বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সোদপুর ক্যানভাস থিয়েটারের নবতম প্রযোজনা "মন চুরি"

জন্ম থেকে মৃত্যু এক অবিরাম পথচলা। যে পথচলার মধ্যেই তৈরি হয় প্রেম, ভালোবাসা নানান সম্পর্ক। সময় জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলে তার নির্দিষ্ট ছন্দে, যে ছন্দের মধ্যেই মানুষের বয়স বাড়তে থাকে। অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধের ঘেরাটোপে সেই তৈরি হওয়া সম্পর্কগুলো নতুন রূপ পায়। তৈরি হয় নাটকীয় ঘাত প্রতিঘাত। সাহিত্য সংগীত বা নাটক জীবনের এই ওঠাপড়ার কাহিনী থেকেই খুঁজে নেয় নিজেদের রসদ। যে কাহিনীর পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকে অনুভূতি, যে কাহিনী মঞ্চস্থ হয় মঞ্চে, যেখানে আবহ মঞ্চসজ্জা, আলো - সবকিছুই ঘটনার বাস্তবকে আরও স্পষ্টভাবে, জীবন্তভাবে চোখের সামনে তুলে ধরে। ক্যানভাস থিয়েটারের এই প্রযোজনা "মন চুরি"। 

আলোয়, গানে, অভিনয়ের নিপুণতায় মিষ্টি বন্ধুত্বের গল্প বলে যায়। নাটকের শুরুতেই একদিকে অঞ্জন দত্তের গলায় 'আমি বৃষ্টি দেখেছি' আর অন্যদিকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির রাত কেমন একটা আমেজ তৈরি করে দেয়। আর এই বৃষ্টির রাতেই নাটকের এক চরিত্র অনিরুদ্ধ, যে কিনা পেশায় চোর, ঢুকে পড়ে আরেক চরিত্র বিক্রমের বাড়িতে। বাড়ি বলতে কলকাতার বাড়ি, কারণ বিক্রম আদতে প্রবাসী বাঙালি, Florida র art college এ পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের রুটিনমাফিক বিক্রম এইদিনও বাড়িতে ফোন করে খবর নিতে; আর অন্ধকার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে আচমকা ফোনের আওয়াজে ঘাবড়ে গিয়ে ফোন তুলে ফেলে অনিরুদ্ধ। এই প্রথম আপাতভাবে অপরিচিত নাটকের এই দুই চরিত্রের আলাপ হয়। ফোনালাপ যত এগোতে থাকে তত দর্শকের সামনে উঠে আসে তাদের ব্যক্তিগত জীবন, ওঠাপড়া, প্রেম, ভালোলাগা। আলোর কারিকুরিতে মঞ্চের দুইপ্রান্তে যেন দুই গোলার্ধ তৈরি হয় - একদিকে Florida আর অন্যদিকে কলকাতা। আর এই দুই গোলার্ধে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি চরিত্র গোটা নাটক জুড়ে যেন ধীরে ধীরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। এই দুই চরিত্র ছাড়াও নাটকের আরেক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল ইতু। কিন্তু এই ইতুর উপস্থিতি নাটকে কীভাবে ঘটে আর কীভাবেই বা ইতুর হাত ধরে অনিরুদ্ধ আর বিক্রমের জীবনের সমীকরণ এক এক করে মিলে যায় সেটা জানতে হলে ক্যানভাসের এই প্রযোজনা হলে গিয়ে একবার চাক্ষুষ করতেই হয়। 

অনিরুদ্ধের চরিত্রে মৃগাঙ্ক এবং বিক্রমের চরিত্রে সৌভিকের অভিনয় তাদের দক্ষতার যথেষ্ট প্রমাণ দেয়। পাশাপাশি live music র ব্যবহার প্রযোজনাটিতে অন্য মাত্রা যোগ করে - সৌগতার গান আর সাথে রাজদীপের গিটার নাটক জুড়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। আলো প্রক্ষেপনে বিক্রমজিৎ আর আবহ প্রক্ষেপণে সৌমিক ও নিজেদের ভূমিকায় যথাযথ‌। আর সবশেষে আলোয়-গানে-মজায়-ভালোবাসায় ভরা এই একঘন্টার 'full entertainment package' যা কিনা OTT, Web Content এর যুগেও তরুণ প্রজন্মকে সফলভাবে হলমুখী করে তোলার ক্ষমতা রাখে - তা নিমার্ণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেই হয় নির্দেশক প্রিয়ম বোসকে। সবমিলিয়ে একঘেয়েমির জীবনে হঠাৎ একটু মন ভালো করে দিতে ক্যানভাস থিয়েটারের 'মনচুরি' র কিন্তু জুড়ি মেলা ভার।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন