বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

খড়দহ আহিরি নাট্যসংস্থায় দুদিন ব্যাপী মূকাভিনয় কর্মশালা

    মূকাভিনয় শিল্পকে নাট্য অনুশীলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে বিখ্যাত মূকাভিনেতা বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে খড়দহ আহিরি নাট্যসংস্থার রিহার্সাল রুমে ১৭ ও ১৮ জুন ২০২৬, শুক্র ও শনিবার দুদিন ব্যাপী বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে ও আয়োজনে।




    সংস্থার সম্পাদক ও বিশিষ্ট নাট্যকর্মীরা কর্মশালার উদ্বোধন করেন। এদিন বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী করুণা প্রসাদ মিত্র। দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্মারক প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।

    কর্মশালায় মূকাভিনয়ের মৌলিক কৌশল, শরীরী ভাষা, অভিব্যক্তি ও দর্শকের সঙ্গে সংযোগের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী মঞ্চে নীরবতার শক্তি ও চরিত্র নির্মাণ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। কর্মশালার শেষ দিনে একটি সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা তাঁদের শেখা কৌশল মঞ্চে উপস্থাপন করেন। উপস্থিত দর্শক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা সকলের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
    
    অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্বে সকল অংশগ্রহণকারীকে সংস্থার পক্ষ থেকে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। শংসাপত্র প্রদান করেন বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী সহ সংস্থার অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তরুণ শিল্পীদের জন্য এ ধরনের কর্মশালা চলবে।




সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

অন্ জন্ দাশগুপ্তের স্মরণসভা

     গত ৭ জুনের বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় রিপন স্ট্রিটের প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে নাট্যকার, নাট্যপ্রশিক্ষক ও নাট্যগ্রন্থকার অন্ জন্ দাশগুপ্তের ১৩তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 



    অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জুন দের সঙ্গীত পরিবেশনায়। তারপর পরিবেশিত হয় তিনটি ভিন্ন স্বাদের নাটক।

    প্রথমে ছিল ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রযোজনা ফ্যাতাড়ু 2.0। নবারুণ ভট্টাচার্যের রচনা থেকে রূপান্তরিত নাটকটি সুনয়নের পরিচালনা ও সঞ্জীব, সুনয়ন শুভজিৎ, শ্রাবণ, পাপিয়া, পৌলমী, শুভ্রা ও বেবির অভিনয়ে দর্শক মন জয় করে নেয়।

    দ্বিতীয় প্রযোজনা কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নাটক অর্পিতা দাশগুপ্তের লেখা 'ঘ্রাণ'। পৃথা ভট্টাচার্যের পরিচালনায় ও মনোজিত-এর একক অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে সমকালীন সমাজের পচা গলা রূপটি।

    সবশেষে ছিল আলোর ফুলকি প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ইঁদুরের ভোজ' গল্পের নাট্যরূপ। আদিত্য ব্যানার্জীর নাট্যরূপ ও পরিচালনায় আটজন (আর্ণ, দেবজ্যোতি, ধ্রুবজ্যোতি, ঋদ্ধি, অনুষ, আয়ুষ, শতদ্রু) কচিকাঁচার অভিনয় সমৃদ্ধ নাটকটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। 

এছাড়া ছিল অন্ জন্ দাশগুপ্তের পরিবার ও প্রাক্তন ছাত্রদের স্মৃতিচারণা।





খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার নাট্য উৎসবের প্রথম পর্ব

  প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত নাট্য উৎসবের তিন দিনব্যাপী  প্রথম পর্ব অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে সম্পন্ন হলো। গত ২৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত পানিহাটি লোকসংস্কৃতি ভবনে এই উৎসবের আসর বসে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে।



উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মুরারিবাবু। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই আহিরির অন্যতম সদস্য নৃত্যশিল্পী সুদর্শনা রায় ঘটকের পরিচালনায় "আবর্তন" এর শিশু শিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা দর্শকমনে আলাদা ছাপ ফেলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আবর্তন নৃত্য গোষ্ঠীর শিল্পীদের কত্থক নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা গোটা হলঘরে উৎসবের আবহ তৈরি করে।

উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ড. অপূর্ব দে, নাট্য সমালোচক দুলাল চক্রবর্তী, মুখাভিনেতা বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, নাট্যকার মানবেন্দ্র মজুমদার এবং নাট্য ব্যক্তিত্ব রাহুল দেবনাথ। প্রত্যেকেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাটকের সামাজিক গুরুত্ব, নাট্যচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—প্রয়াত চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের নাট্য জগতে অবদান বিষয়ক কর্মকাণ্ডর কথা। সেইসঙ্গে তাঁরা বার্তাও রাখেন যে নাটক শুধু বিনোদন নয়, সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার।

সমগ্র নাট্য উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন নাট্য দোলের অনুনাটক ও একাঙ্কনাটকের মেলবন্ধন।  উৎসবের গঠনশৈলী ছিল পরিকল্পিত পরিমার্জিত ও রুচিশীল।

- *প্রথম দিন, ২৬ জুন*: গরলগাছা স্বপ্নসৃজন এর " দেবী "অনুনাটক, ইছাপুর অঙ্কুরের " আঁধি "একাঙ্ক নাটক ও অর্কিড উত্তরপাড়ার " দায় " নাটক মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমিতা দেবী। তাঁর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় গোটা অনুষ্ঠান প্রাণ পায়।
- *দ্বিতীয় দিন, ২৭ জুন*: এদিন দর্শকরা উপভোগ করেন বালী ভেনাস থিয়েটারের অনুনাটক " প্রশ্ন "এবং তিনটি একাঙ্ক নাটক শান্তিপুর উড়ানের " দিশাহীন " আতপুর জাগৃতির " গোলমাল " ও চাঁচল অপাঙ্ক্তেয়, মালদহর " চার অধ্যায় "। বিষয়বৈচিত্র্য ও অভিনয়শৈলীতে প্রতিটি নাটকই ছিল স্বতন্ত্র।
- *তৃতীয় দিন, ২৮ জুন*: উৎসবের শেষ দিনেও একই ধারা বজায় থাকে।  চারটি ভিন্ন ধারার একাঙ্ক একাঙ্ক নাটক যথাক্রমে মণ্ডলাই সার্বজনীন - পাণ্ডুয়া, হুগলীর " চরিত্রবান চোর ", কাল্পনিক হিন্দমোটরের " স্বপ্ননীড় ", ব্যান্ডেল চারনিকের " বিকর্ণ " এবং পানিহাটি অভিযাত্রীর " কী খবর বল " দর্শকদের আবদ্ধ করে রাখে। অনুভূতির বৈচিত্রে শেষ হয় নাট্য উৎসব।

তিন দিন ধরে চলা এই নাট্য উৎসবে নাট্যপ্রেমী মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। প্রয়াত দুই নাট্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করে আয়োজিত এই উৎসব শুধু শ্রদ্ধাজ্ঞাপনই নয়, বরং আগামী দিনের নাট্যচর্চার পথকেও সুগম করল। খড়দহ আহি নাট্য সংস্থার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা দর্শক-শ্রোতাদের। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বার্ষিক কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসবের জন্যও এখন থেকেই উৎসাহিত নাট্যপ্রেমীরা।