শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

শিল্পাঙ্গনের ৭ম বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৬

     কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা আয়োজিত ও থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায় ৭ম বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৬ সাক্ষী থাকলো বন্ধনের, মিলনের। শিল্পকলায় সেজে উঠল প্রাঙ্গন। বারবার প্রতিকূলতা কাটিয়ে  কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার ৭ম বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১ লা মার্চ ২০২৬, রবিবার রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাঙ্গনে।  সাংস্কৃতিক পদযাত্রার মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় ।  দলের সদস্যদের ভাবনায়  সেজে ওঠে প্রাঙ্গন ও মঞ্চসজ্জা ছিল আকর্ষণীয়। উৎসবে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  নাট্যকার, নাট্য গবেষক ড. অপূর্ব দে, নাট্যকার শ্রী সৌমেন পাল,  নির্দেশক  শ্রী বুদ্ধদেব চক্রবর্তী, অভিনেতা অঞ্জন মজুমদার, কবি সংগীত শিল্পী নাট্যব্যক্তিত্ব অতনু মজুমদার, সঞ্চালক শ্রী শোভন ঘটক, নির্দেশক অভিনেতা শ্রী যোগরাজ চৌধুরী, নাট্যব্যক্তিত্ব সাংবাদিক শ্রী অমিত চক্রবর্তী, তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক শ্রী রাণা দেবদাস, শিক্ষিকা শ্রীমতী লীনা পাঠক। চারা গাছে জল প্রদানের মাধ্যমে গুনীজনদের হাত দিয়েই হয় উৎসবের শুরু। একে একে সুরে নাটকে সন্ধ্যা গাঢ় হয়।  প্রতিবছরের মতো কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা বিশেষ উদ্যোগ নেই ❝জীবন নাট্য সম্মান❞ জানানোর। এবছর নাট্যকার নাট্য গবেষক ড. অপূর্ব দে ও বুদ্ধদেব চক্রবর্তী মহাশয় এবং অভিনেতা নির্দেশক মৃত্যুঞ্জয় আচার্য মহাশয়কে জীবন নাট্য সম্মান জানানো হয় বাংলা নাটকে তাদের অবদানের জন্য।  


    অনুষ্ঠান ভরা ছিল তিনটি  নাটক কবিতা ছন্দে নৃত্য সংগীতের তালে। উদয়পুর হরদয়াল নাগ আদর্শ বিদ্যালয়  প্রযোজিত নাটক ❝সুকুমার সম্ভব❞, কৃষ্ণনগর জীবনের ঐকতান প্রযোজিত নাটক ❝একটু আগুন দে❞ , এছাড়া কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার নিজস্ব প্রযোজনা রাজা দে নির্দেশত ❝কুড়ুল❞। ছিল কথায় কন্ঠে ❝সুকথা❞ শ্রুতি নাটক । নৃত্যে ভরে ওঠে কচিকাঁচাদের ছন্দে মঞ্চ। উপস্থিত ছিল বিভিন্ন নৃত্যের দল ❝নৃত্যবালু❞, ❝নাচের উঠান❞ ও একক নৃত্যে তন্বী রায় পাঠক। সন্ধ্যায় মঞ্চ মাতিয়ে তোলে সংগীত শিল্পী বাপ্পা আচার্য ও ব্রজগোপাল কর্মকার ও অতনু মজুমদার । রাত গাঢ় হতেই কচিকাঁচাদের কন্ঠে গানে মেতে ওঠে ❝নৈহাটি উৎসুক❞ ও ❝সংস্কৃতি❞ সংগীতের দল।  অতিথি বরন করা হয় গাছ, দলের সদস্যাদের হাতে তৈরি স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে‌। ছিল শিল্পী সম্মাননা। প্রতিবারের মতোই বিভিন্ন হস্তশিল্প কুটির শিল্পের রকমারি স্টল বসেছিল প্রাঙ্গন জুড়ে।  সব মিলিয়ে শিল্প সাক্ষাৎ প্রমাণ করলো মানুষের সাথে মানুষের টান আর আপ্রাণ চেষ্টা। সঞ্চালক হিসাবে দক্ষতার প্রমাণ দেয় শ্রী স্মৃতিময় ঘোষ। দলের কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি পরিধি বৃদ্ধিতে এবং নিয়মিত  নাট্য চর্চার  সাথে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। অগুনতি মানুষের ভিড় প্রমাণ করে এখনও শিল্প বেঁচে আছে ❞।  তাদের এই সুপ্রচেষ্টাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখি এই সাংস্কৃতিক যাত্রা জারি রাখুক হাজার বছর।