বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০২৪

Kolkata Rangashirsho's " Celebration of Theatre" July 2024

২৮ এ জুলাই রবিবার Kolkata Rangashirsho " Celebration of Theatre" এর আয়োজন করে Proscenium Art Centre-এ।

প্রথমে বলি অনেকদিন বাদে এরকম একটি সুন্দর সন্ধ্যা পেলাম যেখানে আনন্দ ও হাসিখুশিতে ভরা।
গতকাল কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ এই Celebration of Theatre এর অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র নাটক নয়, আরও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।


প্রথমে কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নৃত্যবিভাগের ছাত্রীরা একটি সুন্দর নৃত্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করে। সত্যিই অনবদ্য, খুব সুন্দর লাগলো তাদের পরিবেশন।


তারপর পেলাম ভীষন সুন্দর একটি আলোচনা সভা।উপস্থিত ছিলেন থিয়েটার জগৎ এর স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্বরা।
ছিলেন শ্রী গৌরব দাস, শ্রীমতি বেবি সেন এবং শ্রী গৌতম চক্রবর্তী। 
বিষয় ছিলো " থিয়েটার কার দাস?"
পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেন কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের পরিচালক শ্রী মনোজিৎ মিত্র। 
অসাধারণ ও কত অজানা কথার মধ্যে দিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। এক প্রকার টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে আলোচনাটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলো। ঐ তিনজন নাট্যব্যক্তিত্বদের আলোচনা এক অন্য মাত্রা নিয়েছিলো।দর্শক আসনে বসে ঐ আলোচনা এক প্রকার মগজাস্ত্র করে নিয়েছিলাম।
ধন্যবাদ জানাই সকলকে এইরকম আলোচনা শোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
তারপর আবার ঐ পূর্বের মতোন আরেকটি সুন্দর নৃত্য পরিবেশিত হলো। চোখ জুড়িয়ে গেলো,মন ভরে গেলো।
সর্বশেষ, যার অপেক্ষাই সকলে আগ্রহ হয়ে ছিলো তা হলো কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নবতম প্রযোজিত নাটক " ইতি মৃণাল" দেখার জন্য। গতকালই প্রথম শো হয় নাটকটির।
নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা " স্ত্রীর পত্র" থেকে অনুপ্রাণিত। 
নাটকটির নাট্যরূপ দেন Arpita Dasgupta 
আর নাটকটির সামগ্রিক নির্মাণ করেন Monojit Mitra 
অভিনয়ের ছিলেন Sayani Basak, Chiranjit Barai , Pritha Bhattacharjee.
গতকাল প্রথম শো তাও অসাধারণ হয়েছে। 
সেট এর চিন্তা ভাবনা বেশ নজর কেড়েছে। আলো, আবহ সঙ্গীত বেশ সুন্দর হয়েছে। নাটকের জন্য ব্যবহৃত জিনিস খুবই সুন্দর। একটা গুছিয়ে কাজ হয়েছে। অভিনয় সম্পর্কে কি আর বলবো। সকলেই বেশ অতুলনীয়। আরও এই নাটকের শো হওয়া প্রয়োজন,তাহলে আরও বেশ সুন্দর হয়ে উঠবে। পূর্বেই বলেছি প্রথম শো, সেই হিসেবে বেশ সুন্দর। 
নাটকটির বিষয়বস্তু নিয়ে বলার প্রয়োজন রাখে না।কারণ রবি ঠাকুরের এই ছোটো গল্পটি আশা করি সকলেরই পড়া।তাই এই ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করছি না। 
গতকালের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমার মতামত পোষণ করলাম সাথে থিয়েটারের দিকগুলি সম্পর্কে। 
আমার দর্শক হিসেবে পুরো নাটকটি বেশ ভালো লেগেছে।রাবীন্দ্রীক ধারাকে বজায় রেখে নাটক করা খুবই জটিল, সেটাকে না ভেঙে, আধুনিকতার সাথে স্পর্শ না করে যেভাবে নাটকটি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ পরিবেশন করেছে, তাতে আমি নাট্যকার , পরিচালক ও অভিনেতাদের কুর্নিশ জানাই।
আর সেরকম ভাবে আমার বলার কিছু নেই, সকলকে ধন্যবাদ জানাই সাথে কোলকাতা রঙ্গশীর্ষকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য।
সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, থিয়েটার ও সাহিত্যে থাকুন।
শেষে ঐ রবি ঠাকুরের কথায়
"আমার দেবতা নিল তোমাদের সকলের নাম;
রহিল পূজায় মোর তোমাদের সবারে প্রণাম"।।

---- PUJA MUKHERJEE








শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৪

‘পাঞ্চজন্য’-এর নবতম প্রযোজনা ‘মৃতজনে প্রাণ’

         গত ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ দঃ আনুখা সুভাষ সংঘের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  ‘পাঞ্চজন্য’ তাদের নবতম  প্রযোজনা ‘মৃতজনে প্রাণ’ নাটকটি নিয়ে উপস্থিত ছিল । নির্ভার মঞ্চে আলো ও আবহে এমন একটা মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল যা শুধু উপভোগ্য, বোঝানো দুঃসাধ্য । কমেডির মোড়কে এরকম একটা সিরিয়াস বিষয় এবং সাম্প্রতিককে ছুঁয়ে ফেলা বোধহয় নাট্যকার অমল রায় এর পক্ষেই সম্ভব ।

        ভন্ড সাধু উদ্ভটাচার্য্য ধনী শিষ্য সুখময় সামন্তের বাড়ি যাবার পথে একটি করোটি কুড়িয়ে পেয়ে মৃত সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাকে প্রাণদান করে । এই প্রাণদান পর্বে উদ্ভটাচার্য্য ও যমরাজের কথোপকথনে যখন সাম্প্রতিক কিছু তথাকথিত অশ্লীল শব্দ বেরিয়ে আসে তখন দর্শক যেমন প্রাণ খুলে হাসতে পারে, আবার ভাবনার ও রসদ পান । উদ্ভটাচার্য্য, সুদখোর সুখময়, অসৎ পুলিশ , যমরাজ সবাই একেবারে চেনা চরিত্র । কিন্তু যখন সঞ্জীবনী মন্ত্রে উদ্ভটাচার্য্য প্রায় দুশো বছর আগে মৃত লোকটিকে বাঁচিয়ে তোলে এবং লোকটি নিজেকে মজনু ফকিরের অনুগামীরূপে চিনতে পারে তখন নাটকটা হঠাৎ ঐতিহাসিক মাত্রা পেতে পেতে ঘাত প্রতিঘাতে চুড়ান্ত মুহুর্তে পৌঁছে যায় ও এক এক করে নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচারের চিরকালীন চেহারাগুলো দর্শকের সামনে স্পষ্ট হতে থাকে।

        উদ্ভটাচার্য্যরূপী সঞ্জয় দে, সুখময় – আশিষ গিরি, পুলিশ অফিসার – গোপাল দাস চরিত্রের সাথে একাত্ম হতে পেরেছেন । যমরাজের অভিনেতাকে আরো সাবলীলতা আনতে হবে । কনস্টেবল এর অভিনেতার কিছু কিছু উচ্চারণ কানে লাগে, তবে অভিনয় যথাযথ। শেষে, লোকটি চরিত্রে অনুপ মন্ডল সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে ।


        নাটকটির সম্পাদনা ও নির্দেশনা : রুদ্র রায় । রুদ্র রায়ের বিভিন্ন ধরনের নাটক দেখেছি দেখছি । ধীরে ধীর ওঁর কাজে একটা পরিনত মনস্কতার ছাপ পরিস্ফুট হতে দেখছি । মঞ্চটাকে নির্ভার না রেখে বনের পথের আভাষ দেওয়াও যেত । হয়তো পরিচালক দর্শকের কল্পনা শক্তি উসকে দিতে চেয়েছেন ।

        মনোরঞ্জনের সাথে সাথে এরকম ভাবনার, প্রতিবাদের নাটক আরো বেশি হোক, যাতে মানুষ বাঁচার মানে খুঁজে পায়।

বেহালা ব্রতচারী মঞ্চে গত ২৭ শে মার্চ, ২০২৪ বিশ্ব নাট্য দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ‘পাঞ্চজন্য’ দলের  প্রযোজনা ‘মৃতজনে প্রাণ’ নাটকটি আবার দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল । মঞ্চে পশ্চাদপটে বনপথের দৃশ্য । তার সাথে আলো ও আবহে একটা গা ছমছমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল যা দর্শকরা তারিয়ে উপভোগ করেছেন । কমেডি ও সিরিয়াস বিষয় এবং এখনকার সময়টাকে ধরা সব একাকার হয়েছে নাট্যকার অমল রায় এর এই নাটকে । এবং সেটাকে নাট্যে যথাযথ রূপ দিয়েছেন সম্পাদক ও নির্দেশক রুদ্র রায় ।

        ধনী শিষ্য সুখময়ের বাড়ি যাবার পথে গুরু উদ্ভটাচার্য্য একটি করোটি কুড়িয়ে পেয়ে মৃত সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাকে প্রাণদান করে, যমরাজকে ধ্যানে তুষ্ট করে । উদ্ভটাচার্য্য ও যমরাজের এই প্রাণদান পর্ব পরিচালক বেশ মুন্সিয়ানার সাথে প্রয়োগ করে দর্শককে প্রাণ খুলে হাসিয়েছেন, আবার সাম্প্রতিকের ছবিও তুলে ধরেছেন । উদ্ভটাচার্য্য, সুদখোর সুখময়, অসৎ পুলিশ , যমরাজ সবাই চেনা চরিত্র । সঞ্জীবনী মন্ত্রে উদ্ভটাচার্য্য প্রায় দুশো বছর আগে মৃত লোকটিকে বাঁচিয়ে তোলার পর লোকটি নিজেকে মজনু ফকিরের অনুগামীরূপে চিনতে পারে । তখন নাটকে হঠাৎ ঐতিহাসিক সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অনুসঙ্গ এসে নাটকটাকে ঘাত প্রতিঘাতে ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে যায় ও অত্যাচারের এক একটা ছবি দর্শকের সামনে তুলে ধরতে থাকে ।     

উদ্ভটাচার্য্যরূপী সঞ্জয় দে, সুখময়রূপী আশিষ গিরি, যমরাজরূপী আশুতোষ রায় যথাযথ । লোকটি চরিত্রে অনুপ মন্ডল আবারও দর্শকের প্রশংসাধন্য হয়েছেন । পুলিশ অফিসারকে আরো মেপে অভিনয় করতে হবে। কনস্টেবল এর অভিনেতার অভিনয় যথাযথ ।

        কিছু গঠনমুলক পরিবর্তনের ফলে নাটকটি আরো উপভোগ্য হয়ে উঠেছে । তবে নাট্যের গতিছন্দ একটু দ্রুতির দাবি করে । তারজন্য রসগ্রহনে কোন অসুবিধা হয় না । এ জন্য সম্পাদক ও নির্দেশক রুদ্র রায় এর অভিনন্দন প্রাপ্য । ওঁর কাজ আরো বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাক, কারন  একটা পরিনত দায়বদ্ধতা ওঁর কাজে পরিলক্ষিত হয় ।



       

শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪

দমদম চক্রবাকের সাসপেন্স ধর্মী নাটক 'কাজুবাদাম'

 দমদম চক্রবাকের গিরিশ মঞ্চে আয়োজিত নাট্য সন্ধ্যায় তাদের প্রযোজিত নবনাট্য কাজুবাদাম নাট্য প্রযোজনার সাক্ষী হয়ে রইলাম. নাটকটির সময়সীমা মূলত এক ঘন্টা. শমিক বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প অবলম্বনে নাটক কাজুবাদাম, নাট্যকার- অরুন মিত্র, নির্দেশনা- দেবাশীষ দত্ত, আলো- প্রসেন ভট্টাচার্য সাহেব সান্যাল, আবহ- কৃশানু ব্যানার্জি, মঞ্চ নির্মাণ- অজয় প্রধান, সামগ্রিক পরিকল্পনা- সঞ্জয় চক্রবর্তী.



