মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কল্পনার দেশের রাজনীতিকে উলঙ্গ করে দিল রঙ্গশীর্ষের নাটক "নৈনং দহতি পাবকঃ"

 

কোলকাতা – গত ২৪শে আগস্ট ২০২৩ গিরিশ মঞ্চে উপস্থাপিত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায় নির্মিত সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ প্রযোজিত নাটক 'নৈনং দহতি পাবকঃ'-A Tribute to Raktakarabi। নাটকটি রচনা করেছেন বর্তমান নাট্য জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটককার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় এবং নির্দেশনায় মনোজিৎ মিত্র।

এক কাল্পনিক জগৎ এই নাটকে। হীরক রাজ আর ক্রেয়ন সঙ্গে জল্লাদ দেশের শাসক। সব নথি বিহীন মানুষ কে তারা যক্ষপুরী তে বন্দী করতে চায়। জগৎশেঠ দেশটাকে মঙ্গল গ্রহের রাজার কাছে বেচে দিতে চায়। এই দেশে প্রেম করতে গেলেও কার্ড লাগে। রক্ত করবীর নন্দিনী আসে যেন কোন নদীর গন্ধ নিয়ে। ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমার নীতা এখানে ইসাবেলা নামে নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ায়। বিখ্যাত ব্যাটম্যান ছবির জোকার আসে কালোবরণ নাম নিয়ে। এই কি সেই রঞ্জন না বিশু পাগল? রাজা ওয়দিপৌস নাটকের অন্ধ সর্বজ্ঞ তাইরেসিয়াস থাকে এক সেতুর নিচে ঝুপড়ি তে। নন্দিনী কে সে চেনে অ্যান্টিগোনে নামে। ভেসে আসে গ্রীক নাটকের চিন্হ। এক সিংহমানব এসে প্রশ্ন করে যার উত্তর না পেলে সে শেষ করে দেবে এই দেশ কে। বিচিত্র তার প্রশ্ন। রাজা বা শাসক উত্তর দিতে পারে না। উত্তর জানে নন্দিনী? কোনো গোপন বিদ্রোহী মানববোমা হয়ে তৈরি। এই এক বহু মাত্রিক অবয়বে এই নাটক গড়ে ওঠে। অন্তিম আসে আগুন নিয়ে। যে মানুষ সত্য জানে সে জ্বলে কিন্তু পুড়ে ছাই হয়ে যায় না। আত্মা কে পাবক দহনে অক্ষম।

বর্তমান রাজনীতির এক মহান ব্যর্থতাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নাটকে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজনীতিতে যখন দুর্নীতির কালো ছায়া প্রবেশ করে ; জনগণ যখন দিকভ্রষ্ট হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে তখন এই নাটক মানুষকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।

আলোকশৈলী – মনোজিৎ মিত্র ও শৌভিক মোদক। আলোক প্রক্ষেপণ – শৌভিক মোদক। আবহশৈলী – মনোজিৎ মিত্র ও দীপ্তেশ মুখার্জি। আবহ প্রক্ষেপণ – শিলাদিত্য বড়াল। মঞ্চ ভাবনা ও সঙ্গীত – অনির্বাণ সরকার। মঞ্চ উপকরণ – কৃষ্ণা ভট্টাচার্য ও ঈশান কর্মকার। রূপসজ্জা - পৃথা ভট্টাচার্য ও অনির্বাণ সরকার। পোশাক ভাবনা – পৃথা ভট্টাচার্য। নৃত্যশৈলী – কাজল হাজরা ও পৃথা ভট্টাচার্য। নামাঙ্কন – বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। অভিনয়ে ছিলেন সহজিয়া, স্বাগতা সেন, পৃথা ভট্টাচার্য, রেশমা দাস, অনন্যা দাস, ঈশান কর্মকার, অনির্বাণ সরকার, সুব্রত মুখার্জি, সুদীপ্ত দাস, রৌণক চৌধুরী, রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য, দেবরূপ সেনগুপ্ত ও মনোজিৎ মিত্র। নাটকের ডিজাইন এবং প্রত্যেক কলাকুশলীর অভিনয় ছিল মনোমুগ্ধকর। প্রত্যেকে যথাযত ভাবে তাদের অভিনয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নাটকটিতে আবহ ছিল অসম্ভব সুন্দর। প্রত্যেকটা দৃশ্যে আলো ও আবহবিন্যাস নাটকটিকে একটি অন্য মাত্রা দিয়েছে। মঞ্চসজ্জা ছিল সাধারণের মধ্যে অসাধারণ। সবশেষে বলবো কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ এর এই প্রযোজনাটি সকলে দেখুন এবং বর্তমান রাজনীতির উলঙ্গ দিকটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে সেটা কল্পনা জগতের নাটক হলেও বাস্তবের রূপকেই বর্ণনা করে । আশা রাখি, আমার মতো আপনারাও বিনোদন পাবেন।





বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার উদ্যোগে পালিত হল রাখি বন্ধন উৎসব

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা থিয়েটার তথা সামাজিক ক্ষেত্রে এক অন্যন্য নাম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকা এবং এলাকার বাইরে কাজ করে যাচ্ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক। গত ৩০ শে আগস্ট ২০২৩ রাখী বন্ধনের দিন এ তার ব্যতিক্রম হয় নি। রাখী বন্ধন মানেই এক সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন। উভয়ের প্রতি উভয়ের বন্ধন। এই সকাল সকাল কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা কিছু সদস্য পৌঁচ্ছে যায় নৈহাটি রেড লাইট এরিয়ায় সেখানকার বাচ্চাদের সঙ্গে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করতে। 


দীর্ঘদিন ধরে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার কর্ণধার নৈহাটি রেড লাইট এরিয়ার থিয়েটার ক্লাস করাচ্ছেন সমাজের মূল স্রোতে তাদের গতি বাড়ানোর জন্য। সেখানে ছোট ছোট শিশু সঙ্গীত,নৃত্য এবং আবৃত্তি করে রাখী বন্ধনের উৎসবে মেতে ওঠে। প্রত্যেকে প্রত্যেকে রাখীর পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে সঙ্গে মিষ্টি লজেন্স সহকারে মিষ্টি মুখ করে। সকালের যাপন এভাবেই কাটে এবং বিকালে মাদরাল কাটাবটতলা মোড়ে সকল পথচারী ছোট বড় সকলের  এবং দোকানদারদের সঙ্গে মিষ্টিমুখ করে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করে । এবং এলাকার প্রাক্তন শিক্ষিকা লীনা পাঠকের বাড়িতে গিয়ে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার সকলে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করে। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার কর্ণধার রাজা দে জানান - "রাখী বন্ধন সকলের জন্য এক পবিত্র ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। উভয় উভয়কে এই বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে।।"


সোদপুর ক্যানভাস থিয়েটারের নবতম প্রযোজনা "মন চুরি"

জন্ম থেকে মৃত্যু এক অবিরাম পথচলা। যে পথচলার মধ্যেই তৈরি হয় প্রেম, ভালোবাসা নানান সম্পর্ক। সময় জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলে তার নির্দিষ্ট ছন্দে, যে ছন্দের মধ্যেই মানুষের বয়স বাড়তে থাকে। অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধের ঘেরাটোপে সেই তৈরি হওয়া সম্পর্কগুলো নতুন রূপ পায়। তৈরি হয় নাটকীয় ঘাত প্রতিঘাত। সাহিত্য সংগীত বা নাটক জীবনের এই ওঠাপড়ার কাহিনী থেকেই খুঁজে নেয় নিজেদের রসদ। যে কাহিনীর পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকে অনুভূতি, যে কাহিনী মঞ্চস্থ হয় মঞ্চে, যেখানে আবহ মঞ্চসজ্জা, আলো - সবকিছুই ঘটনার বাস্তবকে আরও স্পষ্টভাবে, জীবন্তভাবে চোখের সামনে তুলে ধরে। ক্যানভাস থিয়েটারের এই প্রযোজনা "মন চুরি"। 

আলোয়, গানে, অভিনয়ের নিপুণতায় মিষ্টি বন্ধুত্বের গল্প বলে যায়। নাটকের শুরুতেই একদিকে অঞ্জন দত্তের গলায় 'আমি বৃষ্টি দেখেছি' আর অন্যদিকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির রাত কেমন একটা আমেজ তৈরি করে দেয়। আর এই বৃষ্টির রাতেই নাটকের এক চরিত্র অনিরুদ্ধ, যে কিনা পেশায় চোর, ঢুকে পড়ে আরেক চরিত্র বিক্রমের বাড়িতে। বাড়ি বলতে কলকাতার বাড়ি, কারণ বিক্রম আদতে প্রবাসী বাঙালি, Florida র art college এ পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের রুটিনমাফিক বিক্রম এইদিনও বাড়িতে ফোন করে খবর নিতে; আর অন্ধকার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে আচমকা ফোনের আওয়াজে ঘাবড়ে গিয়ে ফোন তুলে ফেলে অনিরুদ্ধ। এই প্রথম আপাতভাবে অপরিচিত নাটকের এই দুই চরিত্রের আলাপ হয়। ফোনালাপ যত এগোতে থাকে তত দর্শকের সামনে উঠে আসে তাদের ব্যক্তিগত জীবন, ওঠাপড়া, প্রেম, ভালোলাগা। আলোর কারিকুরিতে মঞ্চের দুইপ্রান্তে যেন দুই গোলার্ধ তৈরি হয় - একদিকে Florida আর অন্যদিকে কলকাতা। আর এই দুই গোলার্ধে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি চরিত্র গোটা নাটক জুড়ে যেন ধীরে ধীরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। এই দুই চরিত্র ছাড়াও নাটকের আরেক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল ইতু। কিন্তু এই ইতুর উপস্থিতি নাটকে কীভাবে ঘটে আর কীভাবেই বা ইতুর হাত ধরে অনিরুদ্ধ আর বিক্রমের জীবনের সমীকরণ এক এক করে মিলে যায় সেটা জানতে হলে ক্যানভাসের এই প্রযোজনা হলে গিয়ে একবার চাক্ষুষ করতেই হয়। 

অনিরুদ্ধের চরিত্রে মৃগাঙ্ক এবং বিক্রমের চরিত্রে সৌভিকের অভিনয় তাদের দক্ষতার যথেষ্ট প্রমাণ দেয়। পাশাপাশি live music র ব্যবহার প্রযোজনাটিতে অন্য মাত্রা যোগ করে - সৌগতার গান আর সাথে রাজদীপের গিটার নাটক জুড়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। আলো প্রক্ষেপনে বিক্রমজিৎ আর আবহ প্রক্ষেপণে সৌমিক ও নিজেদের ভূমিকায় যথাযথ‌। আর সবশেষে আলোয়-গানে-মজায়-ভালোবাসায় ভরা এই একঘন্টার 'full entertainment package' যা কিনা OTT, Web Content এর যুগেও তরুণ প্রজন্মকে সফলভাবে হলমুখী করে তোলার ক্ষমতা রাখে - তা নিমার্ণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেই হয় নির্দেশক প্রিয়ম বোসকে। সবমিলিয়ে একঘেয়েমির জীবনে হঠাৎ একটু মন ভালো করে দিতে ক্যানভাস থিয়েটারের 'মনচুরি' র কিন্তু জুড়ি মেলা ভার।


নাটকে নতুন দর্শক তৈরীর স্বার্থে ড্রাফারস্ ফেস্টিভাল

 

নাটকের নতুন দর্শক তৈরীর স্বার্থে ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের এক অভিনব প্রচেষ্টা 'ড্রাফারস্ ফেস্টিভাল '। প্রতি তিন মাস অন্তর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে দর্শক তৈরীর স্বার্থে এবার তারা বেছে নিয়েছিল সোদপুর দেশবন্ধু স্কুল (বয়েস্) অন্তর কক্ষকে। 

 

গত ৩রা, ৯ই এবং ১০ই সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী তাদের এই নাট্য উৎসবে অংশগ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা হতে মোট ১২টি নাট্যদল। যেখানে প্রাধান্য পায় কলকাতা মঞ্চের আলোর নিচে থাকা নাট্যদল গুলি ব্যতীত প্রত্যন্ত সুন্দরবন, কাকদ্বীপ, কল্যাণীর নাট্য দলগুলি। বর্তমান অর্থ বর্ষের প্রথম পর্যায় তারা অনুষ্ঠিত করেছিল অশোকনগর অমল আলো মঞ্চে এবং সেখানেও একই উদ্দেশ্য নিয়ে তারা নিজেদেরকে মেলে ধরে। 

ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের এই অভিনব উদ্যোগ শুরু করেন তারা গত অর্থবর্ষে, যা 'প্রতি মাসে নাট্যসন্ধ্যা' নামে পরিচিত । প্রতিমাসে ৩টি করে নাট্য দল নিয়ে উদযাপিত হয়েছিল তাদের পথ চলা খড়দহের একটি সভাকক্ষে। এবছর তারা প্রতি তিন মাস অন্তর তিন দিনব্যাপী নাট্য উৎসবের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামী দিনে তাদের এই প্রকল্পকে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি শুরু করেছেন এই মর্মে জানান। সরকারি সাহায্য ব্যতীত শুধুমাত্র দলের সদস্যদের ইচ্ছাশক্তি ও কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর আর্থিক সহযোগিতায় তাদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।



মিনার্ভা থিয়েটারে মঞ্চস্থ হল বাকসা ব্রাত্য নাট্যজনের দুটি নাটক

প্রথম নাটক তাদের শিশু কিশোর সদস্য দ্বারা অভিনীত "যখনকার যা" ।  একটা অদ্ভুত আওয়াজ যার কারণ অনুসন্ধান না করেই একদল গ্রামবাসী গুজব ছড়াতে শুরু করে - সবাইকে সতর্ক করতে মোড়লের পরামর্শে বাজাতে থাকে থালা বাটি । সেই আওয়াজে বিরক্ত হয়ে তাদের সাবধান করতে পাশের গ্রামের লোক পাল্টা ঢাকঢোল বাজাতে থাকে । বাজনা শুনে আরেকটা গ্রাম ভাবে ওরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাই তারা পাথর ছুঁড়তে শুরু করে দুদিকের গ্রামে আর তাতে আহত হন পণ্ডিত মশাই । সেই বিজ্ঞ মানুষের পরামর্শে আসল সত্য প্রকাশ পায় ।

প্রায় ১৫/১৬ জন কচিকাঁচা নিয়ে একটা প্রযোজনা তৈরী করে তাকে মঞ্চায়িত করার জন্য ধন্যবাদ । সবাই এই প্রথম মঞ্চে অভিনয় করলো । তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রমকে সাধুবাদ । মুখোশ এবং পোশাকের  ব্যবহার খুব সুন্দর । নিরাভরণ মঞ্চে নিজেরাই পরিবেশ তৈরী করেছে, নেচেছে, গান করেছে । পরিচালক সুজিত বোস তাদের নিয়ে যে কাজ শুরু করেছেন আগামীদিনে তার সুফল নিশ্চয়ই লাভ করবেন ।

অভিনয় করেছে শঙ্খদীপ শ্রীপর্ণা তিথি রৌনক বিস্মা অঙ্কুশ তৃষা চৈতালী সায়ন রিজু পাম্মি বর্ষা অপূর্বা পূর্বাশা সোনালী ।
দ্বিতীয় নাটক রমানাথ রায়ের একটি ছোট গল্প থেকে পরিচালক সুজিত বোস এর নাট্যরূপ "অপার মানবিক" । সদ্য স্নাতক টুম্পা পড়াশোনায় ইতি টেনে বিয়ে করতে ইচ্ছুক তার বাংলার শিক্ষক নিখিলস্যারকে যিনি আবার এই প্রেম সম্বন্ধে কিছুই জানেন না । আবার টুম্পার বাবা-মাও বুঝতে পারছেনা যে স্যার এই বিয়েতে রাজি হবেন কিনা । তাই তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন টুম্পাকে আটকাতে । কিন্তু সে অনড় - সে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয় স্যারের বাড়ি এবং যথারীতি নিখিলস্যার প্রত্যাখ্যান করেন । অভিমানী টুম্পা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানায় নিখিলস্যারের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্যে - - - 
বাকি গল্প উহ্য থাক ।

একটা ছোট ঘটনাকে হাসির মোড়কে যে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাওয়া হয় তা সুনিপুণ কৌশলে করে দেখালেন বাকসা ব্রাত্য নাট্যজন এর কলাকুশলীরা । নাচ গান পোশাক এবং ফ্লেক্স দিয়ে মঞ্চসজ্জার ভাবনা নাটকটিকে এক উচ্চতর প্রযোজনায় নিয়ে যায় । কথক হিসেবে আনা হয়েছে দুজন জোকারকে যারা সমস্ত নাটক জুড়ে মজার ভঙ্গিতে কথকতার কাজ করেছেন । 

ভালো লাগে মারীচ সংবাদ নাটকের দুটি গানের (ইউটিউব থেকে বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর গাওয়া) ব্যবহার । সব মিলিয়ে এক নিটোল পরিবেশনা । অভিনয় করেছেন সুজান বোস মানু বোস বিভাস ব্যানার্জি প্রত্যুষা গাঙ্গুলি প্রণয় পাল এরিনা ভৌমিক পুলক পালিত কবীর দাস রণজয় রায় নিবারণ ঘাঁটি শ্রেয়া সাঁতরা সঞ্চিতা সাঁতরা । শব্দ প্রক্ষেপণ সৈকত মালিক ।


বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

পাঞ্চজন্যের নবতম প্রযোজনা "যদি গল্প হতো’

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৭ শে মার্চ , বিশ্ব নাট্য দিবসে , বিশ্বের সব নাট্যমোদী মাানুষ নাটকের মধ্যে দিয়ে দিনটাকে উদযাপন করেন । স্বপ্নিল দমদম আড়িয়াদহে ঐ দিন এক নাট্যসন্ধ্যার আয়োজন করেছিলেন । উক্ত নাট্যসন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের সৌভাগ্য হয়েছিল একটি ভালোলাগা নাট্যের পুনঃদর্শনের । 

