শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

ক্ষমতার দম্ভে সাফল্যের লড়াই, ‘রক্তচন্দ্রিমা’

উচ্চাকাঙ্ক্ষা যখন আদর্শের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার অভিঘাত আর শুধু একজন মানুষের জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার আঁচ এসে লাগে সম্পর্ক, শিল্পীসত্তা, এমনকি আত্মপরিচয়েও। শেক্সপিয়রের ‘ম্যাকবেথ’-এর এই চিরন্তন দ্বন্দ্বকেই সমকালীন পরিসরে নতুন করে দেখার চেষ্টা করেছে সাউথ গরিয়া আনন্দ মহল থিয়েটার গ্রুপের নতুন প্রযোজনা ‘রক্তচন্দ্রিমা’। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্ত অঙ্গন রঙ্গালয়ে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন সম্পন্ন হল।

সব স্বপ্নের পিছনে কি থাকে সাফল্যের আলো? নাকি সেই আলোর আড়ালেই ধীরে ধীরে জমতে থাকে অন্ধকার? ‘রক্তচন্দ্রিমা’ মূলত সেই অন্ধকারের দিকেই তাকায়। শেক্সপিয়রের ‘ম্যাকবেথ’-কে সূত্র হিসেবে গ্রহণ করলেও নাটকটি তার অনুসরণে আটকে থাকে না। রাজনীতি, ক্ষমতা কিংবা রাজসিংহাসনের বদলে এখানে উঠে আসে থিয়েটারের মঞ্চ, একজন শিল্পীর আদর্শ এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারীর আকাঙ্ক্ষা। ফলে ‘ম্যাকবেথ’ এখানে কাঠামোগত আধার মাত্র; আসল কথাটি সমকালের—শিল্প, সাফল্য এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংঘাত।

নাটকের অন্যতম শক্তি তার অভিনয় এবং নির্দেশনা। নির্দেশনার দায়িত্বে সৌরভ মুখোপাধ্যায়, সহকারী নির্দেশনায় ইন্দ্রানী পাল। নির্দেশনার পাশাপাশি দু’জনের অভিনয়ও নাটকটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কেন্দ্রীয় চরিত্রে সৌরভের অভিনয়ে আদর্শবাদী শিল্পীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ধরা পড়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় তাঁকে ছাপিয়ে গিয়েছেন সুরভি দত্ত। চন্দ্রিমা চরিত্রে তাঁর অভিনয় নাটকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। লেডি ম্যাকবেথের আদল থেকে নির্মিত হলেও চরিত্রটিকে নিছক অনুকরণে আটকে না রেখে নিজের স্বাতন্ত্র্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুরভি। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছাকে তাঁর অভিনয় বেশ দক্ষতার সঙ্গে বহন করেছে। ফলে চন্দ্রিমাই ধীরে ধীরে নাটকের ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়।

আহেলির চরিত্রে ইন্দ্রানী পালের অভিনয়ও সংযত এবং বিশ্বাসযোগ্য। অন্য দিকে, তুলনায় ছোট পরিসরে রনজয়ের চরিত্রে সায়নদীপও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। চরিত্রগুলির পারস্পরিক টানাপোড়েনই নাটকের নাটকীয়তা তৈরি করে এবং অভিনয় সেই দ্বন্দ্বকে যথেষ্ট জোরালো করে তুলেছে।

তবে ‘রক্তচন্দ্রিমা’র সাফল্য শুধু অভিনেতাদের উপর নির্ভরশীল নয়। নেপথ্য নির্মাণও নাটকটির আবহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অর্ক মুখোপাধ্যায়ের আবহ-নির্মাণ সংলাপের বাইরে নাটককে একটি পৃথক ভাষা দিয়েছে। শব্দের ব্যবহার কখনও দৃশ্যের উত্তেজনা বাড়িয়েছে, কখনও চরিত্রের অন্তর্লোককে স্পষ্ট করেছে। সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়ের আলোক পরিকল্পনাও মঞ্চের আবহ তৈরিতে কার্যকর। আলোর প্রক্ষেপণে তৈরি হয়েছে নাটকীয়তা, যদিও সীমিত পরিসরের মঞ্চে আলোর সম্ভাবনা আরও খানিকটা বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।

অল্প আয়োজনের মধ্যেও মঞ্চ নির্মাণ দৃষ্টিনন্দন। এখানে জাঁকজমকের বদলে প্রয়োজন ও নাট্যভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ‘রক্তচন্দ্রিমা’ একটি পরিচিত শেক্সপিয়রীয় দ্বন্দ্বকে সমকালীন থিয়েটারের ভিতরে এনে নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাফল্যের জন্য শিল্পী কতটা দূর যেতে পারেন, আর সেই পথ পেরোতে গিয়ে কী হারিয়ে ফেলেন—নাটকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত সেখানেই। আনন্দ মহল থিয়েটার গ্রুপের এই প্রযোজনা সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়ে দর্শককে তার সামনে দাঁড় করাতেই বেশি আগ্রহী।



শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ড্রাফার পারফর্মিং দলের নাট্য সন্ধ্যা

     গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬, দমদম থ্রিয়ে এপেক্সে মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ড্রাফার পারফর্মিং গ্রুপের এক নাট্য সন্ধ্যা। যেখানে ছিল নাট্য বিষয়ক আলোচনা সভা, ১০টি পত্রিকার প্রতিনিধিকে সম্মাননা জ্ঞাপন ও তাদের নব নির্মিত নাটক 'রাতের হাভেলি'র প্রদর্শন। আলোচনা সভার বিষয়বস্তু ছিল "নতুন দর্শক নির্মাণে নাট্যদল গুলির দায়বদ্ধতা" এবং এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন দুই নাট্য ব্যক্তিত্ব মলয় ঘোষ ও দেবযানী মুখার্জী। উভয় বক্তাই নতুন দর্শক নির্মাণে নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা কে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।


    
এরই পাশাপাশি এই দিনে ড্রাফার পারফর্মিং গ্ৰুপ তাদের নবনির্মিত নাটক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণ রচনা অবলম্বনে ও কৌশিক ভট্টাচার্যের নির্দেশনা এবং সামগ্রিক ভাবনায় নির্মিত নাটক 'রাতের হাভেলি' উপস্থাপিত করেন।নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল এক রহস্যে ঘেরা সময়ের প্রেক্ষাপট। সকল অভিনেতা ও অভিনেত্রী খুবই দক্ষ ও যত্নশীলতার সাক্ষ্য রাখতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। বিশেষভাবে বলতে গেলে দাসীর ভূমিকায় অভিনেত্রী দেববানী চক্রবর্তী, করিম খাঁ এর ভূমিকায় বিশ্বজিৎ রায় ও মেহের জানের ভূমিকায় সুপর্ণা গুপ্ত বিশ্বাস অন্যতম প্রশংসার দাবি রাখতে সক্ষমতা অর্জন করেছেন। এই নাটকটিতে আলো ও শব্দের প্রয়োগ নাটকটিকে অন্য মাত্রায় রুপদানে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে। 



আগামীতে এই প্রযোজনাটির ও ড্রাফারের কর্মকাণ্ড আরো বৃহত্তর ভাবে শ্রী বৃদ্ধি ঘটবে এই শুভ কামনা রাখি পত্রিকার পক্ষ থেকে।

ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশন (ইকো)-র একুশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

     গত ২৪শে আগস্ট গান্ধী সেবা সংঘের মানিক্য মঞ্চে সাড়ম্বরে উদযাপিত হল ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশন (ইকো)-র একুশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।



    নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় সংগঠনের বর্তমান সম্পাদক শ্রীমতী রঞ্জিতা মুখার্জীর সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর সংগঠনের শুরুর দিনের স্মৃতিচারণা করেন প্রবীণ সদস্য শ্রী উৎপল ঘোষ ও শ্রী বাসুদেব ঘোষ। একটি সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার সেই কঠিন অথচ আবেগঘন দিনগুলোর কথা শুনে উপস্থিত দর্শকমণ্ডলী সহর্ষে ও সানন্দে প্রতিক্রিয়া জানান। শ্রী উৎপল ঘোষের কণ্ঠে রবীন্দ্র কবিতার আবৃত্তি অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এরপর মঞ্চ আলোকিত করেন ই-কয়ারের শিল্পীরা। সুরজিৎ মিত্র ও শান্তা ঘোষের সুদক্ষ পরিচালনায় সমবেত কণ্ঠে একের পর এক জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি গানের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শক-শ্রোতারা।


    এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইকো-র সকল সদস্য মঞ্চে উপস্থিত হন। পরিবেশিত হয় ইকো-র জন্মদিনের বিশেষ গান, যার রচনা ও সুরারোপ করেছেন শান্তা ঘোষ। দর্শক-শ্রোতারাও কণ্ঠ মেলান সেই গানে। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত ও সোৎসাহ অংশগ্রহণে প্রেক্ষাগৃহে তখন উৎসবের আমেজ। মঞ্চের উপরেই কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এরপর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আবৃত্তি পরিবেশন করেন লোপামুদ্রা সরকার। শান্তা নন্দীর পরিবেশিত নৃত্য সকলের প্রশংসা কুড়োয়।

    এই সন্ধ্যার অন্তিম আকর্ষণ ছিল ইকো-র নতুন প্রযোজনা - মোহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত ও ধনঞ্জয় আঢ্য পরিচালিত নাটক 'অক্টোপাস লিমিটেড'। পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে শিল্পীরা অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় নাটকটি মঞ্চস্থ করেন। মজার দৃশ্যগুলিকে অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন বিবেকানন্দ ঘোষ, শিবশংকর দাস ও কাশীনাথ কোলে। চরিত্র উপযোগী অভিনয়ে দর্শকদের মন জয় করেন কাকলি রায় ও দীপায়ন সাহা।



    সমগ্র অনুষ্ঠানের ভাবনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শ্রী ধনঞ্জয় আঢ্য এবং সাবলীল সঞ্চালনায় ছিলেন মধুমিতা মোদক।

বাকসা ব্রাত্য নাট্যজনের ২৭তম জন্মদিন পালন

     গত ২৫শে আগষ্ট বাকসা ব্রাত্য নাট্যজন তাঁদের নিজস্ব মহলা কক্ষে এক মনোরম এবং ছিমছাম পরিবেশে গান আবৃত্তি ও নাটকের মাধ্যমে পালন করলেন ২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ।


   প্রারম্ভিক বক্তব্যে পরিচালক সুজিত বোস সংস্থার ইতিবৃতান্ত নিবেদন করেন । সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রী অর্ধেন্দুপ্রসাদ ব্যানার্জি । এরপর আবৃত্তি করে সংস্থার শিশুকিশোর বিভাগের শিল্পীরা এবং মাননীয়া শ্রীমতী দীপা দত্ত । সবশেষে মঞ্চস্থ হয় দলের এ বছরের প্রযোজনা শাহযাদ ফিরদাউস রচিত এবং সুজিত বোস নির্দেশিত নাটক প্রথম ব্যক্তি । বর্তমান সময়ে নারী সুরক্ষা নিয়ে অনেক আলোচনা হয় কিন্তু আসল সমস্যার সমাধানের একটা পথ দেখায় এই নাটক । কেন এই নাটকটি করছেন - প্রসঙ্গে পরিচালকের ব্যাখ্যা একজন নারী তখনই সুরক্ষিত থাকবে যদি পুরুষ সভ্য হয় । পরিবারের পুত্র সন্তান যদি নারীকে সম্মান করতে শেখে, বাইরে বেরিয়ে, রাস্তাঘাটে নারী নিশ্চিন্ত । বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও যেমন সত্যি তেমনি বেশী সত্যি বেটা পড়াও (শিক্ষিত), বেটি বাঁচাও । নাটকে অভিনয় করেছেন সুজিত বোস মানু বোস প্রত্যুষা গাঙ্গুলি স্বাধীন দে বাপি ভট্টাচার্য পুলক পালিত ও সৈকত মালিক । ৪৫ মিনিটের এই ছোট নাটক অনেক বড় বিষয়কে ধরতে চেয়েছে । 


শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নিবেদিত "ডিটেকটিভ দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (DDLJ)"

     পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সহায়তায় নির্মিত সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নিবেদিত "ডিটেকটিভ দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (DDLJ)" নাটকটি মূলত ডিটেকটিভ নাটক। এটি সমসাময়িক সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি এবং ক্লাসিক বলিউড রোমান্সের এক দারুণ রসাত্মক ফিউশন। নাট্ককার ও নির্দেশক মনোজিৎ মিত্র অত্যন্ত চটুল সংলাপে বর্তমান প্রজন্মের 'রিলস' ও 'ইনফ্লুয়েন্সার' সংস্কৃতির ভেতরের ফাঁপা গ্ল্যামারকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

নাটকের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কোটিপতির রূপসী কন্যা ও ড্রামাতিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সিমরানের ১০ লাখ টাকার হিরের নেকলেস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই রহস্যের সমাধান করতে সহকারী পঙ্কজকে নিয়ে হাজির হন রোমান্টিক গোয়েন্দা ডিটেকটিভ বিক্রম, এবং তাদের প্রাথমিক সন্দেহ গিয়ে পড়ে সিমরানের চতুর ও রিলস-পাগল কাজের মেয়ে কাজলের ওপর। তদন্তের মাঝে বিক্রম হিন্দি সিনেমার কায়দায় সিমরানকে পটানোর চেষ্টা করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি নিজে হিরো সেজে প্রপোজ করার জন্য ফুলদানির নিচে একটি নকল নেকলেস লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে আসল টুইস্টে সিমরান প্রকাশ করেন যে তিনি আয়নার প্রতিফলনে বিক্রমের এই কীর্তি আগেই দেখে ফেলেছিলেন এবং আসল অপরাধীকে হাতেনাতে ধরতে একটি লাইভ ভিডিও ট্র্যাপ পেতেছিলেন, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বিক্রমের সহকারী পঙ্কজই আসলে আন্তর্জাতিক চোর 'ব্ল্যাক ক্যাট' এবং সে কাজলের আইডিকে স্মাগলিংয়ের কোড নেম হিসেবে ব্যবহার করছিল। শেষ মুহূর্তে পঙ্কজ বোমার ভয় দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও বিক্রম ফিল্মি কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটকে দেন এবং অবশেষে চোর জুটির জেলের গরাদ কেন্দ্রিক অদ্ভুত প্রেম ও বিক্রম-সিমরানের মধুর মিলনের মধ্য দিয়ে নাটকের একটি হাসির সমাপ্তি ঘটে।

নাটকের মূল শক্তি চরিত্র নির্মাণ: কোটিপতির ড্রামাটিক কন্যা সিমরান, নিজেকে শার্লক হোমস ভাবা রোমান্টিক গোয়েন্দা বিক্রম, চুইংগাম চিবানো চতুর কাজের মেয়ে কাজল এবং বিস্কুটখোর পঙ্কজ—প্রতিটি চরিত্রই মঞ্চে নিজস্ব স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। বুদ্ধিদীপ্ত টুইস্ট: সাধারণ একটি নেকলেস চুরির গল্প যেভাবে একাধিক গোয়েন্দা চাল এবং শেষমেশ একটি আন্তর্জাতিক স্মাগলিং চক্রের (ব্ল্যাক ক্যাট) উন্মোচনে রূপ নেয়, তা দর্শকদের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে বাধ্য করে। অভিনয়ে পৃথা ভট্টাচার্য ও মনোজিৎ মিত্র তাঁদের মান বজায় রেখেছেন। ওনাদের থেকে দর্শক নতুন কিছু পেলেন বলে আমার মনে হয়। কারণ মূলত ওনারা দ্রুপদী অভিনয় করে সবার মন জয় করেছিলেন এতদিন। কমেডিতেও ওনারা সমান পারদর্শী তা প্রমাণিত। প্রীতি চৌধুরী ও চিরঞ্জিত বড়াই খুব ভাল ভাবেই নিজেরদের চরিত্র নির্মাণ করেছেন।

উপস্থাপনা শৈলী: লাইভ স্ট্রিমিং, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল এবং ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার্সের মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে নাটকের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। জিতেন দাসের আলোর ব্যবহার খুব সুন্দর। আবহে ছিলেন অরুণ মিত্র।

দুর্বলতা অতি-নাটকীয়তা: কিছু জায়গায় বলিউডের মেলোড্রামা ও সংলাপের ব্যবহার অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছানোর কারণে মূল রহস্যের গভীরতা কিছুটা হালকা মনে হতে পারে।



সারসংক্ষেপ: টানটান কমেডি টাইমিং এবং চেনা চরিত্রদের এক অদ্ভুত রসায়নের কারণে নাটকটি দর্শকদের ভরপুর বিনোদন দিতে পুরোপুরি সফল। আমাদের চাপে ভরা জীবনে একটি হালকা মেজাজের অথচ চটপটে আধুনিক নাটক হিসেবে এটি অবশ্যই দেখার মতো।



বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

খড়দহ আহিরি নাট্যসংস্থায় দুদিন ব্যাপী মূকাভিনয় কর্মশালা

    মূকাভিনয় শিল্পকে নাট্য অনুশীলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে বিখ্যাত মূকাভিনেতা বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে খড়দহ আহিরি নাট্যসংস্থার রিহার্সাল রুমে ১৭ ও ১৮ জুন ২০২৬, শুক্র ও শনিবার দুদিন ব্যাপী বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে ও আয়োজনে।




    সংস্থার সম্পাদক ও বিশিষ্ট নাট্যকর্মীরা কর্মশালার উদ্বোধন করেন। এদিন বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী করুণা প্রসাদ মিত্র। দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্মারক প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।

    কর্মশালায় মূকাভিনয়ের মৌলিক কৌশল, শরীরী ভাষা, অভিব্যক্তি ও দর্শকের সঙ্গে সংযোগের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী মঞ্চে নীরবতার শক্তি ও চরিত্র নির্মাণ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। কর্মশালার শেষ দিনে একটি সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা তাঁদের শেখা কৌশল মঞ্চে উপস্থাপন করেন। উপস্থিত দর্শক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা সকলের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
    
    অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্বে সকল অংশগ্রহণকারীকে সংস্থার পক্ষ থেকে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। শংসাপত্র প্রদান করেন বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী সহ সংস্থার অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তরুণ শিল্পীদের জন্য এ ধরনের কর্মশালা চলবে।




সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

অন্ জন্ দাশগুপ্তের স্মরণসভা

     গত ৭ জুনের বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় রিপন স্ট্রিটের প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে নাট্যকার, নাট্যপ্রশিক্ষক ও নাট্যগ্রন্থকার অন্ জন্ দাশগুপ্তের ১৩তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 



    অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জুন দের সঙ্গীত পরিবেশনায়। তারপর পরিবেশিত হয় তিনটি ভিন্ন স্বাদের নাটক।

    প্রথমে ছিল ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রযোজনা ফ্যাতাড়ু 2.0। নবারুণ ভট্টাচার্যের রচনা থেকে রূপান্তরিত নাটকটি সুনয়নের পরিচালনা ও সঞ্জীব, সুনয়ন শুভজিৎ, শ্রাবণ, পাপিয়া, পৌলমী, শুভ্রা ও বেবির অভিনয়ে দর্শক মন জয় করে নেয়।

    দ্বিতীয় প্রযোজনা কোলকাতা রঙ্গশীর্ষের নাটক অর্পিতা দাশগুপ্তের লেখা 'ঘ্রাণ'। পৃথা ভট্টাচার্যের পরিচালনায় ও মনোজিত-এর একক অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে সমকালীন সমাজের পচা গলা রূপটি।

    সবশেষে ছিল আলোর ফুলকি প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ইঁদুরের ভোজ' গল্পের নাট্যরূপ। আদিত্য ব্যানার্জীর নাট্যরূপ ও পরিচালনায় আটজন (আর্ণ, দেবজ্যোতি, ধ্রুবজ্যোতি, ঋদ্ধি, অনুষ, আয়ুষ, শতদ্রু) কচিকাঁচার অভিনয় সমৃদ্ধ নাটকটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। 

এছাড়া ছিল অন্ জন্ দাশগুপ্তের পরিবার ও প্রাক্তন ছাত্রদের স্মৃতিচারণা।





খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার নাট্য উৎসবের প্রথম পর্ব

  প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খড়দহ আহিরি নাট্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত নাট্য উৎসবের তিন দিনব্যাপী  প্রথম পর্ব অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে সম্পন্ন হলো। গত ২৬ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত পানিহাটি লোকসংস্কৃতি ভবনে এই উৎসবের আসর বসে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে।



উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মুরারিবাবু। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই আহিরির অন্যতম সদস্য নৃত্যশিল্পী সুদর্শনা রায় ঘটকের পরিচালনায় "আবর্তন" এর শিশু শিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা দর্শকমনে আলাদা ছাপ ফেলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আবর্তন নৃত্য গোষ্ঠীর শিল্পীদের কত্থক নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা গোটা হলঘরে উৎসবের আবহ তৈরি করে।

উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ড. অপূর্ব দে, নাট্য সমালোচক দুলাল চক্রবর্তী, মুখাভিনেতা বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, নাট্যকার মানবেন্দ্র মজুমদার এবং নাট্য ব্যক্তিত্ব রাহুল দেবনাথ। প্রত্যেকেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাটকের সামাজিক গুরুত্ব, নাট্যচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—প্রয়াত চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত গুহ রায়ের নাট্য জগতে অবদান বিষয়ক কর্মকাণ্ডর কথা। সেইসঙ্গে তাঁরা বার্তাও রাখেন যে নাটক শুধু বিনোদন নয়, সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার।

সমগ্র নাট্য উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন নাট্য দোলের অনুনাটক ও একাঙ্কনাটকের মেলবন্ধন।  উৎসবের গঠনশৈলী ছিল পরিকল্পিত পরিমার্জিত ও রুচিশীল।

- *প্রথম দিন, ২৬ জুন*: গরলগাছা স্বপ্নসৃজন এর " দেবী "অনুনাটক, ইছাপুর অঙ্কুরের " আঁধি "একাঙ্ক নাটক ও অর্কিড উত্তরপাড়ার " দায় " নাটক মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমিতা দেবী। তাঁর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় গোটা অনুষ্ঠান প্রাণ পায়।
- *দ্বিতীয় দিন, ২৭ জুন*: এদিন দর্শকরা উপভোগ করেন বালী ভেনাস থিয়েটারের অনুনাটক " প্রশ্ন "এবং তিনটি একাঙ্ক নাটক শান্তিপুর উড়ানের " দিশাহীন " আতপুর জাগৃতির " গোলমাল " ও চাঁচল অপাঙ্ক্তেয়, মালদহর " চার অধ্যায় "। বিষয়বৈচিত্র্য ও অভিনয়শৈলীতে প্রতিটি নাটকই ছিল স্বতন্ত্র।
- *তৃতীয় দিন, ২৮ জুন*: উৎসবের শেষ দিনেও একই ধারা বজায় থাকে।  চারটি ভিন্ন ধারার একাঙ্ক একাঙ্ক নাটক যথাক্রমে মণ্ডলাই সার্বজনীন - পাণ্ডুয়া, হুগলীর " চরিত্রবান চোর ", কাল্পনিক হিন্দমোটরের " স্বপ্ননীড় ", ব্যান্ডেল চারনিকের " বিকর্ণ " এবং পানিহাটি অভিযাত্রীর " কী খবর বল " দর্শকদের আবদ্ধ করে রাখে। অনুভূতির বৈচিত্রে শেষ হয় নাট্য উৎসব।

তিন দিন ধরে চলা এই নাট্য উৎসবে নাট্যপ্রেমী মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। প্রয়াত দুই নাট্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করে আয়োজিত এই উৎসব শুধু শ্রদ্ধাজ্ঞাপনই নয়, বরং আগামী দিনের নাট্যচর্চার পথকেও সুগম করল। খড়দহ আহি নাট্য সংস্থার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা দর্শক-শ্রোতাদের। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বার্ষিক কনকরায় স্মৃতি নাট্য উৎসবের জন্যও এখন থেকেই উৎসাহিত নাট্যপ্রেমীরা।



বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের আয়োজনে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী

     গত ৩০ শে মে শনিবার মানিক্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের আয়োজনে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী। ঠিক সাড়ে ছটায় দুই কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শুরু হল অনুষ্ঠান।  সংস্থার সম্পাদক রঞ্জিতা মুখার্জি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন এবং স্বাগত সম্ভাষণ জানালেন।  সকলের প্রিয়, প্রবীণ সদস্য উৎপল ঘোষ দুটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন, চুমকি সুলতা মুখার্জি একটি রবীন্দ্র সংগীত একটি নজরুল গীতি পরিবেশন করলেন। সান্ত্বনা হাজরার কন্ঠে রবীন্দ্রকবিতা আবৃত্তির পর  দীপায়ন সাহা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতিতে সকলকে মুগ্ধ করলেন। এরপর শান্তা ঘোষ ও সুরজিৎ আচার্য মিত্রের পরিচালনায় ইকয়ারের শিল্পীরা সমাবেত কন্ঠে পাঁচটি সংগীত পরিবেশন করলেন। লোপামুদ্রা সরকারের আবৃত্তি ও রঞ্জিতা মুখার্জির সংগীত পরিবেশন উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প তোতাকাহিনী অসাধারণ মুন্সিয়ানায় পাঠ করেন বিবেকানন্দ ঘোষ। শান্তা নন্দীর অপূর্ব নৃত্য পরিবেশন এবং সুরজিৎ আচার্য মিত্র ও অজন্তা কুন্ডু পরিবেশিত একক সংগীত, অনুষ্ঠানকে উচ্চমাত্রা এনে দিয়েছিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাকলি রায় ও মধুমিতা মোদক। 

    


অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মহুয়া চৌধুরীর রচনায় ধনঞ্জয় আঢ্যর নির্দেশনায় গানে কবিতায় অভিনয়ে একটি সুচারু আলেখ্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হল 'রবি মানসে নারী'। অংশ নিলেন উৎপল ঘোষ, শিবশঙ্কর দাস, কাশীনাথ কোলে, সোমা লস্কর, মিতালী দাস, সংঘমিত্রা ব্যানার্জি গোপা গাঙ্গুলী ও মানসী ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের উচ্চ প্রশংসা লাভ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ভাবনা ও নির্মাণে ছিলেন ধনঞ্জয় আঢ্য ও সঞ্চালনায় মধুমিতা মোদক।




বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

নাট্যকর্মশালা ও আলোচনা সভা- আয়োজনে বগুলা সূচনা

 নাট্যকর্মশালা------

৩০শে মে ২০২৬

বগুলা সরোজ মুখার্জি স্মৃতি ভবন।

আয়োজনে সূচনা নাট্যদল বগুলা।


এই প্রজন্মের একজন 

অত্যন্ত বলিষ্ঠ অভিনেতা 

রাজু ধরের সঙ্গে গোটা দিন কাটালো শিক্ষার্থীরা। এবারের নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন যে সমস্ত দলের শিক্ষার্থীরা- হাওড়া অনু্যুগ, কৃষ্ণনগর সিঞ্চন, রাণাঘাট সৃজক, নবদ্বীপ কর্তব্য, নৈহাটি রঙ্গসেনা ও বগুলা সূচনা। এছাড়াও হলদিপাড়া NSCPB হাইস্কুল থেকেও কিছু শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন এই কর্মশালায়। একজন অভিনেতার প্রাথমিক চর্চা ও প্রয়োজনীয় চর্চা কি হতে পারে সেই বিষয়ে পূঙ্খানুপুঙ্খ ক্লাস চলেছে সারাদিন।


সেমিনার--------

বিষয়- মধ্যবঙ্গের লোকনাটক, থিয়েটারে প্রয়োগের সম্ভাবনা।

কথা বললেন শ্রীগৌতম অধিকারী।

৩০শে মে ২০২৬। অন্তরপ্রকাশ নাট্যগৃহ।

আয়োজনে সূচনা নাট্যদল বগুলা।


লোকজ বিভিন্ন শিল্প মাধ্যম এবং তার অযুত সম্ভাবনা নিয়ে থিয়েটার এ বিষয়ে দীর্ঘ ২ঘন্টার আলোচনায় অনেক বিষয় উঠে এল শ্রোতাদের কাছে। দাবী উঠল এমন সেমিনার অন্তরপ্রকাশ নাট্যগৃহে বারংবার আয়োজন হোক। 

আজ অন্তরপ্রকাশ নাট্যগৃহ ছিল শ্রোতা পূর্ণ। আগামীতে এইরকম আরো নাট্যকর্মশালা এবং আলোচনা সভা যাতে আয়োজন করা যায় তার জন্য বগুলা সূচনাকে অনুরোধ রইলো..

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

সামার ক্যাম্প ২০২৬

নিয়মিত নাট্য চর্চায় কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা ব্যতিক্রমী ধারা বজায় রেখে চলেছেন। তেমনই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার উদ্যোগে এবং থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল "সামার ক্যাম্প ২০২৬ " শিশু কিশোর নাট্য কর্মশালা। শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত ১৪, ১৫ এবং ১৬ই মে ২০২৬ রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেয় এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ২০ জন ছাত্রছাত্রী।


কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা রাজা দে এবং পূজা কুন্ডু।সহযোগিতায় ছিলেন নাট্য সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা। নাচ, গান,তাল, ছন্দ,শরীরচর্চা, আবৃত্তি, মজার দলগত খেলা এবং ছোট ছোট নাট্যাংশ তৈরির মধ্য দিয়ে শিশুদের সামনে খুলে যায় অভিনয়ের এক নতুন জগৎ। আনন্দমুখর পরিবেশে শেখা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মশালাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসা। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা জানায়, এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল একেবারেই নতুন ও আনন্দদায়ক। অনেকেই ভবিষ্যতে নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

রাজা দে জানান 

“এই কর্মশালার মাধ্যমে বাচ্চারা অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেল। ওদের ভেতরেও অনেক আগ্রহ ও প্রতিভা রয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। পড়াশোনার পাশাপাশি এই ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।”

সবশেষে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে কলম,ফাইল ও চকোলেট তুলে দেন নাট্য সংস্থার পক্ষ থেকে উপস্থিত সদস্যরা। এই ছোট্ট উপহার যেন ভবিষ্যতের সৃজনশীল পথচলার এক সুন্দর প্রেরণা হয়ে রইল।




বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার বর্ষবরণ ১৪৩৩

     শিল্প ও সংস্কৃতি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের কাছে শিল্পই প্রধান, আর সেই কারণেই বাংলার শিল্পচর্চার ধারক হিসেবে নাটকের ভূমিকা তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করে।



    এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ১৫ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এক ঘরোয়া বৈশাখী আড্ডার আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ‘থিয়েটার মগজ’ পত্রিকা। পুরাতনের অবসান ও নতুনের সূচনাকে কেন্দ্র করে বৈশাখের আগমনকে স্বাগত জানাতে এই আয়োজন ছিল একান্তই আন্তরিক ও অংশগ্রহণমূলক।

ছোট থেকে বড় সকলের উপস্থিতিতে, রং, তুলির ছোঁয়া, কলমের রেখা এবং সাদা লাল পারের শাড়ি,গামছা এবং হাতপাখা কুলোয় বাঙালির ঐতিহ্যে সেজে ওঠে আড্ডার পরিবেশ। কচিকাঁচাদের কবিতা, গান ও নৃত্যের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় এক উচ্ছ্বল আবহ। খুদে সদস্য গোবিন্দ ও নীলুর পরিবেশনায় মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। দলের ছোট্ট সদস্য গুঞ্জা এবং অন্যতম সদস্যা বর্ণালীর তাল-লয়-ছন্দে সন্ধ্যা ক্রমে গভীরতা পায়।
অনুষ্ঠানে পূজা কুন্ডুর কবিতা পাঠ এবং তনুশ্রী দাসের আবৃত্তি পরিবেশনে শৈল্পিক আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়। বৈশাখের আহ্বানে দলের সদস্য-সদস্যাদের ছড়া, কবিতা, গান ও নাচে জমে ওঠে পুরো আয়োজন। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে সকলেই মেতে ওঠেন আনন্দলোকে, আর সমবেত সংগীতে নতুন বছরের আগমনকে জানানো হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা।
নৈহাটি উৎসুকের রূপা দালাল দেবনাথের সংগীত পরিবেশন এবং কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের ব্রজগোপাল কর্মকারের তালবাদ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত ছিলেন নৈহাটি উৎসুকের কর্ণধার নবীন রায়, যিনি নিজেও সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন।

    সংস্থার কর্ণধার রাজা দে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং একটি মনোমুগ্ধকর কবিতা পরিবেশন করেন এবং জানান - ❝সব মিলিয়ে, ঘরোয়া আয়োজন হলেও এই বৈশাখী আড্ডা ছিল আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং শিল্পের এক সুন্দর মিলনমেলা, যা উপস্থিত সকলের মনে এক বিশেষ আবেগের ছাপ রেখে যায় সবসময়।❞




শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বনাট্য দিবস পালন করলেন ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশন

     ইস্ট কলকাতা কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে ২৭ শে মার্চ সাড়ম্বরে বিশ্বনাট্য দিবস উদযাপিত হল শ্রীভূমির মানিক্য মঞ্চে। সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হল। নাট্য দিবসের বার্তা পাঠ করলেন সান্ত্বনা হাজরা এবং বার্তা প্রেরকের পরিচিতি শোনালেন কাকলি রায়। 


    
নাট্য ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রাণী মৈত্রকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। নাটকের উপর সংক্ষিপ্তসারে সুচিন্তিত বক্তব্য পেশ করেন ইন্দ্রাণী মৈত্র। সম্মেলক কন্ঠে চারটি নাটকের গান পরিবেশন করলেন ই-কয়ারের শিল্পীরা। প্রতিটি গানের সঙ্গে তথ্যসূত্র পাঠ অনুষ্ঠানটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। ইরাণের ২৬ বছরের ফাঁসিপ্রাপ্ত তরুণীর মাকে লেখা শেষ মর্মস্পর্শী চিঠিটি সযত্নে পাঠ করে শোনালেন সোমা লস্কর। রবীন্দ্রনাথের সামান্য ক্ষতি কবিতার প্রশংসনীয় নৃত্যায়ন পরিবেশন করলেন শান্তা নন্দী। শব্দশিল্প সাহিত্যপত্রিকার হৈমন্তিকা সংখ্যাপ্রকাশের পর ইকোর নবতম প্রযোজনা স্পর্শ নাটক শিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মঞ্চস্থ করেন নাটকটির রচয়িতা সমীর দাশগুপ্ত পরিচালনা ও সমগ্র নির্মাণে ছিলেন ধনঞ্জয় আঢ্য।