শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের নবনির্মিত নাটক "তফাত যাও" ১৪ই জানুয়ারি ২০২৪

খড়দহের নাট্যদল ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপ আগামী ১৪ই জানুয়ারি ২০২৪ পরিবেশন করতে চলেছে তাদের নতুন প্রযোজনা "তফাত যাও" দমদম থিয়ে-এপেক্স মঞ্চে। ইতিপূর্বে ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপ তাদের বিভিন্ন প্রযোজনার মধ্যে দিয়ে দর্শকের মনে এক আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের প্রযোজিত নাটক বৃহন্য চেতন, হ্রস্বীকৃত,পরিচয় ও আরো নানান প্রযোজনার মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে সকল প্রকার নাট্যমদী মানুষের সম্মুখে। তাই তাদের নতুন প্রযোজনা "তফাত যাও" নিয়েও দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে এক উন্মাদনা। ১৪ ই জানুয়ারির ২০২৪ এর অনুষ্ঠানে তাদের প্রযোজিত নাটকের পাশাপাশি থাকছে ক্লাইম্যাক্স থিয়েটার কোলকাতা দ্বারা নির্মিত নাটক "নতুন করে পাবো বলে"। এছাড়াও নাটক শুরুর পূর্বে থাকছে নাট্য বিষয়ক আলোচনা ও নাট্য গুণীজন সংবর্ধনা। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন- প্রখ্যাত নাট্য বিশ্লেষক শ্রী রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়, নাট্যাভিনেত্রী ও নাট্য পরিচালক সোমা দাস এবং পরিচালক তপন দাস মহাশয়।


ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের পরিচালক কৌশিক ভট্টাচার্যের কথায় তাদের নবনির্মিত নাটক "তফাত যাও" মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ক্ষুধিত পাষাণ' রচনা অবলম্বনে নির্মিত এবং এই রচনার নাট্যরূপ দিয়েছেন দলের নির্দেশক কৌশিক ভট্টাচার্য্য নিজে। রাবিন্দ্রিক এই রচনাকে বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের নতুন প্রযোজনা "তফাত যাও" নাটকটির সর্বাঙ্গিক সাফল্য কামনা করি পত্রিকার পক্ষ হতে।





কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন ও থিয়েটার মগজ পত্রিকার উদ্যোগে রক্তদান শিবির

রক্তের বন্ধনে মানুষ মানুষের সাথে জুড়ে যাক। রক্তদানের পুণ্য লগ্নে ঘটুক অটুট বন্ধন। তাছাড়াও করোনা আবহে মানুষ বুঝেছিল রক্তের মূল্য। বেঁচে থাকার প্রতি মূহুর্তে  ছিল মৃত্যুর হানা। কিন্তু মানুষ মানুষের জন্য। 

ঠিক এই বাক্যকে অনুসরণ করেই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন ও থিয়েটার মগজ পত্রিকার উদ্যোগে মাদরালের ৩২নং ওয়ার্ড কমিউনিটি হলে আয়োজিত হয়ে গেল স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। 
 দলের সকল সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজকের দিনটি এলো। বাস্তবায়ন হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। ২৫ শে ডিসেম্বর ২০২৩ এ সকাল ১০ ঘটিকা থেকে এই রক্তদান শিবিরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দেওয়াল সাজে অনুপ্রেরণায়। ধীরে ধীরে বিশিষ্ট ব্যক্তিগনদের উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান‌ গতি পায়। এই রক্তদান শিবিরে অতিথিরুপে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন রক্তদান আন্দোলনের পুরোধা পরেশ সরকার মহাশয় ও মুন্না প্রসাদ শাউ, ৩২নং ওয়ার্ডের পৌরমাতা কল্পনা লাহিড়ী মহাশয়া, উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা, নির্দেশক, নাট্য গবেষক অপূর্ব দে।  মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মেঘা রায় চৌধুরী, সঞ্চালক শোভন ঘটক, নাট্যকর্মী মলয় সাহা,  এবং বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী পৌলমি ভট্টাচার্য, সমাজসেবী সমাজ সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের  কর্ণধার গৌতম পাল মহাশয়, সমাজসেবী রাজদীপ সরকার, এবং সমাজসেবী সংস্থা পথের দিশা  প্রত্যাশা,স্বপ্নচূড়া,  রুটস,নবপ্রজন্ম, প্রয়াস, প্রতিবেশী, নবোদ্যম এই রক্তদান শিবিরে‌ উপস্থিত ছিলেন, তাদের উজ্জ্বল উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে প্রদীপ প্রজ্বলন মাধ্যমে রক্তিম ভালোবাসায় অনুষ্ঠান গতি পায়। 

এই মহতী রক্তদানের কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের সহযোগিতায় ছিল নৈহাটি ওয়েভি এবং সমাজসেবী রাজদ্বীপ সরকার মহাশয়। 
চারাগাছ এবং দলের সদস্যাদের হাতে নকশা করা উত্তরীয় ও স্মারক  দিয়ে বরণ‌ করে নেওয়া হয় অতিথিবৃন্দকে। NRS হাসপাতাল এই রক্তদানে রক্তসংগ্রহ করে। রক্তদাতাদের  হাতে তুলে গাছের চারা ও স্মারক । অতিথিবৃন্দদের মূল্যবান ‌বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বয়ে যায় অনুষ্ঠান। সহযোগী মানুষদের সান্নিধ্য পেয়ে রক্তদান কর্মসূচি পায় সাফল্য।

একজনের মহতী রক্তদানে নবজন্ম পায় আরেক ব্যক্তি। 
এইভাবেই রক্তের বন্ধন দৃঢ় হোক। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার কর্ণধার - রাজা দে জানান ❝রক্তদানের থেকে মহৎ দান হতে পারে না ! আমরা চেষ্টা করে যাই মানুষের পাশে থাকতে।❞
এমনভাবেই স্রোতে ভেসে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের যাত্রা শেষ হয়। তাদের আগামীপথ হোক আরো প্রশস্ত এই আশা‌ রাখি।

বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

বিমূর্ত নাট্যদলের নতুন নাটক "বিসর্জন"

বিমূর্ত নাট্যদলের নতুন নাটক "বিসর্জন" এর প্রথম মঞ্চায়ন হলো জ্ঞান মঞ্চে, পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে, ১৬ই ডিসেম্বর, সহজ আয়োজিত "সহজিয়া" নাট্যোৎসবে। এই নাটক লিখেছেন সংলাপ রায়, নির্দেশনায় অনিরুদ্ধ গুপ্ত, আবহ পরিচালনায় সুদীপ্ত ভট্টাচার্য, দীপ্তার্ক ধর। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ, অন্যান্য চরিত্রে কিশোর বিশ্বাস, সায়ন দাশ, সায়ন বিশ্বাস, নিকিতা নাথ, শায়েরী দে, রুদ্রদেব পাল, স্পন্দন কুন্ডু এবং আরো অনেকে। এই নাটক দেখে দর্শকের মুখের চওড়া হাসি এবং করতালির জোর কলাকুশলীদের আরো উৎসাহিত করেছে আগামী দিনের জন্য। তাছাড়া, এই নাটকের গানের সাথে, নাচের সাথে তালে তাল মিলিয়েছেন দর্শকাসনে বসে থাকা প্রতিটি মানুষ। 


"এই ধরণের লাইভ পারফরম্যান্স দেখা সবসময়ই একটি উপহার এবং বিশেষ করে বিসর্জন নাটকে গল্প-অভিনয়-লাইভ মিউজিক আমাকে অভিভূত করেছ। ধারণাটি অত্যন্ত হৃদয় মর্মস্পর্শী এবং গভীর ছিল এবং সবশেষে প্রত্যেকেরই অভিনয় অসাধারণ।" - ডরোথি চ্যাটার্জি, চাকুরীজীবী।

"দারুন একটি নাটক দেখলাম যথেষ্ট ভালো একটা কনসেপ্ট আর যাত্রা নিয়ে নাটক। এই নাটকে যিনি দুগ্গার চরিত্রে অভিনয় করেছে অসাধারণ অসাধারণ করেছেন প্রথম থেকে শেষ অবধি।" - জয়িতা বিশ্বাস।
"প্রথমেই ' বিমূর্ত ' নাট্যদল কে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন..'বিসর্জন' - এর মতো একটি সুন্দর প্রযোজনা উপহার দেওয়ার জন্যে.. 
প্রথমেই সাধুবাদ জানাই এই নাটকের নাট্যকার কে এমন একটি বিষয় নির্বাচনের জন্য..বাংলা রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ কে তুলে ধরেছেন তিনি তাঁর লেখায়..একটা সময় ছিল যখন যাত্রা পালায় নারী চরিত্রের রূপদান করতেন পুরুষ অভিনেতা..অসম্ভব কদর ছিল তাঁদের, কারণ নিজস্ব সত্ত্বা কে ভেঙেচুরে অভিনয় করতে হতো তাঁদের..তারপর সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ধারার ও পরিবর্তন ঘটলো,নারী চরিত্রে নারীই এগিয়ে এলেন অভিনয়ের জন্যে...দর্শকের চাহিদা ও সেই খাতেই বইতে শুরু করলো...এবং হঠাৎ করেই নারী চরিত্রে অভিনয়কারী সেই পুরুষ অভিনেতা দলের কাছে অবাঞ্ছিত হয়ে উঠতে শুরু করলেন..সেই বিশেষ সন্ধিক্ষণ এবং নটী রূপী এমন ই এক পুরুষ অভিনেতা ' দুর্গা ' -র মর্যাদার বিসর্জন ই এই নাটকের প্রধান উপজীব্য বিষয়..

নাটকের নির্দেশক এর জন্যে কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, অসম্ভব মুন্সিয়ানার সঙ্গে প্রতিটি দৃশ্য কে মঞ্চায়িত করেছেন তিনি..প্রথম ও শেষ দৃশ্য কে যেভাবে মিলিয়েছেন তিনি , সত্যিই বাহবা দিতে হয়..
কলাকুশলীরা এই নাটকের সম্পদ..প্রত্যেকে তার নিজের ভূমিকায় একশো শতাংশ দিয়েছেন..তবুও 'দুর্গা'র চরিত্রে অভিনয়কারী স্নেহাশিস এর নাম আলাদা করে বলতেই হবে..দুর্গার সাথে আমি ও কেঁদেছি..
নাটকে হাস্যরস ও ভীষণ সুন্দর ভাবে পরিবেশিত হয়েছে..একদম নির্মল হাসি...এবং সেই কমিক চরিত্র অত্যন্ত সাবলীলভাবে অভিনীত হয়েছে ... ভাঁড়ামির কোনো ছোঁয়া নেই তাতে..নাটকের প্রত্যেক অভিনেতার জন্য অন্তহীন শুভেচ্ছা রইলো...
Last but not the least.. নাটকের আবহ সঙ্গীত..খুব খুব ভালো লাগলো..সঙ্গীত নাটকের গতি কে কখনোই ব্যাহত করেনি, বরং অর্থবহ করে তুলেছে.." - মৌসুমী পাল, চাকুরীজীবী নাট্যপ্রেমী এবং আবৃত্তিকার.


