সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

'মাটিয়ারী ইচ্ছেপাখি' নাট্যদল আয়োজিত 'অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব - ২০২৪'

     'পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায়' 'মাটিয়ারী ইচ্ছেপাখি' নাট্যদল আয়োজন করেছিল 'অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব - ২০২৪'। গত ৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে অবধি তাঁদের নিজস্ব অন্তরঙ্গ নাট্যগৃহ 'নীড়'এ চলেছিল নাট্যোৎসবটি। একমাস ব্যাপী চারটি রবিবারে অনুষ্ঠিত নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণ করেছিল মোট নয়টি নাট্যদল। 



    প্রথম দিন অর্থাৎ ৭ এপ্রিল ছিল দুটি নাট্য - 'নৈহাটি রঙ্গসেনার' 'নিশূন্য অঞ্চল' এবং 'কাটোয়া অনুভব' এর 'তোমার অসীমে'। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল 'পিন্ডিরা ইলোরা'র 'লাশ' এবং 'আড়িয়াদহ নাট্যপীঠ' এর 'খবর কী' নাট্য দুটি পরিবেশিত হয়। তৃতীয় দিন অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল উপস্থাপিত হয় 'বহরমপুর রণ নাট্যসংস্থা'র 'চামচা' এবং 'তেহট্ট লালন' এর 'চক্রব্যূহ' নাট্য দুটি। তৃতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন 'কল্যানী নাট্যচর্চা কেন্দ্র' এর নির্দেশক কিশোর সেনগুপ্ত এবং মাটিয়ারীর মত একটা প্রত্যন্ত গ্রামে এত সুন্দর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তিনি। নাট্য উৎসবের অন্তিম দিন অর্থাৎ ৫ মে পরিবেশিত হয় তিনটি নাট্য - 'কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন' এর 'আদাব', 'মাটিয়ারী ইচ্ছেপাখি'র নিজস্ব প্রযোজনা 'ঢাকের বাদ্যি' এবং 'বিভাবন কলকাতা'র 'দূরতর দ্বীপ'। উৎসবের প্রত্যেকটি দিন ৪০ জন করে দর্শক নাট্যগুলি উপভোগ করেছেন এবং প্রায় সবকটি নাট্যকে ভূয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে তুলেছেন। উল্লেখ্য, 'মাটিয়ারী ইচ্ছেপাখি' ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে প্রতি মাসের একটি করে রবিবার অন্তরঙ্গ নাট্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে আসছে। এখনো পর্যন্ত মোট ২৫ টি নাট্য পরিবেশিত হয়েছে অন্তরঙ্গ নাট্যগৃহ 'নীড়'এ এবং প্রত্যেকবারই দর্শকাসন ছিল পূর্ন।





রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

অন্তরঙ্গ নাট্য চর্চা কেন্দ্র'র ৫ম বর্ষ উদযাপন

২০১৯ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল অন্তরঙ্গ নাট্য চর্চা কেন্দ্র জোড়াবাগানে,রবিরূপ মণ্ডপে।তারপর এই পাঁচ বছরে বিভিন্ন সময়ে এই অন্তরঙ্গ নাট্য চর্চা কেন্দ্র থেকে হয়েছে  অন্তরঙ্গ নাটকের কর্মশালা, নাটকের উৎসব। 

এ বছর ব্ল্যাক বক্স,থিয়ে এপেক্স দমদমে গত এপ্রিল মাসে দেবাশিস রায় (নাট্য নির্দেশক)এর সাথে কর্মশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "মুক্তধারা" নাটক নিয়ে  আলোচনা শুরু হয়। সম্পাদনা করেন বিদিশা (বিদিশা সেন) ও অমিত (অমিত মন্ডল) তারা "মুক্তধারা" থেকে তৈরি করেন মুক্তধারা (In search of our time)। যেখানে রবীন্দ্র ঠাকুরের "মুক্তধারা"নাটক থেকে ওরা জুড়ে নেয় বাদল সরকার রচিত "বীজ" নাটক থেকে অংশবিশেষ।

মুক্তধারা' (১৯২২) নাটকের পূর্বপরিকল্পিত নাম ছিল ‘পথ'। 'পথ' নামটি পরবর্তীকালে পরিত্যক্ত হলেও এটি নামকরণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পথের ওপরেই নাটকটি অভিনীত হয়েছে। মানুষ পথে নেমেছে। কারুর পথচলা আদর্শ অনুযায়ী, কেউ বা পথে নেমেও অন্ধকারে পথ হাতড়ে মরে। পথের গোলকধাঁধায় তারা হতকচিত। এক পথের পথিক বিভূতি, যন্ত্র সভ্যতার রথে চড়ে সে পথে বার হয়েছে। আর এক পথের পথিক অভিজিৎ ধনঞ্জয় বৈরাগী— তারা কল্যাণের পথ আবিষ্কারে রত। এই দুই পথের সংঘর্ষই নাটকটির মূল বক্তব্য। পথই তো মানুষের জীবনকে নির্দিষ্ট করে। যে পথে বার হয়নি সে জীবনকে জানে না। পথের সাহায্যেই মানুষ লক্ষ্যে উপনীত হয়। এ নাটকের দুই পথিকের সংঘর্ষে জীবনের পথের সন্ধান পাওয়া যায়।অন্যদিকে  বাদল সরকার "বীজ"(১৯৭২) নাটকটিতে মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতার মাঝে স্বপ্ন দেখেন মুক্তির। 

বিভাবন এর "মুক্তধারা-in search of our time" আজ ২০২৪ সালে চলমান এই সময়কে বুঝতে চেয়েছে এই নাটকের অবলম্বনে, যা তৈরি হয়েছে চারপাশের এই সময়ের সাথে।এসে পড়েছে সুজন,নাসিমা,যাদের হয়ত কিছুই নেই কিন্তু আছে বেঁচে থাকার ইচ্ছে ।প্রতিকুল অবস্থায় তারা বুঝতে চায় মানুষের বেঁচে থাকার মানে, পথ খোঁজে তারা ,মানুষের মুক্তির। 

গত ৭ই আগস্ট অন্তরঙ্গ নাট্য চর্চার৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুরুতে তারা সম্মাননা জানান  ইফটা নাট্য দলের  নির্দেশক  শ্রী দেবাশিস দত্তকে, তারপর অন্তরঙ্গ নাটকের উপর আলোচনা করেন মনোজিৎ মিত্র (নির্দেশক রঙ্গশীর্ষ) ও সঞ্জয় চক্রবর্তী (নির্দেশক চক্রবাক) এবং উপস্থাপিত হয় মুক্তধারা (In search of our time). দর্শকের ভাল লাগা তৈরি করে এই নাটক । 

বিভাবন  প্রায় তিন দশক অন্তরঙ্গ নাটক নিয়ে কাজ করছেন তারা। এই অন্তরঙ্গ নাট্য চর্চা কেন্দ্র'র ভাবনা তাদের নিজেদের চর্চা কে আরো একটু বিস্তারিত ভাবে দেখার চেষ্টা।এই প্রজন্মের ছেলে/মেয়েরা অন্তরঙ্গ নাটকে উৎসাহিত হচ্ছে আগের থেকে অনেক বেশি।এটা ভাল লাগার।আগামীতে এই চর্চা আরো অনেক বিস্তার হোক এটাই চাই আমরা।


অভিনয়ে  ছিলেন : অমিত মন্ডল,বিদিশা সেন, সৌমেন মান্না , সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়াসা চক্রবর্তী, শ্রেয়া ব্যানার্জি, পবিত্র মন্ডল, পরিমল মন্ডল। নির্দেশনা:বিদিশা সেন নির্দেশনা সহযোগী :অমিত মন্ডল। কৃতজ্ঞতা: দেবাশিস রায় ,দেবাশিস দত্ত ও থিয়ে এপেক্স,দক্ষিণ দমদম পৌরসভা।






বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার আয়োজনে ২য় বর্ষ ঐক্য নাট্যোৎসব ২০২৪

 প্রতিটি মুহুর্তে নাটকই সমাজের দর্পন হয়ে উঠেছে। ব্যতিক্রমী আয়োজনে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন বারবার প্রচেষ্টায় রত। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার আয়োজনে ২য় বর্ষ ঐক্য  নাট্যোৎসব ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১০ই আগস্ট  ২০২৪, শনিবার নৈহাটি ঐকতান প্রেক্ষাগৃহে থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায়। সহযোগী নাট্যদল ছিল নৈহাটি আরশি ও কলকাতা শেমুশি। অতিথি বরণের মাধ্যমে শুভ সূচনা হয় অনুষ্ঠানের।। উপস্থিত ছিলে নাট্যকার ও নাট্য গবেষক ড. অপূর্ব দে মহাশয়, মূকাভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, ভাবনা থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক শ্রী অভীক ভট্টাচার্য মহাশয়, নাট্যকার শ্রী সৌমেন পাল মহাশয়। অতিথিদের বরন করা হয়  স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে‌। সুদক্ষ সঞ্চালক কৃষ্ণ বর্মন মহাশয় সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তার সুমধুর কন্ঠে ভরিয়ে রেখেছিল সকলকে। অনুষ্ঠান ভরা ছিল ৩টি নাটকে  কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা প্রযোজিত ও রাজা দে নির্দেশিত সাদত হাসান মান্টো'র গল্প আশ্রিত তুষার দে রচিত ❝পঞ্চমীর চাঁদ❞। যা মানুষের মন জয় করেছে বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের ভংঙ্কর রূপ তুলে ধরেছে সকলের সামনে। 



দ্বিতীয় দর্শনে নৈহাটি আরশি প্রযোজিত কৌশিক গোস্বামীর নির্দেশনায় নাটক ❝রাজার পৃথিবী❞, এবং তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দর্শনে ছিল কলকাতা শেমুশি  প্রযোজিত ও সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের  নির্দেশনায় ❝পাগলা হাওয়া❞। তিনটি নাটকই দর্শকের মন জয় করে।   সব মিলিয়ে শিল্প সাক্ষাৎ প্রমাণ করলো মানুষের সাথে মানুষের টান আর আপ্রাণ চেষ্টা। আয়োজক সংস্থার কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝এলাকার সকল দলের মধ্যে ঐক্য তৈরী করতে এবং শিল্প-সংস্কৃতি পরিধি বৃদ্ধিতেই এই উদ্যোগ। ২য় বর্ষ ঐক্য নাট্য উৎসব  মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে  ❞ । তাদের এই সুপ্রচেষ্টাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখি এই সাংস্কৃতিক যাত্রা জারি রাখুক হাজার বছর।