মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩

গত ২রা জুন তৃপ্তি মিত্র নাট্য গৃহে বিভাবন এর "Nothing to say " দেখে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা ভাস্কর বনিক

আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন খুব একটা সরল নয়। আমাদের স্বপ্ন মাফিক আমরা কিছু করতে চাইলে বহু ক্ষেত্রে আমাদের বাধা দেওয়া হয়, সেটা Consciously হোক আর unconsciouslyই হোক। তখন আমাদের খুব একটা কিছু বলার থাকে না বা বলা চলে কি বলবো বা কি করবো বুঝে উঠতে পারি না আমরা কেউই অর্থাৎ ‘Nothing to say’। কারণ আমাদের গোটা সিস্টেমটাই আমাদের এমন ভাবে মুখ চেপে ধরে বসে আছে যেখানে টিভি চালানোর পর সবার প্রথমেই একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলের তোষামোদ করা একটা খবরের চ্যানেল জোর করে দেখতে হয়, আমরা না করতে পারিনা। 

এখানে ‘আমরা’ বলতে কিন্তু শুধুমাত্র ‘শিল্পী’দের কথা আমি বলছি না, বলছি ওই চাষিটার কথাও যে প্রত্যেক বছর স্বপ্ন দেখে এবার অন্তত লাভের মুখ দেখবে। আদৌ কি তার রোদে পুড়ে ফেটে যাওয়া মুখটা ‘লাভের মুখ’ দেখতে পায়? “স্বপ্ন গুলো স্বপ্ন হয়েই রয়।” তবে স্বপ্ন দেখাকে তো কেউ আটকাতে পারে না। আটকে দিলে ভ্যান গগ জন্মাতো না। আমরা রোজ স্বপ্ন দেখি, নিজেদের দৈনন্দিন জীবনকে উপেক্ষা করে এর থেকেও সুন্দর একটা জীবনের স্বপ্ন দেখি। যেখানে আমরা সফল, সুন্দর, খুশি। 

বিভাবন প্রযোজিত 'Nothing to say' কয়েকটা জীবন দেখিয়েছে যারা বাধা বিপত্তির মধ্যে থেকেও স্বপ্ন দেখার কথা বলছে। আমার দেখায় ‘Nothing to say’ একটা মুহূর্ত। গঙ্গার পারে বসে অথবা ক্ষেতের সামনের ব্রিজটায় বসে নিজের জীবনের কিছু ভালো, মন্দ, স্বপ্ন, দুঃখ, আনন্দের কথা একা একাই নিজেকে বলেছি এমন বহু মুহূর্ত আছে আমার কাছে। 

‘Nothing to say’ আমার সেই একা ব্রিজে বসে নিজের সাথে কথা বলার সময়কার অনুভূতিটাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলো। Silence itself has a hidden violence or energy, ‘Nothing to say’ এটা feel করায়। দর্শকদের নাটকের অঙ্গ বানিয়ে নিয়ে অবশেষে এটা বুঝিয়ে দেয় যে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন থেকে আরেকটু ভালো একটা জীবনের স্বপ্ন দেখতে ব্যস্ত। তবে সবাই সবার জীবনের কাছে এসে হাত পা দের বেঁধে রেখে ‘আমি ভালো আছি’ গোছের একটা অভিনয় করে যায় প্রতিনিয়ত, তবে মানুষের এই স্বপ্ন দেখার মনটাকে কোনো কিছু দিয়ে বাঁধা যায় কি?

ওই তো আপনি মনে মনেই ‘না’ বললেন।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন