সমস্ত ঝড়ঝাপ্টাকে পিছনে ফেলে ১-২ করে দেখতে দেখতে ১০ টা বছর। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির আর্থিক সহায়তায় কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা আয়োজন করলো নাট্য উৎসব ২০২৫ সাক্ষী থাকলো এলাকাবাসী এক শৈল্পিক প্রচেষ্টার এবং একতার। শিল্পকলায় সেজে উঠল প্রাঙ্গন। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার নাট্য উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২৭ শে মে থেকে ২৮ শে মে ২০২৫ পর্যন্ত রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাঙ্গণে থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায়। ২৭ শে মে উপস্থিত সকল অতিথিবর্গরা গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে ও নৃত্যবালু নৃত্য প্রতিষ্ঠানের নৃত্য শিক্ষিকা অর্পিতা দাসের উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় । দলের সদস্যদের ভাবনায় মঞ্চসজ্জা ছিল আকর্ষণীয়। দুদিনের উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য গবেষক, নাট্যকার ড. অপূর্ব দে, অভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী সুদীপ্ত দত্ত , অভিনেতা ও নাট্যকার শ্রী দীপক নায়েক, অভিনেতা নির্দেশক দেবাশীষ সরকার, নাট্যকার সৌমেন পাল, ইলোরা নাট্যদল এবং ইলোরা নাট্যপত্রের সম্পাদক মলয় ঘোষ, নাট্যকার মানবেন্দ্র মজুমদার । সঞ্চালক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী প্রদীপ সরকার ও শ্রী শোভন ঘটক মহাশয়। অনুষ্ঠান ভরা ছিল অনেকগুলি নাটকে। প্রথমদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সদস্যদের হাতে তৈরী করা স্মারক এবং উত্তরীয় দিয়ে অতিথিদের সম্মানিত করা হয়। প্রথমদিন ছিল দুটি নাটক ও একটি সেমিনার। সেমিনারের বিষয় ছিল - ❝থিয়েটার চর্চায় অভিভাবকদের ভূমিকা❞। বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য গবেষক, নাট্যকার ড. অপূর্ব দে, অভিনেতা ও নির্দেশক শ্রী সুদীপ্ত দত্ত , অভিনেতা ও নাট্যকার শ্রী দীপক নায়েক। তাদের বক্তব্য সকল দর্শকদের সমৃদ্ধি করেছে। দীর্ঘদিনের নাট্যদল নৈহাটি পঞ্চবেদের কর্ণধার অভিনেতা নির্দেশক মৃত্যঞ্জয় আচার্য্যকে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা সম্মানিত করে। তারপর বাকসা ব্রাত্য নাট্যজনের নাটক সুজিত বোসের নির্দেশনায় ❝ভুল স্বর্গ❞ এবং কাঁকিনাড়া কলবিতানের নাটক মলয় সাহার নির্দেশনায় ❝সেলফোন❞ নাটক দুটি মঞ্চস্থ হয়। যা দর্শক গ্রহণ করে সাদরে। দ্বিতীয়দিনেও গাছে জল প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এবং গুণীজন সম্বর্ধনা হয়। তারপর একে একে তিনটি নাটক প্রদর্শিত হয়। মাটিয়ারি ইচ্ছেপাখীর নাটক সুজিত কুমার দাস নির্দেশিত ❝আগুন পাখি❞, কাঁচরাপাড়া ফিনিকের কনক মুখার্জি নির্দেশিত ❝বলাই❞ নাটকটি পরিবেশিত হয় এবং মৃত্তিকা মালাকার গানে ভরে তোলে তালে ছন্দে এই প্রাঙ্গণ। সর্বশেষ নিদর্শন কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা সাদাত হাসান মান্টো'র গল্প অবলম্বনে বাংলাদেশের নাট্যকার তুষার রায় রচিত ও দীপক নায়েক সম্পাদিত রাজা দে নির্দেশিত ❝পঞ্চমীর চাঁদ❞ নাটকটি মঞ্চায়ন হয়। দর্শক সবকটি নাটকটি গ্রহণ করে। প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে করতালিতে। দর্শক ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে শিল্প প্রমাণ করলো মানুষের সাথে মানুষের টান আর আপ্রাণ চেষ্টা। দলের কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝প্রতিবারের চেষ্টা থাকে মানুষের অনুষ্ঠান, মানুষের জন্য অনুষ্ঠানে মানুষরা যাতে নিজেদের একাত্ম করে আর এভাবেই শিল্পের থিয়েটারের প্রসার ঘটবে নাট্য উৎসবের মাধ্যমেই❞ তাদের এই সুপ্রচেষ্টাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখি এই সাংস্কৃতিক যাত্রা জারি থাকবে বছর বছর।

