শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নিবেদিত "ডিটেকটিভ দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (DDLJ)"

     পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায় নির্মিত সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নিবেদিত "ডিটেকটিভ দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (DDLJ)" নাটকটি মূলত ডিটেকটিভ নাটক। এটি সমসাময়িক সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি এবং ক্লাসিক বলিউড রোমান্সের এক দারুণ রসাত্মক ফিউশন। নাট্ককার ও নির্দেশক মনোজিৎ মিত্র অত্যন্ত চটুল সংলাপে বর্তমান প্রজন্মের 'রিলস' ও 'ইনফ্লুয়েন্সার' সংস্কৃতির ভেতরের ফাঁপা গ্ল্যামারকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

নাটকের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কোটিপতির রূপসী কন্যা ও ড্রামাতিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিমরানের ১০ লাখ টাকার হিরের নেকলেস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই রহস্যের সমাধান করতে সহকারী পঙ্কজকে নিয়ে হাজির হন রোমান্টিক গোয়েন্দা ডিটেকটিভ বিক্রম, এবং তাদের প্রাথমিক সন্দেহ গিয়ে পড়ে সিমরানের চতুর ও রিলস-পাগল কাজের মেয়ে কাজলের ওপর। তদন্তের মাঝে বিক্রম হিন্দি সিনেমার কায়দায় সিমরানকে পটানোর চেষ্টা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি নিজে হিরো সেজে প্রপোজ করার জন্য ফুলদানির নিচে একটি নকল নেকলেস লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে আসল টুইস্টে সিমরান প্রকাশ করেন যে তিনি আয়নার প্রতিফলনে বিক্রমের এই কীর্তি আগেই দেখে ফেলেছিলেন এবং আসল অপরাধীকে হাতেনাতে ধরতে একটি লাইভ ভিডিও ট্র্যাপ পেতেছিলেন, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বিক্রমের সহকারী পঙ্কজই আসলে আন্তর্জাতিক চোর 'ব্ল্যাক ক্যাট' এবং সে কাজলের আইডিকে স্মাগলিংয়ের কোড নেম হিসেবে ব্যবহার করছিল। শেষ মুহূর্তে পঙ্কজ বোমার ভয় দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও বিক্রম ফিল্মি কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটকে দেন এবং অবশেষে চোর জুটির জেলের গরাদ কেন্দ্রিক অদ্ভুত প্রেম ও বিক্রম-সিমরানের মধুর মিলনের মধ্য দিয়ে নাটকের একটি হাসির সমাপ্তি ঘটে।

নাটকের মূল শক্তি চরিত্র নির্মাণ: কোটিপতির ড্রামাটিক কন্যা সিমরান, নিজেকে শার্লক হোমস ভাবা রোমান্টিক গোয়েন্দা বিক্রম, চুইংগাম চিবানো চতুর কাজের মেয়ে কাজল এবং বিস্কুটখোর পঙ্কজ—প্রতিটি চরিত্রই মঞ্চে নিজস্ব স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। বুদ্ধিদীপ্ত টুইস্ট: সাধারণ একটি নেকলেস চুরির গল্প যেভাবে একাধিক গোয়েন্দা চাল এবং শেষমেশ একটি আন্তর্জাতিক স্মাগলিং চক্রের (ব্ল্যাক ক্যাট) উন্মোচনে রূপ নেয়, তা দর্শকদের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে বাধ্য করে। অভিনয়ে পৃথা ভট্টাচার্য ও মনোজিৎ মিত্র তাঁদের মান বজায় রেখেছেন। ওনাদের থেকে দর্শক নতুন কিছু পেলেন বলে আমার মনে হয়। কারণ মূলত ওনারা দ্রুপদী অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন এতদিন। কমেডিতেও ওনারা সমান পারদর্শী তা প্রমাণিত। প্রীতি চৌধুরী ও চিরঞ্জিত বড়াই খুব ভাল ভাবেই নিজেরদের চরিত্র নির্মাণ করেছেন।

উপস্থাপনা শৈলী: লাইভ স্ট্রিমিং, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার্সের মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে নাটকের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। জিতেন দাসের আলোর ব্যবহার খুব সুন্দর। আবহে ছিলেন অরুণ মিত্র।

দুর্বলতা অতি-নাটকীয়তা: কিছু জায়গায় বলিউডের মেলোড্রামা ও সংলাপের ব্যবহার অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছানোর কারণে মূল রহস্যের গভীরতা কিছুটা হালকা মনে হতে পারে।



সারসংক্ষেপ: টানটান কমেডি টাইমিং এবং চেনা চরিত্রদের এক অদ্ভুত রসায়নের কারণে নাটকটি দর্শকদের ভরপুর বিনোদন দিতে পুরোপুরি সফল। আমাদের চাপে ভরা জীবনে একটি হালকা মেজাজের অথচ চটপটে আধুনিক নাটক হিসেবে এটি অবশ্যই দেখার মতো।