বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫

"চরণে প্রণামে ভানু" - আয়োজনে সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ

 


    গত ৯ই মে শুক্রবার রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন "কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ" প্রতিবছরের ন্যায় এই অনুষ্ঠানটির একটি নাম দেওয়া হয়। এইবারের নামটি হল "চরণে প্রণামে ভানু"... এবং গত কিছু বছরের মতোই একটি থিমের ওপর এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয় এইবার ছিল নীল-সাদা.... যেহেতু রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন সবুজের মতন নীল ও প্রকৃতির মধ্যে পড়ে যেমন নীল আকাশ সাথে ভেসে বেড়ায় সাদা তুলোর মতন মেঘ ঠিক তেমনই ভাবনার মধ্য দিয়ে এই কবি প্রণামের আয়োজন করা হয়।

             প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়.. এরপর নাচ, গান , আবৃত্তি, নাটক শ্রুতি নাটক ও কবিতা কোলাজ এর মধ্য দিয়ে "রঙ্গশীর্ষ" অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করেন...
 সকলের সাথে খোলা আকাশের নিচে এই রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটি এক অন্য মাত্রা নিয়েছিল।
          আমরা বাঙালিরা চেষ্টা করি ঠাকুর পরিবারে সেই সময় যেরকম আসর জমতো বিশিষ্টদের সমাগম... ঠিক সেই রকমই পরম্পরা "কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ" বজায় রেখে চলেছে এবং ঠিক প্রতি বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব একইভাবে তারা উদযাপন করেন। 
         সবশেষে বলি তাদের এই রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটি প্রতিবছরের মতন আগামী বছরগুলোতে ও সাফল্যমন্ডিত হোক এই কামনা করি। 
           
            "সেদিন আমার জন্মদিন 
             প্রভাতের প্রণাম লইয়া
         উদয় দিগন্ত পানে মেলিলাম আঁখি , 
           দেখিলাম সদ্যস্নাত ঊষা 
          আঁকি দিল আলোকচন্দন লেখা
          হিমাদ্রির হিমশুভ্র পেলব ললাটে"

নাচ- পৃথা ভট্টাচার্য সৃষ্টিকা ভট্টাচার্য সৈরিন্দ্রী চক্রবর্তী অনন্যা সরকার অনুভা চক্রবর্তী অর্পিতা সরকার শ্রীধাত্রী সরকার অনুষ্কা খাটিক বিদিশা ভঞ্জ সমৃদ্ধি মুখার্জি ইন্দ্রাক্সী দে সোনালী দে প্রীতি চৌধুরী প্রিশা ঘোষ জিতিকা সসিং দ্রীসানী চৌধুরী প্রত্যাশা দাস

উদ্বোধন- শম্পা চক্রবর্তী ও কচিকাচারা 

গান- সুমিতা ভট্টাচার্য কৃষ্ণা ভট্টাচার্য রাখি সরকার লাকি চক্রবর্তী স্বপ্না চক্রবর্তী অমলেশ চৌধুরী রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য তমগ্ন দাস চন্দন দাস

আবৃত্তি- কৌশালি সেন পূজা মুখার্জী সুমিতা ভট্টাচার্য

এছাড়া রঙ্গশীর্ষ-এর নতুন একটি নাটক 'রোগের চিকিৎসা' উপস্থাপন করা হয়। অভিনয় ছিলেন চিরঞ্জিত বারুই রত্নদ্বীপ ভট্টাচার্য পৃথা ভট্টাচার্য প্রীতি চৌধুরী মনোজিৎ মিত্র।

  তাদের এই রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটি প্রতিবছরের মতন আগামী বছরগুলোতে ও সাফল্যমন্ডিত হোক এই কামনা করি। মোবাইল টিভি থেকে বেরিয়ে মানুষজন এইভাবেই নিজেদের শিল্প-সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরুক ও রঙ্গশীর্ষ-এর এই প্রচেষ্টা যুগ যুগ ধরে চলুক।



রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন ২০২৫

 


