বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

ড্রাফার নব নির্মিত নাটক তফাত যাও প্রদর্শন- ড্রাফার নাট্য সন্ধ্যায়

 ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের আয়োজনে "ড্রাফার নাট্য সন্ধ্যা" অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১৪ই জানুয়ারি ২০২৪, দমদম থিয়ে-এপেক্স মঞ্চে। এদিন ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের নবনির্মিত নাটক 'তফাত যাও' দেখতে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আনুমানিক ৩০টি আসন বিশিষ্ট এই মঞ্চে বহু দর্শক আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন ড্রাফারের এই নাট্য সন্ধ্যা ,কারণ স্বরূপ ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের নির্দেশক কৌশিক ভট্টাচার্য্যের থেকে দর্শকদের চাওয়া একটু বেশিই এবং এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ড্রাফারের নবনির্মিত নাটকটি দর্শক মহলে একটি উন্মাদনা তৈরি করেছিল যা দলের নির্দেশক তার সকল কলাকুশলীকে সঙ্গী করে দর্শকদের চাহিদা পূরণে সক্ষমতার পরিচয় রাখে। 



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণ রচনা অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন কৌশিক ভট্টাচার্য্য। রাবীন্দ্রিক এই রচনাটিকে বর্তমান সময়ের মধ্যে দিয়ে পরিবেশন করার যে সাহস কৌশিক দেখিয়েছে তা সমালোচক মহলে যথেষ্টভাবে প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য হিসাবে গর্নিত হয়। সকল অভিনেতা ও অভিনেত্রীর অদম্য প্রচেষ্টা এবং প্রযোজনাটির আবহ ও আলোর সঠিক প্রয়োগ এই প্রযোজনাটির সাফল্যের অন্যতম একটি কারণ। 
অভিনেত্রী হিসাবে রমা চক্রবর্তী যত্নশীল অভিনয়ের সাক্ষ্য রাখে এবং সেই সাথে দলের অন্যান্য কলাকুশলী তথা ঈশান কর্মকার, বিশ্বজিৎ রায় ও কৌশিক ভট্টাচার্য্য দক্ষতা সাথে নিজেদেরকে চরিত্রায়িত গড়ে তুলতে সক্ষম হয় চরিত্র রূপায়ণের স্বার্থে।
ড্রাফার নাট্য সন্ধ্যায় ড্রাফারের নবনির্মিত নাটকের পাশাপাশি ছিলো ক্লাইম্যাক্স থিয়েটার কলকাতা প্রযোজিত নাটক "নতুন করে পাবো বলে" যা এই নাট্য সন্ধ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করেন। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব শ্রী বাদল কাঞ্জিলাল মহাশয়ের নির্দেশনায় নির্মিত এই নাটকটি উপস্থিত দর্শক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়। 
"ড্রাফার নাট্যসন্ধ্যা" অনুষ্ঠানটিতে একটি বিষয় ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হয় নিয়মিত নাট্য দর্শক হিসাবে বিবেচিত শ্রী রাজিব সিংহ মহাশয় কে এবং এ বিষয়ে তাদের অভিমত, এভাবেই নিত্য-নতুন নাট্য দর্শক তৈরীর প্রয়াসকে তারা এগিয়ে নিয়ে চলতে চায় নাটকের স্বার্থে। 
এরই সাথে ছিল 'গ্রুপ থিয়েটার ও তার প্রাসঙ্গিকতা' বিষয়ক একটি আলোচনা সভা, যেখানে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট নাট্য সমালোচক শ্রী রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়, বিশিষ্ট মুখাভিনেত্রী ও নির্দেশক শ্রীমতি সোমা দাস এবং নাট্য নির্দেশক শ্রী তপন দাস মহাশয়। 
আক্ষরিকভাবে ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের এই প্রয়াস সাফল্য অর্জন করে তাদের দলগত প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই।


কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ-এর শিশুনাট্য '‘সাহসের গান’'

যখন নাটক মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে মানবিকতার প্রকাশ করে, তখনই তার সার্থকতা। মানুষের মনের গভীরে যে ভয় সৃষ্টি হয়, তা অজ্ঞানতার অন্ধকারের ভয়। তাকে অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য, কিন্তু অসম্ভব নয়। এই বার্তাই দিল দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রীরা, লীলা মজুমদারের রচনা অবলম্বনে সৃষ্ট "সাহসের গান" নাটকে। অধিকাংশই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের এই সফল উপস্থাপনা আবার প্রমাণ করল সঠিক তত্ত্বাবধানে থাকতে পারলে শিশুরা প্রত্যেকে স্ফুলিঙ্গের সমতুল। 



সম্প্রতি সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নাগেরবাজার থিয়ে অ‍্যপেক্সে 23rd January লীলা মজুমদারের কাহিনি অবলম্বনে 'সাহসের গান' মঞ্চস্থ করলো। সহযোগিতায় ছিল স্থানীয় বিদ‍্যালয়ের দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ‍্যাপীঠ-এর শিক্ষার্থীরা। কলা কুশলীরা এই প্রথম একটি নাটক সঠিক মঞ্চে উপস্থাপনা করল। যারা সকলেই প্রথম প্রজন্ম স্বাক্ষর। তাদের কাছে এটা একটা চ‍্যালেঞ্জের বিষয়ই ছিল।



রঙ্গশীর্ষের মনোজিৎ মিত্র এবং পৃথা ভট্টাচার্য্যের গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে নাটকের প্রতিটা বিষয়ের উপর নিয়মিত করমশালার মাধ্যমে ও নিরলস প্রচেষ্টার ফল দেখতে পেলাম এই দিন মঞ্চে। এই সফল উপস্থাপনা নাট্যগোষ্ঠীকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে আশা রাখি। শিশুবয়সের অন্ধকারের ভয়কে কীভাবে শম্ভু মনের জোরে আর দাদুর ভালবাসার টানে কাটিয়ে উঠলো তাই এই নাটকের প্রতিপাদ্য বিষয়।  তবে শুধু শিশুর ক্ষেত্রে নয়, ভালবাসা, মনের জোর ও বিজ্ঞানমনস্কতা প্রতিটি মানুষের মনের ভয় ও অন্ধকার দূর করতে সক্ষম। এখানেই এই নাটকেরও উত্তরণ। অভিনয় করেছে – সুপ্রিয়া দাস, প্রিয়া বায়েন, মৌলী বটব্যাল, আনিসা পারভিন, লালমুখী দাস, আমিনা পারভিন, দিয়া ভৌমিক, সঞ্চিতা বাগদি, পিয়া দাস, সঞ্চিতা বায়েন, অনিন্দিতা পাল ও রিয়া দাস। এবং বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে সামগ্রিকভাবে তাঁরা যথেষ্ট সফল এবং প্রশংসার দাবি রাখতে পারেন।প্রতেকে এই প্রথম মঞ্চে উঠে অভিনয় করল। আগামী দিনে এরা সবাই আরও উন্নতি করবে এই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। নাটকের আলোর, সঙ্গীত ও সেটের ব্যবহার খুবই পরিমার্জিত ও সুন্দর।

---- স্নিগ্ধা সেন ও তিতি রায়