অভিনয়ে- পুলিশ ইন্সপেক্টর- সঞ্জয় চক্রবর্তী, প্রফেসর- পায়েল চক্রবর্তী, যুবক- বুবাই হালদার.
সোহিনীদেবীকে থানায় জেরা করছেন হোমিসাইড ডিপার্মেন্ট এর এস.আই. জগবন্ধু দাস।  বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সম্বিত ব্যানার্জির খুন করার অপরাধে। সোহিনী দেবী একজন খুব ব্যাক্তিত্ব পূর্ণ মহিলা, বিশিষ্ট অধ্যাপিকা। এদিকে পুলিশ অফিসার সাদা সিধা, ব্যক্তিত্বহীন, পুরুষ মিস্টার দাস, জেরার নামে হাবিজাবি গল্প বলছেন, তার গল্পের মাধ্যমে জানা গেলো তিনি একজন কাজুবাদাম প্রেমী। যাইহোক কাজুবাদাম প্রেমী পুলিশ অফিসারকে সোহিনী দেবী একদম সহ্য করতে পারছেন না। খুবই বিরক্ত , অগত্যা পুলিশ কাস্টডিতে বসে এক রকম বাধ্য হয়েই পুলিশ অফিসারের জেরার উত্তর দিতেই হয়। জেরার মুখে সোহিনী দেবী প্রথমে খুনের কথা অস্বীকার করে, এবং যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে যে খুন উনি করেন নি। কিন্তু সোহিনী দেবীর কথা মিস্টার দাস কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না। কারণ তিনি তদন্ত করে যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তার সঙ্গে কিছুতেই মিল খুঁজে পারছেন না সোহিনী দেবীর বয়ানে। এদিকে জেরার মুখে উঠে আসে রুকু হাজরার কথা। সোহিনী দেবীর ছাত্রী ছিলেন রুকু হাজরা, তাকে বাঁচানোর জন্য খুনটা সে নিজে করে বলে দাবি করে। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে পাওয়া যাচ্ছে খুনটা ডান হাতি কেউ করেছে, এদিকে সোহিনী বাম হাতি । জেরার মুখে আরো জানা যায় বিদেশে পড়াশুনার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়ে পরে রুকুর, টাকা জোগাড়ের জন্য সে সম্বিত বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে, তার দাদুর বাড়ি বিক্রি করবে বলে। এদিকে শোনা যায় রুকুর দাদু বাড়ি বিক্রি সম্পর্কে কিছুই জানে না।  এমনকি পাড়া প্রতিবেশীর মুখে রুকু এবং সম্বিত বাবুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথাও শোনা যায়। এই ভাবেই তদন্তের মোড় এক এক সময় বাক নেই এক এক দিকে। এক সময় দেখা যায় সোহিনী দেবী জেরার মুখে ভেঙে পড়ে এবং আসল সত্যিটা স্বীকার করে নেয়। যে সোহিনী তার প্রাক্তন প্রেমিকার দাদার সহযোগিতায় প্রেমিকের খুনের বদলা নেয়। এবং সর্বশেষে জানা যায় ওই সাদাসিধা কাজু বাদাম ভক্ত আসলে এস. আই. নন উনি হোমিসাইট ডিপার্টমেন্টের এ. সি.পি. জগবন্ধু দাস।
এই নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হওয়ার জন্য নির্দেশনায় বেশ কিছু জায়গায় খামতি, অভিনেতা-অভিনেত্রীর বেশ কিছু জায়গায় অভিনয়ের খামতি, আলো এবং আবহের বেশ কিছু জায়গায় তালমিলের অভাব আমার চোখে পড়ে. নাটকের শেষ অংশে মানে যবনিকা পতন অংশে নির্দেশককে আরো কাজ করতে হবে. নাটকটিতে অভিনয়, সিনোগ্রাফি, আলো এবং আবহের অংশগুলিতে নির্দেশক যদি আরো ধরে কাজ করেন তাহলে নাটকটি অন্য মাত্রা পাবে. নাটকটি সাসপেন্স ধর্মী হলেও নাটকটির মধ্যে সামনে এগিয়ে যাবার অনেক সম্ভাবনা আছে.
                                                                                                                            -----বিশাল ভট্টাচার্য