শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার ৬ষ্ঠ বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৫

থিয়েটারের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতেই সমস্ত বিপর্যয়কে কাটিয়েই কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা আয়োজিত করলো ৬ষ্ঠ বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৫। শিল্পকলায় সেজে উঠল প্রাঙ্গন। সমগ্র প্রতিকূলতা কাটিয়ে স্থান পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থার ৬ষ্ঠ বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার রবীন্দ্রপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থিয়েটার মগজ পত্রিকার সহযোগিতায়। ২৩ শে ফেব্রুয়ারি সাংস্কৃতিক পদযাত্রার মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় । প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ পরিবর্তিত স্থানে দলের সদস্যদের ভাবনায় খুব দ্রততায় সেজে ওঠে প্রাঙ্গন ও মঞ্চসজ্জা ছিল আকর্ষণীয়। উৎসবে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার, নাট্য গবেষক ড. অপূর্ব দে, নাট্যকার শ্রী সৌমেন পাল ও শিক্ষিকা লীনা পাঠক। চারা গাছে জল প্রদানের মাধ্যমে গুনীজনদের হাত দিয়েই হয় উৎসবের শুরু। নৈহাটি উৎসুকের কচিকাঁচা এবং সকলে সুমধুর কন্ঠে শুরু হয় উদ্বোধনী। এবছর কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন নাট্য সংস্থা আরো একটি বিশেষ উদ্যোগ নেই জীবন নাট্য সম্মান জানানোর। অভিনেতা, নির্দেশক কাঁকিনাড়া অভিযাত্রী সংস্থার শ্রী বুদ্ধদেব চক্রবর্তী মহাশয় এবং অভিনেত্রী শ্রীমতী রীনা বণিক মহাশয়কে জানানো হয় জীবন নাট্য সম্মান। অনুষ্ঠান ভরা ছিল তিনটি নাটক কবিতা ছন্দে নৃত্য সংগীতের তালে। চাকদহ গণমুখ প্রযোজিত নাটক "চৌর্যাপদ", চন্দননগর স্বপ্ননীড় প্রযোজিত ও শ্রীরূপ শেঠ নির্দেশিত " অন্য পৃথিবী" , বারো ঘর এক উঠান প্রযোজিত "পালার শেষে,খোঁজার দেশে"। ছিল কথায় কন্ঠে "দোঁহে", "সুকথা"। নৃত্যে ভরে ওঠে কচিকাঁচাদের ছন্দে মঞ্চ। উপস্থিত ছিল বিভিন্ন নৃত্যের দল 'নৃত্যবালু', 'উপাসনা', 'এথেনিয়া', 'প্রতিশ্রুতি', 'স্বায়প্তী'। সন্ধ্যায় মঞ্চ মাতিয়ে তোলে মৃত্তিকা মালাকার ও বন্ধুরা। রাত গাঢ় হতেই বাংলা মাটির টানে মাটির গানে মেতে ওঠে " মেহুল" ও পুরুলিয়ার ঝুমুর দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান শিল্পী বিজয় দাসের কন্ঠে। রাতের ঘরোয়া জলসা মন ডোবায় সরস্বতী ঝুমুর ব্যান্ডের শিল্পী বিজয় দাসের মাটির সুরে সঙ্গতে দোতারা কৌশিক পৈলান । অতিথি বরন করা হয় গাছ, দলের সদস্যাদের হাতে তৈরি স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে‌। ছিল শিল্পী সম্মাননা। সব মিলিয়ে শিল্প সাক্ষাৎ প্রমাণ করলো মানুষের সাথে মানুষের টান আর আপ্রাণ চেষ্টা। সঞ্চালক হিসাবে দক্ষতার প্রমাণ দেয়





দুই সঞ্চালক কৃষ্ণ বর্মন ও পৌলমি ভট্টাচার্য। দলের কর্ণধার রাজা দে জানান - ❝এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি পরিধি বৃদ্ধিতে এবং এলাকার মানুষের মধ্যে সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। প্রতিবারের চেষ্টা মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে এই মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব। প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে এই উৎসব ❞ তাদের এই সুপ্রচেষ্টাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আশা রাখি এই সাংস্কৃতিক যাত্রা জারি রাখুক হাজার বছর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন