কোলকাতা
– গত ২৪শে আগস্ট ২০২৩ গিরিশ মঞ্চে উপস্থাপিত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন পশ্চিমবঙ্গ
নাট্য আকাদেমির সহায়তায় নির্মিত সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ প্রযোজিত নাটক 'নৈনং দহতি
পাবকঃ'-A Tribute to Raktakarabi। নাটকটি রচনা করেছেন বর্তমান নাট্য জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ
নাটককার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় এবং নির্দেশনায় মনোজিৎ মিত্র।
এক কাল্পনিক
জগৎ এই নাটকে। হীরক রাজ আর ক্রেয়ন সঙ্গে জল্লাদ দেশের শাসক। সব নথি বিহীন মানুষ কে
তারা যক্ষপুরী তে বন্দী করতে চায়। জগৎশেঠ দেশটাকে মঙ্গল গ্রহের রাজার কাছে বেচে দিতে
চায়। এই দেশে প্রেম করতে গেলেও কার্ড লাগে। রক্ত করবীর নন্দিনী আসে যেন কোন নদীর গন্ধ
নিয়ে। ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমার নীতা এখানে ইসাবেলা নামে
নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ায়। বিখ্যাত ব্যাটম্যান ছবির জোকার আসে কালোবরণ নাম নিয়ে। এই
কি সেই রঞ্জন না বিশু পাগল? রাজা ওয়দিপৌস নাটকের অন্ধ সর্বজ্ঞ তাইরেসিয়াস থাকে এক
সেতুর নিচে ঝুপড়ি তে। নন্দিনী কে সে চেনে অ্যান্টিগোনে নামে। ভেসে আসে গ্রীক নাটকের
চিন্হ। এক সিংহমানব এসে প্রশ্ন করে যার উত্তর না পেলে সে শেষ করে দেবে এই দেশ কে। বিচিত্র
তার প্রশ্ন। রাজা বা শাসক উত্তর দিতে পারে না। উত্তর জানে নন্দিনী? কোনো গোপন বিদ্রোহী
মানববোমা হয়ে তৈরি। এই এক বহু মাত্রিক অবয়বে এই নাটক গড়ে ওঠে। অন্তিম আসে আগুন নিয়ে।
যে মানুষ সত্য জানে সে জ্বলে কিন্তু পুড়ে ছাই হয়ে যায় না। আত্মা কে পাবক দহনে অক্ষম।
বর্তমান
রাজনীতির এক মহান ব্যর্থতাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নাটকে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজনীতিতে
যখন দুর্নীতির কালো ছায়া প্রবেশ করে ; জনগণ যখন দিকভ্রষ্ট হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে
পড়ে তখন এই নাটক মানুষকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
আলোকশৈলী
– মনোজিৎ মিত্র ও শৌভিক মোদক। আলোক প্রক্ষেপণ – শৌভিক মোদক। আবহশৈলী – মনোজিৎ মিত্র
ও দীপ্তেশ মুখার্জি। আবহ প্রক্ষেপণ – শিলাদিত্য বড়াল। মঞ্চ ভাবনা ও সঙ্গীত – অনির্বাণ
সরকার। মঞ্চ উপকরণ – কৃষ্ণা ভট্টাচার্য ও ঈশান কর্মকার। রূপসজ্জা - পৃথা ভট্টাচার্য
ও অনির্বাণ সরকার। পোশাক ভাবনা – পৃথা ভট্টাচার্য। নৃত্যশৈলী – কাজল হাজরা ও পৃথা ভট্টাচার্য।
নামাঙ্কন – বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। অভিনয়ে ছিলেন সহজিয়া, স্বাগতা সেন, পৃথা ভট্টাচার্য,
রেশমা দাস, অনন্যা দাস, ঈশান কর্মকার, অনির্বাণ সরকার, সুব্রত মুখার্জি, সুদীপ্ত দাস,
রৌণক চৌধুরী, রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য, দেবরূপ সেনগুপ্ত ও মনোজিৎ মিত্র। নাটকের ডিজাইন
এবং প্রত্যেক কলাকুশলীর অভিনয় ছিল মনোমুগ্ধকর। প্রত্যেকে যথাযত ভাবে তাদের অভিনয়
ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নাটকটিতে আবহ ছিল অসম্ভব সুন্দর। প্রত্যেকটা দৃশ্যে আলো
ও আবহবিন্যাস নাটকটিকে একটি অন্য মাত্রা দিয়েছে। মঞ্চসজ্জা ছিল সাধারণের মধ্যে অসাধারণ।
সবশেষে বলবো কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ এর এই প্রযোজনাটি সকলে দেখুন এবং বর্তমান রাজনীতির উলঙ্গ
দিকটি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে সেটা কল্পনা জগতের নাটক হলেও বাস্তবের রূপকেই বর্ণনা
করে । আশা রাখি, আমার মতো আপনারাও বিনোদন পাবেন।







