শিল্প ও সংস্কৃতি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের কাছে শিল্পই প্রধান, আর সেই কারণেই বাংলার শিল্পচর্চার ধারক হিসেবে নাটকের ভূমিকা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ১৫ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এক ঘরোয়া বৈশাখী আড্ডার আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ‘থিয়েটার মগজ’ পত্রিকা। পুরাতনের অবসান ও নতুনের সূচনাকে কেন্দ্র করে বৈশাখের আগমনকে স্বাগত জানাতে এই আয়োজন ছিল একান্তই আন্তরিক ও অংশগ্রহণমূলক।
ছোট থেকে বড় সকলের উপস্থিতিতে, রং, তুলির ছোঁয়া, কলমের রেখা এবং সাদা লাল পারের শাড়ি,গামছা এবং হাতপাখা কুলোয় বাঙালির ঐতিহ্যে সেজে ওঠে আড্ডার পরিবেশ। কচিকাঁচাদের কবিতা, গান ও নৃত্যের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় এক উচ্ছ্বল আবহ। খুদে সদস্য গোবিন্দ ও নীলুর পরিবেশনায় মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। দলের ছোট্ট সদস্য গুঞ্জা এবং অন্যতম সদস্যা বর্ণালীর তাল-লয়-ছন্দে সন্ধ্যা ক্রমে গভীরতা পায়।
অনুষ্ঠানে পূজা কুন্ডুর কবিতা পাঠ এবং তনুশ্রী দাসের আবৃত্তি পরিবেশনে শৈল্পিক আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়। বৈশাখের আহ্বানে দলের সদস্য-সদস্যাদের ছড়া, কবিতা, গান ও নাচে জমে ওঠে পুরো আয়োজন। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে সকলেই মেতে ওঠেন আনন্দলোকে, আর সমবেত সংগীতে নতুন বছরের আগমনকে জানানো হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা।
নৈহাটি উৎসুকের রূপা দালাল দেবনাথের সংগীত পরিবেশন এবং কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের ব্রজগোপাল কর্মকারের তালবাদ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত ছিলেন নৈহাটি উৎসুকের কর্ণধার নবীন রায়, যিনি নিজেও সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন।
সংস্থার কর্ণধার রাজা দে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং একটি মনোমুগ্ধকর কবিতা পরিবেশন করেন এবং জানান - ❝সব মিলিয়ে, ঘরোয়া আয়োজন হলেও এই বৈশাখী আড্ডা ছিল আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং শিল্পের এক সুন্দর মিলনমেলা, যা উপস্থিত সকলের মনে এক বিশেষ আবেগের ছাপ রেখে যায় সবসময়।❞