    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের সকল কর্মে, মননে, এই বিষয়কে মাথায় রেখেই  কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা পালন করলো রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন ২০২৫ রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাঙ্গণে গত ১৭ই মে ২০২৫। সহযোগিতায় 'থিয়েটার মগজ পত্রিকা'। দলের সদস্য ও বন্ধুজন সুস্মিতার তুলির টানে সেজে ওঠে মঞ্চ। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সকলে গুরুদেবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুভ সূচনা করা হয় অনুষ্ঠানের । উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠন। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের সকল সদস্য ও অন্যান্যরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য জ্ঞাপন করে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দলের সদস্যা জয়ন্তীর উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে শুভ সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। নৈহাটি উৎসুকের গানের ডালি দিয়ে অনুষ্ঠানের সুর বাঁধা শুরু হয়।  কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা পরিবেশন করে সুদীপা বর্মন রায় রচিত শ্রুতি নাট্য ❝অন্য রবীন্দ্রনাথ❞,  রাজা দে'র সামগ্রিক ভাবনা ও পরিকল্পনায়।  উপস্থিত ছিল নৈহাটি কিরণ নৃত্যাঙ্গন সংস্থা তারা সকলকে ছন্দ- তালে মাতিয়ে রাখে, এছাড়াও খুদে সকলের মনমুগ্ধ  করা পারফরম্যান্স। ছোট্ট গোবিন্দ, বিহু, নীলুর ছড়া, সঙ্গে ব্রজগোপাল কর্মকারের সঙ্গতে দীপক আচার্য্যের কন্ঠের রবীন্দ্র সংগীত সকলকে বেঁধে রাখে। এলাকার বহুমানুষ পারফরম্যান্স করে, মিষ্টির নাচ শেষ পাতে আসলে মিষ্টির কাজই করে। একদম শেষে স্বস্তি নাট্য শিল্পম নাট্য সংস্থা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ❝বিনি পয়সার ভোজ❞ নাটকটি পরিবেশন করে। দর্শক হাসিতে ফেটে পড়েন। সামাগ্রিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুলতা সরকার দিদি। প্রচুর দর্শক আসেন এবং ভীড় জমিয়ে অনুষ্ঠান দেখেন।  এলাকার ছোট্ট শিশুরা খুবই সরলভাবে তাদের ভালোবাসা জানায় বিশ্বকবির উদ্দেশ্যে। তাইতো ইতি হয়েও হয় না ইতি, এইতো মোদের পরিচিতি। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝এলাকার মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিধি বৃদ্ধি করা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা তারই বহিঃপ্রকাশ এই রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মাঝে বৃষ্টি আসাতেও দর্শকের অভাব ঘটেনি,  আমাদের এটাই প্রাপ্তি।❞

কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ-এর নতুন ছোটদের নাটক 'অপরাজিতার আখ্যান'

 


            কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ-এর নতুন ছোটদের নাটক 'অপরাজিতার আখ্যান'।


    গত ৮ই জুন 2025 রবিবার নাগের বাজার থিয়েঅ‍্যাপেক্সে প্রদর্শিত হয়েছে  "অপরাজিতার আখ‍্যান"। পশ্চিমবঙ্গর সরকারের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত "কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ" র প্রযোজনায় সাম্প্রতিক সমস‍্যাকে জীবন্ত করে তুলে ধরেছেন মনোজিৎ মিত্র। নাটককার গোপাল চক্রবর্তী এবং স্নিগ্ধা সেন। সহযোগী পরিচালনায় পৃথা ভট্টাচার্য। আবহ প্রয়োগে ছিল চিরঞ্জিত বাড়াই।

    বৃদ্ধ পিতা মাতা যখন অতি আধুনিক সংসারে বোঝা হয়ে দাঁড়ায় -- তখন পরিবারের খুদে শিশুটির মানসিক কষ্টের দিক দেখানো হয়েছে। অতটুকু মেয়েরা সাবলীল অভিনয় করে ফুটিয়ে তুলেছে -- সব থেকে বড় কথা ওরা বিষয়টি উপলব্ধি করেছে -- তাই অভিনয়কে বাস্তব করে তুলতে পেরেছে -- গল্পটিতে বার্তা আছে মেয়েদের স্বাবলম্বী হয়ে নিজস্ব একটি ঠিকানা গড়ে তোলার। দিনে দিনে চারিদিকে এত বৃদ্ধাশ্রম গড়ে ওঠার পিছনে যে কাহিনী যা কিনা সমাজকে দিনে দিনে ভঙ্গুর করে চলেছে এবং যার রেশ সমাজের প্রতিটা শিশুর ওপর কিভাবে পড়ছে সেই গল্পকে এই নাটকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অপরাজিতার ঠাকুমার চরিত্রে সুপ্রিয়া দাসের অভিনয় -- আমাকে নাড়া দিয়েছে। এছাড়া অপরিজিতার চরিত্রে দিয়া ভ‍ৌমিক সহ সঞ্চিতা বাইন,সঞ্চিতা বাগদী, ঝুমা বাগদি, সুস্মিতা রায়মহাপাত্র, সাধনা সরদার, অনিন্দিতা পাল, সুপ্রিয়া দাস, পিয়াশা দাস, সোমা বারিক, পিয়া দাস এদের সবার অভিনয় মনে থাকবে বহুদিন। তবে নিয়মিত অভ‍্যাস ওদের আরো দক্ষ করে তুলবে বলেই আশা রাখি। নাটকে ব্যবহৃত আলো এবং আবহ এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

ভাটপাড়া আরণ্যক থিয়েটার গ্রুপের নাট্য উৎসব দেশীয় রঙ্গম-২০২৫-২৬


     সাড়ম্বরে পালিত হল ভাটপাড়া আরণ্যক থিয়েটার গ্রুপের নাট্য উৎসব দেশীয় রঙ্গম-২০২৫-২৬ (প্রথম পর্যায়)


    সাহিত্যের ফলিত
শাখা নাটক সমাজের কাছে,মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এক আয়না।এই আপ্তবাক্যটি আর একবার প্রমানিত হল ভাটপাড়া আরণ্যক থিয়েটার গ্রুপের নাট্য উৎসব দেশীয় রঙ্গম-২০২৫-২৬ এ।শ্যামনগর রবীন্দ্র ভবনে গত ১৪ই জুন,২০২৫ উদযাপিত হল এক মনোজ্ঞ নাট্য সন্ধ্যা।ঠিক বিকাল ৫/৩০ মিনিটে ডঃঅপূর্ব দে র সেমিনার-বিষয়-রঙ্গমঞ্চে সমরেশ।সমরেশ বসুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করলেন ডঃ অপূর্ব দে। বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্রকে এই ভাবা শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করলেন আয়োজক নাট্যদল।বক্তব্যে উঠে আসল শিকল ছেঁড়া হাতের খোঁজে, কিমলিশ,মানুষ রতন,উরাতিয়া,পেলে লেগে যার মত উৎকর্ষ সাহিত্যের সার্থক মঞ্চায়নের খবর এবং প্রতিচ্ছবি।সেমিনারের পর মঞ্চস্থ হল আয়োজিত নাট্যদল কর্তৃক প্রযোজিত বহু পুরষ্কৃত, জনপ্রিয় নাটক সঞ্জয় আচার্য বিরচিত ও নির্দেশিত মূষিক।শিশুশ্রম বিরোধী এই নাটকের বিষয় আজকের সমাজেও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। বেন্দার চরিত্রে ছোট রূপকের অভিনয় সকল দর্শকদের চোখ ভিজিয়ে দেয়।দ্বিতীয় প্রদর্শন ছিল চন্দন নগর সৃজনের ধীমান দাস রচিত ও নির্দেশিত বন্ধক।আধুনিক ভোগবাদী সমাজে মানবিকতাও যে আজ পণ্য,তার জ্বলন্ত দলিল নাটকটি।শেষ প্রদর্শন জগদ্দল নাট্য সমণ্বয়ের নতুন নাটক রবীন্দ্র ভাবনা আশ্রয়ী নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে। নাটকটিতে বর্তমান কিশোর সমাজের এক ক্ষয়িষ্ণু রুপ ধরা পড়ে।এ নাটকে সকলের স্বাভাবিক অভিনয় ছাপ ফেলে।উৎসবে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন মাননীয় বিধায়ক (জগদ্দল  বিধানসভা)সোমনাথ শ্যাম,সঞ্জয় শ্যাম,বিপ্লব মালো (পৌরপিতা, ভাটপাড়া)। এই উৎসবের সবচেয়ে চমকপ্রদ পর্যায় শেষে জগদ্দল নাট্য সমণ্বয়ের বারোটি দলকে সম্মাননা জ্ঞাপন ও পুস্তক প্রদান।ধ্রুববাণীর সমাপ্তি সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।দর্শকপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে এক মনোজ্ঞ নাট্য উৎসবের সাক্ষী থাকল সবাই।

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নাট্য উৎসব ২০২৫

                                   

        সমস্ত ঝড়ঝাপ্টাকে পিছনে ফেলে ১-২ করে দেখতে দেখতে ১০ টা বছর। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির আর্থিক সহায়তায় কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা আয়োজন করলো নাট্য  উৎসব ২০২৫  সাক্ষী থাকলো এলাকাবাসী এক শৈল্পিক  প্রচেষ্টার এবং একতার। শিল্পকলায় সেজে উঠল প্রাঙ্গন।  কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার নাট্য উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২৭ শে মে থেকে ২৮ শে মে ২০২৫ পর্যন্ত রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাঙ্গণে  থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায়। ২৭ শে মে উপস্থিত সকল অতিথিবর্গরা গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে ও  নৃত্যবালু নৃত্য প্রতিষ্ঠানের নৃত্য শিক্ষিকা অর্পিতা দাসের  উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় । দলের সদস্যদের ভাবনায় মঞ্চসজ্জা ছিল আকর্ষণীয়। দুদিনের উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য গবেষক, নাট্যকার ড. অপূর্ব দে,  অভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী সুদীপ্ত দত্ত , অভিনেতা ও নাট্যকার শ্রী দীপক নায়েক, অভিনেতা নির্দেশক দেবাশীষ সরকার, নাট্যকার সৌমেন পাল, ইলোরা নাট্যদল এবং ইলোরা নাট্যপত্রের সম্পাদক মলয় ঘোষ, নাট্যকার মানবেন্দ্র মজুমদার । সঞ্চালক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী প্রদীপ সরকার  ও শ্রী শোভন ঘটক মহাশয়। অনুষ্ঠান ভরা ছিল অনেকগুলি নাটকে। প্রথমদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সদস্যদের হাতে তৈরী করা স্মারক এবং উত্তরীয় দিয়ে অতিথিদের সম্মানিত করা হয়।   প্রথমদিন ছিল দুটি নাটক ও একটি সেমিনার। সেমিনারের বিষয় ছিল - ❝থিয়েটার চর্চায় অভিভাবকদের ভূমিকা❞। বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য গবেষক, নাট্যকার ড. অপূর্ব দে,  অভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী সুদীপ্ত দত্ত , অভিনেতা ও নাট্যকার শ্রী দীপক নায়েক। তাদের বক্তব্য সকল দর্শকদের সমৃদ্ধি করেছে। দীর্ঘদিনের নাট্যদল নৈহাটি পঞ্চবেদের কর্ণধার অভিনেতা নির্দেশক মৃত্যঞ্জয় আচার্য্যকে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা সম্মানিত করে। তারপর বাকসা ব্রাত্য নাট্যজনের নাটক সুজিত বোসের নির্দেশনায় ❝ভুল স্বর্গ❞ এবং কাঁকিনাড়া কলবিতানের নাটক মলয় সাহার নির্দেশনায় ❝সেলফোন❞ নাটক দুটি মঞ্চস্থ হয়। যা দর্শক গ্রহণ করে সাদরে। দ্বিতীয়দিনেও গাছে জল প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং গুণীজন সম্বর্ধনা হয়। তারপর একে একে তিনটি নাটক প্রদর্শিত হয়। মাটিয়ারি ইচ্ছেপাখীর নাটক সুজিত কুমার দাস নির্দেশিত ❝আগুন পাখি❞, কাঁচরাপাড়া ফিনিকের কনক মুখার্জি নির্দেশিত ❝বলাই❞ নাটকটি পরিবেশিত হয় এবং মৃত্তিকা মালাকার গানে ভরে তোলে তালে ছন্দে এই প্রাঙ্গণ। সর্বশেষ নিদর্শন কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা সাদাত হাসান মান্টো'র গল্প অবলম্বনে বাংলাদেশের নাট্যকার তুষার রায় রচিত ও দীপক নায়েক সম্পাদিত রাজা দে নির্দেশিত ❝পঞ্চমীর চাঁদ❞ নাটকটি মঞ্চায়ন হয়। দর্শক সবকটি নাটকটি গ্রহণ করে। প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে করতালিতে।    দর্শক ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে শিল্প প্রমাণ করলো মানুষের সাথে মানুষের টান আর আপ্রাণ চেষ্টা। দলের কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝প্রতিবারের চেষ্টা থাকে মানুষের অনুষ্ঠান, মানুষের জন্য অনুষ্ঠানে মানুষরা যাতে নিজেদের একাত্ম করে আর এভাবেই শিল্পের থিয়েটারের প্রসার ঘটবে নাট্য উৎসবের মাধ্যমেই❞  তাদের এই সুপ্রচেষ্টাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখি এই সাংস্কৃতিক যাত্রা জারি থাকবে বছর বছর।