বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার বর্ষবরণ ১৪৩৩

     শিল্প ও সংস্কৃতি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের কাছে শিল্পই প্রধান, আর সেই কারণেই বাংলার শিল্পচর্চার ধারক হিসেবে নাটকের ভূমিকা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করে।



    এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ১৫ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এক ঘরোয়া বৈশাখী আড্ডার আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ‘থিয়েটার মগজ’ পত্রিকা। পুরাতনের অবসান ও নতুনের সূচনাকে কেন্দ্র করে বৈশাখের আগমনকে স্বাগত জানাতে এই আয়োজন ছিল একান্তই আন্তরিক ও অংশগ্রহণমূলক।

ছোট থেকে বড় সকলের উপস্থিতিতে, রং, তুলির ছোঁয়া, কলমের রেখা এবং সাদা লাল পারের শাড়ি,গামছা এবং হাতপাখা কুলোয় বাঙালির ঐতিহ্যে সেজে ওঠে আড্ডার পরিবেশ। কচিকাঁচাদের কবিতা, গান ও নৃত্যের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় এক উচ্ছ্বল আবহ। খুদে সদস্য গোবিন্দ ও নীলুর পরিবেশনায় মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। দলের ছোট্ট সদস্য গুঞ্জা এবং অন্যতম সদস্যা বর্ণালীর তাল-লয়-ছন্দে সন্ধ্যা ক্রমে গভীরতা পায়।
অনুষ্ঠানে পূজা কুন্ডুর কবিতা পাঠ এবং তনুশ্রী দাসের আবৃত্তি পরিবেশনে শৈল্পিক আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়। বৈশাখের আহ্বানে দলের সদস্য-সদস্যাদের ছড়া, কবিতা, গান ও নাচে জমে ওঠে পুরো আয়োজন। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে সকলেই মেতে ওঠেন আনন্দলোকে, আর সমবেত সংগীতে নতুন বছরের আগমনকে জানানো হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা।
নৈহাটি উৎসুকের রূপা দালাল দেবনাথের সংগীত পরিবেশন এবং কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের ব্রজগোপাল কর্মকারের তালবাদ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত ছিলেন নৈহাটি উৎসুকের কর্ণধার নবীন রায়, যিনি নিজেও সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন।

    সংস্থার কর্ণধার রাজা দে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং একটি মনোমুগ্ধকর কবিতা পরিবেশন করেন এবং জানান - ❝সব মিলিয়ে, ঘরোয়া আয়োজন হলেও এই বৈশাখী আড্ডা ছিল আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং শিল্পের এক সুন্দর মিলনমেলা, যা উপস্থিত সকলের মনে এক বিশেষ আবেগের ছাপ রেখে যায় সবসময়।❞




শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বনাট্য দিবস পালন করলেন ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশন

     ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে ২৭ শে মার্চ সাড়ম্বরে বিশ্বনাট্য দিবস উদযাপিত হল শ্রীভূমির মানিক্য মঞ্চে। সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হল। নাট্য দিবসের বার্তা পাঠ করলেন সান্ত্বনা হাজরা এবং বার্তা প্রেরকের পরিচিতি শোনালেন কাকলি রায়। 


    
নাট্য ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রাণী মৈত্রকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। নাটকের উপর সংক্ষিপ্তসারে সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করেন ইন্দ্রাণী মৈত্র। সম্মেলক কন্ঠে চারটি নাটকের গান পরিবেশন করলেন ই-কয়ারের শিল্পীরা। প্রতিটি গানের সঙ্গে তথ্যসূত্র পাঠ অনুষ্ঠানটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। ইরাণের ২৬ বছরের ফাঁসিপ্রাপ্ত তরুণীর মাকে লেখা শেষ মর্মস্পর্শী চিঠিটি সযত্নে পাঠ করে শোনালেন সোমা লস্কর। রবীন্দ্রনাথের সামান্য ক্ষতি কবিতার প্রশংসনীয় নৃত্যায়ন পরিবেশন করলেন শান্তা নন্দী। শব্দশিল্প সাহিত্যপত্রিকার হৈমন্তিকা সংখ্যাপ্রকাশের পর ইকোর নবতম প্রযোজনা স্পর্শ নাটক শিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মঞ্চস্থ করেন নাটকটির রচয়িতা সমীর দাশগুপ্ত পরিচালনা ও সমগ্র নির্মাণে ছিলেন ধনঞ্জয় আঢ্য।





রাজা দে - এই সময়ের এমন একজন উদীয়মান পরিচালক

     রাজা দে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের সমকালীন থিয়েটার জগতের এক উজ্জ্বল ও প্রতিশ্রুতিশীল নাম। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই তরুণ পরিচালক খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর অভিনব ভাবনা, নান্দনিক মঞ্চচিন্তা এবং সাহসী উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। শৈশব থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রাজা দে ইতিমধ্যেই অসংখ্য মঞ্চে কাজ করে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 



   বর্তমানে তিনি কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার একাধিক থিয়েটার দলে একসাথে পরিচালক, অভিনেতা, কোরিওগ্রাফার এবং মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। 'যদিও সন্ধ্যা' নাটকের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। তাঁর নির্দেশনায় মঞ্চস্থ বিভিন্ন প্রযোজনা যেমন— ‘পঞ্চমীর চাঁদ’, ‘ফিনিক্স’, ‘প্রেম বিচিত্র বস্তু’, ‘চন্দ্রলব্ধা’, ‘আমার আমি', মেশিনের কান্না’, ‘ফেসবুকে কেলেঙ্কারি’, ‘পরশ্রীকাতর’, ‘ছাত্রের পরীক্ষা’, ‘মিছিল’, ‘জুতো আবিষ্কারের পরে’, ‘স্বর্গরম’, ‘রসময়ীর রসিকতা’, ‘পরিবেশের আত্মকথা’, ‘আদাব’, ‘চমচম কুমার’, ‘জীবনের জন্য’, ‘পরিবেশ পরিচিতি’, ‘অন্ত্যেষ্টি সৎকার’, ‘মে দিবসের ডাক’ ইত্যাদি — ইতিমধ্যেই নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।রাজা দে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে করে চলেছেন। CCRT, MINISTRY OF CULTURE, GOVT OF INDIA প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় জুনিয়র স্কলারশিপ এর স্কলার হিসাবে ২০২২ সালে নৈহাটি রেড লাইট এরিয়ার শিশুদের নিয়ে থিয়েটার ডেভলপমেন্ট এর কাজ করেছেন দু বছর। এ সময়ের এক নবীন অথচ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচালক হিসেবে রাজা দে কাজ করে চলেছেন।সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার তুষার রায়ের রচনায়, সাদাত হাসান মান্টো'র বিখ্যাত গল্প ‘খোল দো’ অবলম্বনে নির্মিত ‘পঞ্চমীর চাঁদ’ প্রযোজনায় কাজ করে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই প্রযোজনায় মান্টোর তীব্র মানবিক সংকট, বিভাজনের নির্মমতা এবং অন্তর্লীন যন্ত্রণা— সবকিছুকেই তিনি এক অভিনব, শৈল্পিক ও গভীরভাবে স্পর্শকাতর ভঙ্গিতে মঞ্চে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ‘পঞ্চমীর চাঁদ’ প্রযোজনায় তাঁর মঞ্চভাষা, আলোকসজ্জা, দেহভঙ্গি ও আবহসংগীতের ব্যবহারে যে সৃষ্টিশীলতার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা সমকালীন থিয়েটারচর্চায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেই মনে করছেন অনেক নাট্যবিশেষজ্ঞ। মান্টোর ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি যে ভিজ্যুয়াল ও আবেগঘন উপস্থাপনার আশ্রয় নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। সব মিলিয়ে, রাজা দে এই সময়ের এমন একজন উদীয়মান পরিচালক, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলা থিয়েটারের মানচিত্রে এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। তাঁর থিয়েটারের ধারা অব্যাহত থাকুক। আগামীর জন্য শুভেচ্ছা রইলো।




উদ্যম 2025-2026 - দৃশ্যান্তনের নাটকের উৎসব

     “উদ্যম 2025-2026” নাট্য উৎসবটি ২৯ মার্চ নিউব্যারাকপুরের মজলিস প্রেক্ষাগৃহে এক সার্থক ও সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। নিউব্যারাকপুর দৃশ্যান্তনের উদ্যোগে বিকেল ৫:৩০-এ উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসব শুরু থেকেই একটি পরিমিত, পরিকল্পিত এবং রুচিসম্মত পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়।


    উৎসবের নাট্যপর্বে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রযোজনাগুলি বিষয় ও নির্মাণের দিক থেকে বৈচিত্র্যময় ছিল। বনগাঁ ধূলাউড়ানিয়ার ‘ধূসর’ নাটকটি দিয়ে সূচনা ঘটে, যেখানে সামাজিক বাস্তবতার এক গাঢ় প্রতিফলন দেখা যায়। থিয়েটার ইউনিট উত্তরনের ‘কাগতাড়ুয়া’ নাটকটি তার প্রতীকধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ব্যারাকপুর সৌপ্তিকের ‘DOLL, A Dark Story’ মঞ্চে এক ভিন্ন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আবহ তৈরি করতে সক্ষম হয়, যা দর্শকদের ভাবনায় নাড়া দেয়। হৃদয়পুর অনুরূপের ‘বিপিন হরবোলা’ নাটকটি তার অভিনয় ও গতি দিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখে। সবশেষে নিউব্যারাকপুর ছন্দনীড়ের ‘স্মৃতির বিহঙ্গ’ একটি আবেগঘন পরিসমাপ্তি এনে দেয় পুরো আয়োজনে।


    উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতিটি প্রযোজনার মধ্যেই দলগুলির আন্তরিকতা ও প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট ছিল। মঞ্চব্যবহার, আলোক পরিকল্পনা ও সংলাপ পরিবেশন—সব ক্ষেত্রেই একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন দেখা যায়। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে গতি বা টেকনিক্যাল দিক থেকে সামান্য সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে তা উৎসবের মানকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

    দর্শকদের উপস্থিতি ছিল এই উৎসবের অন্যতম বড় শক্তি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পাশাপাশি, সময়ানুবর্তিতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আয়োজকদের দক্ষতা প্রশংসনীয়।

    সব মিলিয়ে, “উদ্যম 2025-2026” একটি এমন নাট্য উৎসব, যা স্থানীয় নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আয়োজনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট করে দিয়েছে।




বারো থেকে আরো একধাপ - টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী

     বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা খুবই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে ক্রমে ক্রমে। একদিকে যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে শত প্রলোভনকে দূরে সরিয়ে রেখে নাটকের অভিনয় করা এবং দর্শককে নাটক দেখার উৎসাহ দেওয়া খুবই কঠিন। যারা এই কঠিন কাজটি নিজেদের দায়িত্বে সুন্দরভাবে করে যাচ্ছে বছরের পর বছর, তাদের মধ্যে টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী অন্যতম। সারা বছর তারা নাটকের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে চর্চা করে, কর্মশালা করে এবং সর্বোপরি তারা নাট্য উৎসব করে। তাদের মৈত্রী উৎসব তো যতদিন যাচ্ছে নাট্যমোদী দর্শকের কাছে খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে বলে মনে হয়। টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী এবার বারো বছরে পা দিল। 'বারো বছর' শুনলে মনে হয় শৈশব এখনো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে জীবনে, কিন্তু স্বপ্নমৈত্রী তা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। যতদিন যাচ্ছে তাদের দৃপ্ত পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মের কাছে একটা শিক্ষণীয় ব্যাপার হয়ে থাকবে এই আশা পোষণ করি। বারো বছরের জন্মদিনে তারা আয়োজন করেছিল "স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং অনু নাটকের উৎসব" গত ২৯শে মার্চ তৃপ্তিমিত্র সভাগৃহে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে আয়োজিত উৎসবের পাশাপাশি ছিল বিশ্ব নাট্য দিবসের উদযাপন। নাট্য দিবসের বার্তা পাঠ করে সূচনা হয় উৎসবের। 



