রাজা দে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের সমকালীন থিয়েটার জগতের এক উজ্জ্বল ও প্রতিশ্রুতিশীল নাম। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই তরুণ পরিচালক খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর অভিনব ভাবনা, নান্দনিক মঞ্চচিন্তা এবং সাহসী উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। শৈশব থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রাজা দে ইতিমধ্যেই অসংখ্য মঞ্চে কাজ করে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার একাধিক থিয়েটার দলে একসাথে পরিচালক, অভিনেতা, কোরিওগ্রাফার এবং মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। 'যদিও সন্ধ্যা' নাটকের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। তাঁর নির্দেশনায় মঞ্চস্থ বিভিন্ন প্রযোজনা যেমন— ‘পঞ্চমীর চাঁদ’, ‘ফিনিক্স’, ‘প্রেম বিচিত্র বস্তু’, ‘চন্দ্রলব্ধা’, ‘আমার আমি', মেশিনের কান্না’, ‘ফেসবুকে কেলেঙ্কারি’, ‘পরশ্রীকাতর’, ‘ছাত্রের পরীক্ষা’, ‘মিছিল’, ‘জুতো আবিষ্কারের পরে’, ‘স্বর্গরম’, ‘রসময়ীর রসিকতা’, ‘পরিবেশের আত্মকথা’, ‘আদাব’, ‘চমচম কুমার’, ‘জীবনের জন্য’, ‘পরিবেশ পরিচিতি’, ‘অন্ত্যেষ্টি সৎকার’, ‘মে দিবসের ডাক’ ইত্যাদি — ইতিমধ্যেই নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।রাজা দে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে করে চলেছেন। CCRT, MINISTRY OF CULTURE, GOVT OF INDIA প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় জুনিয়র স্কলারশিপ এর স্কলার হিসাবে ২০২২ সালে নৈহাটি রেড লাইট এরিয়ার শিশুদের নিয়ে থিয়েটার ডেভলপমেন্ট এর কাজ করেছেন দু বছর। এ সময়ের এক নবীন অথচ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচালক হিসেবে রাজা দে কাজ করে চলেছেন।সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার তুষার রায়ের রচনায়, সাদাত হাসান মান্টো'র বিখ্যাত গল্প ‘খোল দো’ অবলম্বনে নির্মিত ‘পঞ্চমীর চাঁদ’ প্রযোজনায় কাজ করে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই প্রযোজনায় মান্টোর তীব্র মানবিক সংকট, বিভাজনের নির্মমতা এবং অন্তর্লীন যন্ত্রণা— সবকিছুকেই তিনি এক অভিনব, শৈল্পিক ও গভীরভাবে স্পর্শকাতর ভঙ্গিতে মঞ্চে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ‘পঞ্চমীর চাঁদ’ প্রযোজনায় তাঁর মঞ্চভাষা, আলোকসজ্জা, দেহভঙ্গি ও আবহসংগীতের ব্যবহারে যে সৃষ্টিশীলতার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা সমকালীন থিয়েটারচর্চায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেই মনে করছেন অনেক নাট্যবিশেষজ্ঞ। মান্টোর ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি যে ভিজ্যুয়াল ও আবেগঘন উপস্থাপনার আশ্রয় নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। সব মিলিয়ে, রাজা দে এই সময়ের এমন একজন উদীয়মান পরিচালক, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলা থিয়েটারের মানচিত্রে এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। তাঁর থিয়েটারের ধারা অব্যাহত থাকুক। আগামীর জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