এই নাটক সেই সময়কার যখন বাংলা যাত্রায় ক্রস-ড্রেসারদের দিন ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে, এবং মেয়েরা যাত্রায় প্রবেশ করছেন। বাংলা যাত্রা, বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী লোক নাট্যরূপ। সেখানে ক্রস-ড্রেসিংয়ের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। এমন এক সময় ছিল, যখন যাত্রার মঞ্চে মেয়েদের ওঠার চল সে অর্থে ছিল না, অথচ এমন অনেক কথা, গল্প ছিল যা নারীর মুখ ছাড়া, বেশ ছাড়া সম্ভব ছিল না। অগত্যা সেই অভিনয় তখন ছেলেরাই মেয়ে সেজে করে যাকে বলে ক্রস-ড্রেসিং। যাত্রায় ক্রস-ড্রেসিং চরিত্রগুলি কেবল পোশাকের পরিবর্তনের চেয়ে বেশি প্রতীকী; তারা প্রায়শই বর্ণনার মধ্যে একটি রূপান্তর বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ফুটিয়ে তোলে।
এমনই একজন মানুষ দুর্গাপদ বিশ্বাস, এই নাটকের মূল চরিত্র; তৎকালীন স্বনামধন্য শিল্পী, যিনি মেয়ে সেজে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। তাঁর ছোট থেকে বড় হওয়া, শিল্পী হয়ে ওঠা এবং সেই শিল্পীর পরিণতি - এই নিয়েই বিসর্জন নাটক। এই নাটকে সেই সময়কার পালাগান, তালে তালে নাচ, সেই সময়ে যাত্রার দেখার আমেজ, এই সবই যথাযথ ব্যবহৃত হয়েছে। 
আগামী দিনে এই নাটক অনেক অনেক এগিয়ে যাক। বারবার এই নাটকের মঞ্চায়ন হোক, দর্শকের মনোরঞ্জন হোক। এই নাটকের আগামী অভিনয় ১৪ই জানুয়ারি, রবিবার, জ্ঞান মঞ্চে। 


বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ-এর নতুন নাটক " কালিকা "

 

গত ২৯শে নভেম্বর সন্ধ্যায় গিরিশ মঞ্চে কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ-এর নতুন নাটক " কালিকা "-র প্রথম শো অনুষ্ঠিত হলো। নাটকটি দেখতে উপস্থিত ছিলাম গিরিশ মঞ্চে। যথারীতি রঙ্গশীর্ষের পূর্ববর্তী নাটকের মতোই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তা ভাবনা নিয়ে নাটকটি উপস্থাপন করা হয়েছে। নাটকটি গ্ৰীক নাটক ‘ইলেক্ট্রা’-এর অবলম্বনে তৈরী হলেও তাতে ভারতীয় ভাবধারার সংমিশ্রণে তুলে ধরা হয়েছে। যা কাল সময়ের ব্যবধান মুছে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

এমন চমৎকার একটি নাটকের রচয়িতা অর্পিতা দাশগুপ্ত এবং নির্দেশক মনোজিৎ মিত্র-কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

সঙ্গে নাটকটিতে অভিনীত সকল কলাকুশলীদের দক্ষ অভিনয় মনে রাখার মতো। যা নাটকটি প্রাণবন্ত করে তুলেছে। অভিনয়ে ছিলেন পৃথা ভট্টাচার্য, রেশমা দাস, সুদীপ্ত দাস, নন্দিতা দে, প্রীতি দত্ত এবং চিরঞ্জিত বাড়াই। অলোকশৈলীতে ছিলেন জিতেন, যিনি তাঁর নিপুন হাতে নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছেন। নাটকের অলোকশৈলী, আবহের প্রয়োগ, পোশাকের ব্যবহার ও মঞ্চসজ্জা সব কিছু একসাথে মিলে মিশে নাটকটিকে একটি মায়াবী রূপ দিয়েছে। সব কিছু দলের সবাই মিলে একসাথে সফল রূপ দিয়েছেন।

সুন্দর একটি সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য রঙ্গশীর্ষের সকল সদস্যদের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা রইলো। রঙ্গশীর্ষ আগামী দিনে নাটকের জগতে আরো উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক এই আশা রাখি।

# নাটকের জয় হোক # - অরুণ মিত্র