বুধবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৩

চিরাগ, দৃশ্যান্তন এর নতুন নাটক

 নিউ ব্যারাকপুর দৃশ্যান্তন ' এর নতুন নাটক ' চিরাগ ' সম্প্রতি মঞ্চস্থ হয়ে গেল। গত ১২ ই অক্টোবর ছিল এই নাটকের প্রথম রুদ্ধদ্বার অভিনয় , দমদমের " দেশমন " স্টুডিও তে। এই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয় গত ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৩ ' এ বোলপুর এর খাপছাড়া প্রাঙ্গণ-এ। পঞ্চবণ আর্ট রিসোর্টের উদ্যোগে এই নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। দর্শক সমাগম ছিল চোখে পরার মতো। চিরাগ নাটকের মূল বিষয় আরব্য রজনীর। সেই আলাদিন আর জিনির মোরকে একটি অনবদ্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। রূপকথা কে পাথেয় করেও বর্তমান দেশের রাজনীতির যে ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে তার জন্য দর্শক মহল থেকে নাট্যকারের প্রশংসা বারবার করা হয়েছে। এছাড়াও নাটকের ডিজাইন এবং অঙ্গবিন্যাস ছিল বেশ ভালো। এই নাটকে অভিনয় করেছেন প্রণয় বিশ্বাস, সঞ্জু আইচ, অভয় দাস এবং শৌভিক ঘোষ। 


প্রত্যেকের অভিনয়গুনেই নাটকটি পূর্ণতা পেয়েছে। চিরাগ নিঃসন্দেহে একটি টিমওয়ার্ক, সকলের সমবেত প্রয়াসে নাটকটি সকলের মনোগ্রাহী হয়ে উঠেছে। এই নাটকটি অবশ্যই খুব প্রাসঙ্গিক এবং নাটকটির যত বেশি মঞ্চায়ন হবে তত বেশি ধারালো হয়ে উঠবে। নাটকটির আবহ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রপস্‌ তৈরি করেছেন রাজশ্রী হাজরা। নাটকটির যাবতীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ করেছেন গোপাল ঘোষ। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন KG । অঙ্গবিন্যাস করেছেন প্রণয় বিশ্বাস। আবহ এবং আলোক নির্মাণে সহায়তা করেছেন যথাক্রমে ইন্দ্র ও অনিরুদ্ধ নন্দী। বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেছেন মোনালিসা দাস এবং দেবোপম দাস। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন শৌভিক ঘোষ। শৌভিক এর এই নাটক দেশের মানুষ কে ভাবতে শেখাবে। উসকে দেবে নিভে যাওয়া আগুনকে জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য, এমনটাই আশা করা যায়।







দিশারী বার্ণপুরের স্কুল নাট্য কর্মশালা


আগামী দিনে আসানসোল বার্ণপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক মান ও চেতনার উন্মেষ ঘটাতে দিশারী বার্ণপুর বিভিন্ন স্কুলে স্কুল-নাট্য কর্মশালা কর্মসুচী নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে। সুভাষপল্লী বিদ্যানিকেতন, শান্তিনগর বিদ্যামন্দির উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, শান্তিনগর বিদ্যামন্দির (উঃ মাঃ) এ সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী এই স্কুল-নাট্য কর্মশালা চলেছে। থিয়েটার সম্পর্কে সাধারন ধারনা, উচ্চারণ, দলবদ্ধ ভাবে কর্ম সম্পাদন, শারীরিক ব্যায়াম ইত্যাদি সুচী নিয়ে চলছে একের পর এক নাট্য কর্মশালা। স্কুলের অংশগ্রহণকারী ছাত্র ছাত্রী ছাড়াও শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবকদের মধ্যেও যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দিশারী বার্ণপুরের এই প্রয়াস। সকলে চাইছে শুধু একদিনের এই স্কুল ভিত্তিক কর্মসুচী করলে হবে না, চাই ধারাবাহিক ভাবে নাট্য কর্মশালা। দিশারীর সভাপতি তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, ও সম্পাদক সৌরীন শেঠ জানালেন – “দিশারীর হীরক জয়ন্তী বর্ষে আমরা বর্ষব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্ৰহন করেছি। দু'দিন ব্যপী অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব, পাঁচ দিনের বিংশতিতম নাট্যমেলা, শিল্পাঞ্চলের নাট্যকর্মীদের নিয়ে নাট্য-কর্মশালা, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুল ভিত্তিক নাট্য-কর্মশালা ইত্যাদি চলছে।
প্রতিটি স্কুলে নাট্য কর্মশালার শেষে অংশগ্ৰহনকারীদের শংসাপত্রে অভিনন্দিত করা হয়েছে।






সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩

বিভাবন আয়োজিত একক অভিনয় নাট্যোৎসব ২০২৩


বিভাবন এর অন্তরঙ্গ নাট্যচর্চা কেন্দ্র শুরু হয় ২০১৯ সালে, যার উদেশ্য ছিল অন্তরঙ্গ নাটক নিয়ে আলোচনা ,কর্মশালার করার যেখানে অন্তরঙ্গ নাটকের চর্চার সাথে যারা যুক্ত তাদের সাথে ভাবনার আদান প্রদান।বিভাবন এই রাজ্যে প্রথম নাট্যদল যারা অন্তরঙ্গ নাটক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রায় ২৭বছর,অন্তরঙ্গ নাটক নিয়ে তাদের গবেষণা ২০০২ সাল থেকে সুপ্রিয় সমাজদার এর মুক্ত নাট্য ভাবনা নিয়ে।আজকে এই রাজ্যে  অন্তরঙ্গ নাটকের প্রসারে বিভবন এর এই চর্চা উল্লেখযোগ্য।তারা নিয়মিতভাবে এই অন্তরঙ্গ নাটকের প্রসারে কাজ করে আসছে তাদের মুখপত্র প্রকাশ,নাট্য কর্মশালা, নাট্য উৎসবের উৎসবের মধ্য দিয়ে।তাদের আয়োজনে অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব ২১ বছর হয়ে গেছে,এছাড়া গত দুবছর তারা আয়োজন করেছে জাতীয় অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব।

 
এই দলটি যখন  একক অভিনয় নাট্যোৎসব করে তার সঙ্গে শুধু একটি উৎসব জড়িয়ে থাকে না।থাকে সামগ্রিক ভাবে এই চর্চার একটি দিক।অন্তরঙ্গ নাটক নিয়ে চর্চার দিক।জোড়াবাগান জায়গাটা থিয়েটার প্রেমীদের কাছে খুব পরিচিত জায়গা নয়।এখানে কিছু করা মানে ধরেই নেওয়া খুব পরিচিত মানুষ ছাড়া এই জায়গায় নাটক দেখতে আসবে না।যারা আসবেন জেনেই আসবেন,আর সেখানে এই থিয়েটারের সার্থকতা ।

 

খুব আন্তরিক আয়োজন ছিল এই উৎসবের ,গত ১লা ও ২রা অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একক অভিনয়ের উৎসব,যেখানে নাটকের সময়সীমা ছিল ১০-১৫ মিন।
এই উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন সঞ্জীব সেন,নির্দেশক চাকদহ গণমুখ ,উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি'র উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও নৈহাটি সেমন্তী নাট্য দলের নির্দেশক আলোক মিশ্র।

দুদিনের এই উৎসবে ছিল ১০ টি একক অভিনয়, নাটক "ভাইরাল" একক অভিনয় মেঘবালিকা ঘোষ, "হাল ছেড়ো  না  বন্ধু"-একক অভিনয় শঙ্খ দ্বীপ চক্রবর্তী,নাটক "বীরাঙ্গনার চিঠি"- একক অভিনয় - সায়ানী সর্বজ্ঞ নাটক "বিনি সুতোর মালা"একক অভিনয় পারমিতা দাস নাটক -"বিনীতার কথা" একক অভিনয় বিদিশা সেন নাটক "কয়েদি" একক অভিনয় সৌনক দত্ত নাটক "সমাজ ও আমি" একক অভিনয় শ্রেয়া ব্যানার্জি  নাটক "তামাকু সেবনের অপকারিতা" একক অভিনয় সৌমেন্দু বিশ্বাস নাটক "মহাভারতের আদিপর্ব" একক অভিনয় অঙ্কিত রায়, নাটক "একটি মেয়ের গল্প" একক অভিনয় রোদশী সরকার। বিভিন্ন বিষয়ের তারা অভিনয় করেন ভাল লাগে। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগ ছিলেন রবীন্দ্র ভারতী নাটক বিভাগের ছাত্র/ছাত্রীরা। বিভাবন এর এই অন্তরঙ্গ নাটকের চর্চায় একক অভিনয় নাট্য উৎসব আগামীতে নাটকের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয়কে, নাটককে ভালবাসতে উৎসাহিত করুক।শুভেচ্ছা রইল বিভাবন এর এই উদ্যোগকে।