পাঞ্চজন্য দলের নাটক ‘যদি গল্প হতো’ প্রথম দেখেছিলাম মুক্তাঙ্গন মঞ্চে গত ১লা জানুয়ারী , ২০২৩ । সেটা ছিল এই নাটকের প্রথম প্রদর্শন । সেদিনের ভালোলাগা এদিনও পেলাম ।নিজ জীবনে অতৃপ্ত, ভীরু, সমাজ সচেতন লেখক যখন তাঁর নিজসৃষ্ট চরিত্রগুলোর সাথে একাত্মতা অনুভব করেন তখন সমাজের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অজান্তেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং তাঁর সে ধর্মযুদ্ধে দর্শককুলকে অজান্তেই সামিল করে নেন । এমনই লেখক প্রবাল রায় সমাজের জন্য বিপজ্জনক ভাড়াটে খুনী অর্ককে নিজ হাতে শাস্তি দেন । সাথে সাথে উচ্চাকাঙ্খী , অন্যায়ের পথে পা বাড়ানো তাঁর স্ত্রী তনিমাকেও ক্ষমা করেন না । কারন “ক্ষমা করে আমরা আর একটা অন্যায় করি”।


এ নাটকের পরতে পরতে সাসপেন্স । নাটক, নির্দেশনা ও লেখকের চরিত্রে রুদ্র রায় অনবদ্য । তনিমার চরিত্রাভিনেত্রী প্রিয়াংকা নস্কর বেশ ভালো । অন্যান্য চরিত্রগুলোর অভিনেতারা যথাযথ । তবে অর্কের চরিত্রাভিনেতা আশিষ গিরিকে আরো সচল হতে হবে মঞ্চে । কল্যান ঘোষ এর আলো তার জাত চিনিয়ে দেয় । এতো ছিমছাম সেট এই নাটকের সম্পদ । তবে আবহ নিয়ে ভাবতে হবে । এ  নাটক অভিনয় ও বিষয় বস্তুর জোরে দর্শকের চিত্ত জয় করবেই ।


পাঞ্চজন্য প্রযোজিত নাটক ‘অপত্য’

নিজস্ব সংবাদদাতা : গত ১৪ ই নভেম্বর, ২০২২ বেহালা সবুজ সংঘের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের অঙ্গ হিসাবে ছিল ‘পাঞ্চজন্য’ প্রযোজিত নাটক ‘অপত্য’ । অভিযোজনা ও আবহ : রাজেন্দ্র প্রসাদ মজুমদার । নাটক ও নির্দেশনা : রুদ্র রায় ।যদিও এ নাট্য ট্রাজেডির তথাকথিত সব শর্ত পূরণ করে নি তবু শেষে দর্শক ক্যাথারসিসে পৌঁছে যান অনায়াসে । এর মুন্সিয়ানা যৌথভাবে প্রাপ্য নাটকের টেক্সট, কলাকুশলী ও নির্দেশনার । যোগ্য সংগত দিয়েছে আবহ । সেট এর আয়োজন নির্ভার, তবে আরো ভালো ব্যবহৃত হতে পারতো ।  আলো নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে । 

অরো নামে বাচ্চাটার বিরল রোগের শিকার হওয়া, সেই সুত্রে পরিবারের দৃশ্য-অদৃশ্য সম্পর্কের সুতোগুলোর নতুন বুনন, চরিত্রগুলোর বিভিন্ন মাত্রার উন্মোচন, আপাত দ্বন্ধহীনতার মাঝে নিশব্দে গল্পের ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে যাওয়া এবং অরোর রোগের কাছে হেরে গিয়ে ও জিতে যাবার নাটক ‘অপত্য’ । টিম ওয়ার্ক এই নাটকের সম্পদ । তবুও যাদের কথা উল্লেখের দাবি রাখে – অরোর চরিত্রে  স্নেহ ভট্টাচার্য , অরোর মায়ের চরিত্রে প্রিয়াংকা নস্কর , দিদাা – পম্পা দাস । যথাযথ অভিনয় করেছন  গোপাল দাস , সত্যজিৎ মুখার্জী ও অনুপ মন্ডল ।


দৃশ্যান্তরগুলো কিছু কিছু জায়গায় আরো স্পষ্ট করা যেত , তবে সামগ্রিকভাবে এ নাট্য দর্শককে আনন্দ দেবেই । তাই পাঞ্চজন্য এই নাট্যের অনেকগুলো শো ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে । এ নাট্য দর্শকের দেখা প্রয়োজন , কারন নিবিড় সম্পর্কগুলো ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে আজকের সমাজে ।