্ন নাটকেই বলিষ্ঠ অভিনয়ের জন্য পরিচিত নাম। এখানে তাঁকে পরিপূর্ণ একজন অভিনেতা হিসেবে  খুঁজে পাই দুই অর্ধে দুই ধরনের অভিব্যক্তির কারণে। প্রথম অর্ধের খিল্লী ও দ্বিতীয় অংশে প্রায় সংলাপহীন কেবলই অভিব্যক্তি প্রধান অভিনয়,  অসাধারণ! বাকিরাও খুবই ভালো। খুব ভালো লাগে নীল বাচ্চাটিকে। ভীষণ স্মার্ট। তবে মেয়েদের চারজনই আমার বিচারে বেশি ভালো অন্তত টাইমিং ও আন্ডারস্ট্যান্ডিংএর ক্ষেত্রে। খুব সাবলীল ছিলেন মহিলা মহল। আলাদা করে বলতেই হয় নায়িকার অভিনয় নিয়ে।রাকার ভূমিকায় মনীষা দত্ত  মনে দাগ কেটেছেন। শেষ মুহুর্তে তার সরল বিশ্বাস ও পুরনো বোধ থেকে বেরিয়ে আসার যে মনের জোর তা তাঁর অভিব্যক্তিতে অসামান্য জায়গায় পৌঁছে যায়। ঈশিতা বসু দৈত ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁকে ডাক্তারের চরিত্রে যতো গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে প্রথম অর্ধে চার বান্ধবীর একজন হিসেবে ততোটা নয়। শোনার সমস্যা কিছু হলেও ওনার শরীরী ভাষা সেই ঘাটতি পূর্ণ করেছে ঠিকই তবু্ও তাঁর এ বিষয়ে অল্পবিস্তর যত্নবান হওয়ার দরকার। এ ছাড়াও বলবো রামধনু চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছেন।  এবং ডাক্তার মল্লার মেঘ চরিত্রে পরিচালক স্বয়ং মনসিজ বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁর কণ্ঠ, শরীরী ভাষা ও বাহুল্যবর্জিত অভিনয়ই বুঝিয়ে দেয় - ইনিই দলটার নেতা। ওনার গলায় গান যেন নাটকে প্রাণ দেয়। এক একটা উচ্চারিত সংলাপ যেন জীবনের যেকোনো ঝড়ঝাপটাকে সহজ করে দেয়। উত্তম। অতি উত্তম। 

    যে প্রশ্নের উত্তর পাইনি তাহলে এক জনকে কেন দুটো চরিত্র করতে হলো? প্রথমার্ধের কমেডিতে যেখানে অতো হাস্যরসাত্মক সংলাপই নাট্যকার দিয়েছেন তখন অতো অতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গী এড়ানো যেতো কি না? আবহের এতো প্রয়োজন ছিলো কি না? আলোর ব্যবহার দৃশ্য অনুযায়ী যতোটা, যদি ততোটাই চরিত্র অনুযায়ী করা যেতো তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই যে চরিত্রগুলো আলোর বাইরে চলে যাচ্ছিলো সেগুলো আলোর মধ্যে আনা যেতো না কি? তবে আলোর ব্যবহার এ নাটক গভীর ও ব্যঞ্জনাগর্ভ করেছে।এগুলো নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন তার জন্য নাটক উপস্থাপনার গুণ মান একটুও কমে না।

    পরিশেষে বলি যে সমস্ত অভিনেতা ও অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করলাম না তার মূল কারণ চরিত্রগুলোর সব ক'টির নাম আমি স্মরণ করতে পারিনি। কিন্তু সত্যিই বলতে কি প্রত্যেকের অভিনয়ই এ ধরনের নাটকের সম্পদ। যা শুধু আমাকে নয় উপস্থিত বেশিরভাগ দর্শককেই পরিতৃপ্তি দিয়েছে যা আমি হলে বসে এবং বাইরে এসে অনেকের সাথে আলোচনা করেও বুঝেছি। তবুও আলাদা করে বলতেই হবে সায়ন্তী(অহল্যা), ঊর্ণিশা ব্যানার্জী(জিনিয়া), শুভময় দে(রূপতনু) এবং ঘাবলা চরিত্রে মাতিয়ে রেখেছিলেন গৌরব মুখার্জী এবং রূপকথা চরিত্রে নন্দিনী রায়ও মুগ্ধ করেন। আমার মনেহয়েছে নাটকটি দেখে, অনেক নূয়ে পড়া কাঁধ শক্ত করে দিতে পারে।
     

    শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩

    কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের আয়োজনে "মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ"


    চিত্র - মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ

    গত ৯ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরে ১৬২ তম রবি জন্মবার্ষিকীতে ‘মনে প্রাণে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী স্বর্ণালী সন্ধ্যা উদযাপিত হলো রঙ্গশীর্ষের বাসভবনে। রঙ্গশীর্ষ একটি নাট্য সংস্থা। যা বিগত সাত বছর ধরে বাংলার শহর, শহরতলী, গ্রামাঞ্চল জুড়ে এবং গোটা ভারত জুড়ে একের পর এক ব্যতিক্রমী রোমাঞ্চকর নাটক দর্শকদের উপহার দিয়ে চলেছে। কেষ্টপুরের প্রফুল্লকানুনবাসীর একান্ত অনুরোধ ও রঙ্গশীর্ষের আন্তরিকতার মেলবন্ধনে যখন সন্ধ্যেবেলায় তাদের বাসভবনের সুসজ্জিত ছাদে আলোক ঝর্ণার মধ্যে দিয়ে একের পর এক নৃত্য, গান, আবৃত্তি তাৎক্ষণিক বক্তৃতায়  জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছিল তখন জোড়াসাঁকোয়ে রবি ঠাকুরের বাসভবনের ছাদের জলসাঘর অনুভূত হচ্ছিল।

    চিত্র - উদ্বোধনী সংগীত

    এই অঞ্চলের সমাজসেবী শম্পা চক্রবর্তী ও নাট্য ব্যক্তিত্ব বাদল কাঞ্জিলাল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন এলাকার ভদ্রমহিলারা। রঙ্গশীর্ষের আন্তরিক অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে শিল্প বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো রঙ্গশীর্ষের মঞ্চে এসে দুরুদুরু বুকে এমন একে একে তাদের শিল্প প্রদর্শন করেন। এদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন যারা দীর্ঘদিন মঞ্চে পা রাখেননি। কিছু শিল্পী ছিলেন যারা নিয়মিত মঞ্চে ওঠা নামা করেন। এই জন্য তাঁদেরকে বিশেষ সাধুবাদ জানাতেই হবে। সবশেষে আকর্ষণ ছিল রঙ্গশীর্ষের নাটক। চারটি রবীন্দ্র গল্পের কোলাজ নিয়ে ‘কোলাজে রবির গল্প’।নাট্যরুপ ও  নির্দেশনা পৃথা ভট্টাচার্য। অভিনয়ে - পৃথা ভট্টাচার্য, প্রীতি চৌধুরী, শুভশ্রী দত্ত, চিরঞ্জিত বারুই, সৌরভ আচার্য এবং মনোজিৎ মিত্র।অসাধারণ অভিনয় করে গেলেন সবাই। বিশে করে পৃথার অভিনয় অনেক দিন মনে থাকবে। উপস্থিত শিশু কিশোরেরা রবীন্দ্রনাথের গল্পের সাথে আরো একবার নতুনভাবে পরিচিত হলো। সান্ধ্য জলসায় সকলের জন্য জলখাবারের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০টিরও বেশী পারফর্মেন্স প্রদর্শিত হয়। এই রবি সন্ধ্যার সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলান কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নির্দেশক মনোজিৎ মিত্র এবং পৃথা ভট্টাচার্য। 

    "মনে প্রানে রবীন্দ্রনাথ" এ অংশগ্রহন করেন যথাক্রমে সৃস্টিকা ভট্টাচার্য, সৈরিন্দ্রী চক্রবর্তী, দিশারী দাস, অনুস্কা মুহুরী, অনুভা চক্রবর্তী, শ্রীদাত্রী সরকার, সোমা দাস, অনন্যা সরকার, অর্পিতা সরকার, সুমিতা ভট্টাচার্য, পূজা মুখার্জি, দেবী ব্যানার্জি, রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা ভট্টাচার্য, রাখি সরকার, লাকি চক্রবর্তী, কাকলি ব্যানার্জি, মৌ ভট্টাচার্য, তমঘ্ন দাস, নন্দিনী ব্যানার্জি, ঋদ্ধিমা চৌধুরী, সঞ্চারী সেনগুপ্ত, মেরী চক্রবর্তী, সুকমল ভট্টাচার্য, শ্রেয়সী চৌধুরী, দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, শুভশ্রী দত্ত, প্ৰীতি চৌধুরী, পৃথা ভট্টাচার্য, সৌরভ আচার্য, চিরঞ্জিত বড়াই, মনোজিৎ মিত্র ও আরো অনেকে...

     

    চিত্র - "কোলাজে রবির গল্প" নাটক থেকে 

    প্রচুর প্রচুর দর্শকের সমাগম ও তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রবি ঠাকুরের জন্মদিন উদযাপন ১৪৩০ এর ২৫ শে বৈশাখকে এক স্মরণীয় মুহূর্ত করে তুলেছে। সবমিলিয়ে পঁচিশে বৈশাখের এই সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য রঙ্গশীর্ষের প্রধান উদ্যোক্তা পৃথা ও মনোজিৎকে এবং দলের সকলকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। এইভাবে রঙ্গশীর্ষ আরও এগিয়ে চলুক। প্রতিবছর এমন সুন্দর অনুষ্ঠানের আশা নিয়ে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আপাতত শেষ হলো রঙ্গশীর্ষের রবীন্দ্র যাপন। চরৈবেতি চরৈবেতি…

    ----সুমিতা ভট্টাচার্য


    চিত্র - উপস্থিত দর্শকবৃন্দ 


    *****

    আপনাদের নাট্য সমালোচনা আমাদের E-mail করুন - rangatheatre2020@gmail.com 


    👉 সৌরভ আচার্য - 8981358700 👈

    👉 মনোজিৎ মিত্র - 9836664155 👈

    বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

    উত্তরণের পটভুমিতে "সহবাস" : শ্যামবাজার নাট্যকাব্য

     

    বিষয়ভাবনার দিক থেকে রমাপ্রসাদ বনিকের "সহবাস" নাটকটি নিঃসন্দেহে কিছু আলাদা মাত্রা দাবী করে। আর সেই নাটকটিই নাট্যকাব্য দ্বিতীয় বারের জন্যে মঞ্চস্থ করল রামগোপাল মঞ্চে । নাটকটি উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। নাটকের ঘটনা হল - মধু নামের এক গ্রাম্য যুবক একটি অপরিচিত মেয়েকে অচৈতন্য অবস্থায় তুলে এনে হাজির হয়েছে গ্রামের একটি হাসপাতালে। যে মেয়েটি আগেরদিন রাতে এক কামার্ত পুরুষের লালসার শিকার হয়েছে। যামিনীর জ্ঞান ফিরলে সে মধুর কথা জানে। কয়েকদিনের মধ্যে মধুর সাথে ভালো সম্পর্ক হয়। মধু যামিনী কে বিয়ে করতে চাইলে যামিনী রাজি হয়। বিয়ের পর অন্য জায়গায় এসে ঘর বাঁধে। কিন্তু সারাদিন যত ভালো সম্পর্কই হোক, মধু স্ত্রীকে কাছে টানতে পারেনা। মধু কিছুতেই বুঝতে পারেনা কেন যামিনী এমন করে ? মধুর ছোঁয়ায় তার মধ্যে ভয় আঁকড়ে ধরে। এর মধ্যে গোবিন্দ দারোগা তদন্ত গুটিয়ে আনে। বুঝতে পারে মধুই যামিনী কে সেই রাতে নেশার ঘোরে ধর্ষণ করেছিল। একটি মেয়ে তার কেউ নেই সে অন্ধ মধুই নিরাপদ এবং স্বামীও। ক্ষনিকের ভুলে যে অন্যায় মধু যামিনীর উপর করেছিল তার প্রায়শ্চিত্ত করতে যামিনীকে বিয়ে করেনি কি করেছে বোঝা না গেলেও সে যামিনীকে ভালোবাসে এটা সত্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যামিনী কি করবে?

    নাট্যকার এমনভাবেই বিভিন্ন সংলাপ এবং নাট্যমুহূর্ত তৈরি করেন যা দর্শককে শেষদৃশ্য পর্যন্ত নাটকটির সাথে জুড়ে থাকতে বাধ্য করে। পরিচালক শুভম চট্টোপাধ্যায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সাথে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। মধুর চরিত্রে সৌনক দে সাবলীল অভিনয় করেছেন। আন্তরিকভাবে পৌঁছোতে চেয়েছেন চরিত্রের অন্তরে। যামিনীর চরিত্রে ঋত্বিকা চৌধুরী’র
    অভিনয় চমৎকার। সংলাপ এবং অভিব্যক্তির অসাধারন মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন ঋত্বিকা। পরিণত অভিনয় করতে দেখা গেল গোবিন্দ দারোগার ভূমিকায় অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সুমিত রায়চৌধুরীর অভিনয়ে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে ডাক্তার চরিত্রটি। রোগীর ভূমিকায় অমৃতেন্দু যথাযথ। নৃত্যবিন্যাসে মুনমুন এবং প্রীতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। মঞ্চপ্রয়োগে তন্ময় কুণ্ডু প্রশংসার দাবী রাখে। কণ্ঠ সঙ্গীত এবং আবহে সাহেব সাহা ও শুভম নাটকটিতে আলদামাত্রা যোগ করেছে।

    আপনাদের নাট্য সমালোচনা আমাদের E-mail করুন - rangatheatre2020@gmail.com 


    *****

    👉 সৌরভ আচার্য - 8981358700 👈

    👉 মনোজিৎ মিত্র - 9836664155 👈