বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

টর্চের আলোয় বাংলা নাটক

 


আলো নিয়ে এক অদ্ভুত পরীক্ষা করলেন বাকসা ব্রাত্য নাট্যজন তাঁদের নতুন প্রযোজনা মোহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত "রাক্ষস" নাটক নিয়ে । কতটা সফল হলেন সেটা সময় বলবে - কিন্তু ভাবনাটা ঠিক থাকলে এই নাটক প্রসেনিয়াম এবং মুক্তমঞ্চ সব জায়গায় তারা সহজেই করতে পারবেন বলে আশা করেন । সেট বলতে কিছু ব্লক আর রষ্ট্রাম । নাটক শুরু হয় একটি ভয়েস ওভার দিয়ে - নাটকের প্রেক্ষিত বর্ণনা করতে গিয়ে নাটকের মূল সুরটি ধরিয়ে দেওয়া হয় । রাক্ষস বলতে যে রূপকল্প মাথায় আসে এই নাটক যে তার বাইরে একটা বড় রাক্ষসকে ধরতে চায় সেটা বোঝা যায় । আজ সারা পৃথিবী জুড়ে কয়েকজন মানুষই ঠিক করছে বাকিরা কিভাবে বাঁচবে । তার দাপট থেকে বাদ যাচ্ছেনা নিরীহ মানুষ, শিশু এমনকি স্কুল আর হাসপাতাল । এটাও তো পাশবিকতা ।

কাহিনীসুত্র হিসেবে লেখক নিয়েছেন রূপকথার একটি প্রাচীন গল্পের সাহায্য - সেই যে অরণ্যে পশুরাজের ফতোয়া - প্রতিদিন একটি করে পশুকে তার ভোজের জন্যে হাজির হতে হবে । সেইরকমই এক রাজ্যে এক রাক্ষসের আবির্ভাব আর আজ হচ্ছে সেই দিন যেদিন রাজপ্রাসাদের একজনকে রাক্ষসের ভোজ্য হতে হবে । ব্রেখটিয়ান ফর্ম পুরোপুরি না হলেও কয়েক জায়গায় তার প্রয়োগ করা হয়েছে । সেটা রূপসজ্জা (তিথি পাল) এবং পোষাক ভাবনাতেও (মানু বোস) । এই নাটকটি চৌধুরীবাড়ির প্রাঙ্গণে অভিনয় করা হয়েছে । উপরের দালান এবং তার সামনে থেকে নেমে আসা সিঁড়িটিকে ব্যবহার করে প্রসেনিয়াম এবং মুক্তমঞ্চ এই দুই ধরণকেই পরীক্ষা করেছেন পরিচালক (সুজিত বোস) । নিজেদের দলের সদস্যরাই এই প্রযোজনার সমস্ত দিক - অভিনয় এবং ব্যাকস্টেজ সামলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে ।

কম শিল্পী সংখ্যা এই নাটকে - মহারাজা (পুলক পালিত), সেনাপতি (সুজান বোস), লেখক (সৈকত মালিক), মহারানী (প্রত্যুষা গাঙ্গুলী), রাজকুমারী (লিপিকা পাল) । মূল আলোক নিয়ন্ত্রক নিবারণ ঘাঁটি ও স্বাধীন দে । শব্দ প্রক্ষেপণ বর্ষা পাল ( এই কাজে মহিলা শিল্পী দেখাই যায় না, একটি প্রত্যন্ত গ্রামের দল খরচ কমানোর স্বার্থে একজন শিল্পীকে তৈরী করেছেন এই কাজে যিনি আবার অন্য নাটকে অভিনয় করেন) । সব মিলিয়ে একটা সুন্দর প্রযোজনা - আশা রাখি দর্শকের ভালো লাগবে ।