    সন্ধ্যার প্রথম নাটক ছিল 'গোবরডাঙ্গা আকাঙ্ক্ষা' প্রযোজিত নাটক "পেনা পালালো"। মূল নাটক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের "ভীম বধ" নাটকের ছায়া অবলম্বনে এই নাটক। সকলের প্রাণবন্ত অভিনয়ে দর্শক সাধারণ কে মুগ্ধ করে দিয়েছে। দ্বিতীয় নাটক গরলগাছা স্বপ্ন সৃজন এর "দেবী" প্রত্যেকের অভিনয় যথাযথ, তবে বাইরের থেকে প্রম্পট করাটা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। আরো একটি ব্যাপার— মঞ্চে রাখা 'প্রপস' ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়া। দুজন লোক মদ পান করছে তাদের জলের বোতল থাকা সত্ত্বেও তারা জল ব্যবহার করছে না অথচ জলের বোতলটি সামনে রয়েছে এটা ঠিক মেনে নেওয়া গেল না।
তৃতীয় প্রযোজনা ছিল "টালিগঞ্জ হিজিবিজবিজ নাট্য কেন্দ্র এর নাটক "এক খেয়ালি রাজার কান্ড"। এই নাটকটি আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে কতখানি উপযোগী তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে-বিদেশে রাষ্ট্র নায়কদের আজব খেয়ালে উলুখাগড়ার মতো সাধারণ মানুষের প্রাণ যে  ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে ক্রমাগত, তারই সাক্ষ্য বহন করছে আজকের সংবাদ মাধ্যম। এই নাটকে দেখলাম তারই প্রতিচ্ছবি। প্রত্যেকের অভিনয় খুবই ভালো। চতুর্থ নাটক ছিল চন্দ্রদীপ নাট্যদলের নাটক "কোন এক যতীনের গপ্পো"। এক সত রিকশাওয়ালা ও তার ছেলের মধ্যে টানাপোড়েন এই নাটকের বিষয়। মোটা দাগের  অভিনয় হলেও প্রত্যেকের অভিনয় ভালোই উপভোগ করেছেন দর্শকরা।

    এদিন সন্ধ্যায় টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী নিবেদন করল তাদের নবতম প্রযোজনা "বিজ্ঞাপন"। এটিই ছিল তাদের প্রথম অভিনয়। বাপি কুণ্ডু রচিত এই নাটকের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও পরিচালনা ইন্দ্রনীল মুখার্জী। এ নাটক আমাদের সমাজের কদর্য রূপটা তুলে ধরেছে। আমরা সাধারণ মানুষ সাময়িক সুখ পাওয়ার আশায়  সমাজে ছড়িয়ে থাকা নানা প্রলোভনের প্রতি আকৃষ্ট হই। কিন্ত ভুলে যাই এর একটা ভয়ানক পরিণতি অপেক্ষা করে থাকে হিংস্র শ্বাপদের মত আমাদের ঘাড়ে লাফিয়ে পরার জন্য। তখন মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ। যা নরক যন্ত্রণার সামিল। এই নাটক তারই কথা বলে। প্রত্যেকের অভিনয় খুবই সুন্দর, তবে ভগবানের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তাঁকে আরেকটু চরিত্রের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

    সব শেষে প্রকাশিত হল তাদের বার্ষিক পত্রিকা। নাট্যবন্ধুদলের শুভেচ্ছা পত্র, প্রবন্ধ অণুনাটক  সব মিলিয়ে খুব ভালো হয়েছে তাদের ওই পত্রিকা। সবশেষে স্বপ্নমৈত্রীকে সাধুবাদ জানাতে হয় তাদের কর্মকাণ্ডকে। আশা রাখি তারা বারো থেকে আরো বড় হবে এবং বাংলা নাট্য জগতকে সমৃদ্ধ করবে।





রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

খড়দহ থিয়েটার জোন আয়োজিত National youth theatre festival (2025-26)

 খড়দহ থিয়েটার জোন আয়োজিত National youth theatre festival (2025-26) অনুষ্টিত হয়েছিল গোবরডাঙ্গা শিল্পায়ন স্টুডিওতে, নাট্য উৎসব শুরু হয়েছিল মার্চের ১৪ ১৫ও ১৬,,এই তিন দিনের উৎসবে নাটক ছিল ৯টি ও একটি ডান্স গ্রুপ, সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গানের শিল্পী, উদ্বোধনে ছিলেন প্রবীর গুহ, আশিস চট্টোপাধ্যায়,শ্বাতসতি নাথ ও সহ ভর্গনাথ ভট্টাচার্য ও যোগরাজ চৌধুরী, মোনালিসা দাস সহ জীবন অধিকারী, ধীরাজ হাওলাদার ও তপন দাস (দলের কর্ণধার)। উদ্বোধন এর পরে ছিলো সেমিনার। সেমিনার এর বিষয় বস্তু ছিলো "একজন পরিচালক বা একজন অভিনেতার সামাজিক ভূমিকা কি ?" সেমিনার এর বক্তা ছিলেন শ্রী আশিস চট্টোপাধ্যায়,ভর্গনাথ ভট্টাচার্য,শ্বাসসতি নাথ, যোগরাজ চৌধুরী ও বাসুদেব কুন্ডু,, সঞ্চালনা করেছিলেন শ্রী জীবন অধিকারী, সেমিনার এর পরে ছিল খড়দহ থিয়েটার জোন এর নতুন নাটক "না না হে",, পরিচালক :- তপন দাস।। এই নাটকের বিষয় বস্তু ছিল মালদহের গম্ভীরার ওপরে। নাটক দেখে দর্শক এর উদ্দিপনা ও উৎসাহ ছিলো চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় নাটক ছিল "রিস্তো কে ভাওয়ার মে" পরিচালক :- দেশরাজ মিনা ।।

দ্বিতীয় দিন প্রথম নাটক ছিলো "তারিনী মাঝি"পরিচালক:-তপন দাস । দ্বিতীয় নাটক "সবটাই অভিনয় নয়" পরিচালক :- জয়েস ল । তৃতীয় নাটক ছিলো "দলছুট" পরিচালক:- জীবন অধিকারী । 


তৃতীয় দিন প্রথম নাটক "মহুয়া সুন্দরী " পরিচালক :- সুজিত কুমার দাস 

দ্বিতীয় নাটক "উত্তর সন্ত্রাস" নির্দেশনায় :- ভর্গনাথ ভট্টাচার্য ও ডান্স গ্রুপ "নিত্যনির" এর "রবিকিরণ" পরিচালিকা :- সৃজা হওলাদার 

  উদ্বোধনী সংগীত সংস্কার ভারতীর শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল, এই সকল শিল্পীদের জানাই বিশেষ অভিনন্দন,, 

এই তিনদিনের প্রতিটি নাটক উন্নত মানের ও উচ্চ মানের, নাটক দেখে গোবরডাঙ্গার দর্শক উৎসাহের সাথে উপভোগ করেছেন, দর্শক ছিল প্রতি দিন চোখে পড়ার মতো।।


 সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন শিল্পায়ন এর কর্ণধার শ্রী আশীষ চট্টোপাধ্যায় ও তাদের অভিনেতা ও অভিনেত্রীরাও এদের সকলকে বিশেষ ভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছে খড়দহ থিয়েটার জোন , গোবরডাঙ্গা নাট্যকর্মী ও দর্শকদের খড়দহ থিয়েটার জোন বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ জানাচ্ছে ।

     Supporting By - Ministry of Culture, Government of India.

 (North Central Zone Cultural Centre) (NCZCC) .