যখন নাটক মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে মানবিকতার প্রকাশ করে, তখনই তার সার্থকতা। মানুষের মনের গভীরে যে ভয় সৃষ্টি হয়, তা অজ্ঞানতার অন্ধকারের ভয়। তাকে অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য, কিন্তু অসম্ভব নয়। এই বার্তাই দিল দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রীরা, লীলা মজুমদারের রচনা অবলম্বনে সৃষ্ট "সাহসের গান" নাটকে। অধিকাংশই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের এই সফল উপস্থাপনা আবার প্রমাণ করল সঠিক তত্ত্বাবধানে থাকতে পারলে শিশুরা প্রত্যেকে স্ফুলিঙ্গের সমতুল।
সম্প্রতি সিঁথি কোলকাতা রঙ্গশীর্ষ নাগেরবাজার থিয়ে অ্যপেক্সে 23rd January লীলা মজুমদারের কাহিনি অবলম্বনে 'সাহসের গান' মঞ্চস্থ করলো। সহযোগিতায় ছিল স্থানীয় বিদ্যালয়ের দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ্যাপীঠ-এর শিক্ষার্থীরা। কলা কুশলীরা এই প্রথম একটি নাটক সঠিক মঞ্চে উপস্থাপনা করল। যারা সকলেই প্রথম প্রজন্ম স্বাক্ষর। তাদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়ই ছিল।
রঙ্গশীর্ষের মনোজিৎ মিত্র এবং পৃথা ভট্টাচার্য্যের গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে নাটকের প্রতিটা বিষয়ের উপর নিয়মিত করমশালার মাধ্যমে ও নিরলস প্রচেষ্টার ফল দেখতে পেলাম এই দিন মঞ্চে। এই সফল উপস্থাপনা নাট্যগোষ্ঠীকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে আশা রাখি। শিশুবয়সের অন্ধকারের ভয়কে কীভাবে শম্ভু মনের জোরে আর দাদুর ভালবাসার টানে কাটিয়ে উঠলো তাই এই নাটকের প্রতিপাদ্য বিষয়। তবে শুধু শিশুর ক্ষেত্রে নয়, ভালবাসা, মনের জোর ও বিজ্ঞানমনস্কতা প্রতিটি মানুষের মনের ভয় ও অন্ধকার দূর করতে সক্ষম। এখানেই এই নাটকেরও উত্তরণ। অভিনয় করেছে – সুপ্রিয়া দাস, প্রিয়া বায়েন, মৌলী বটব্যাল, আনিসা পারভিন, লালমুখী দাস, আমিনা পারভিন, দিয়া ভৌমিক, সঞ্চিতা বাগদি, পিয়া দাস, সঞ্চিতা বায়েন, অনিন্দিতা পাল ও রিয়া দাস। এবং বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে সামগ্রিকভাবে তাঁরা যথেষ্ট সফল এবং প্রশংসার দাবি রাখতে পারেন।প্রতেকে এই প্রথম মঞ্চে উঠে অভিনয় করল। আগামী দিনে এরা সবাই আরও উন্নতি করবে এই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। নাটকের আলোর, সঙ্গীত ও সেটের ব্যবহার খুবই পরিমার্জিত ও সুন্দর।
---- স্নিগ্ধা সেন ও তিতি রায়
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন