গত ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৪ আলোমুখ হাওড়া নাট্যদল তাদের ১১তম জন্মদিন পালন করলো মহাসমারোহে। কলকাতা কেন্দ্রিক একটি দল হওয়া সত্বেও দলের জন্মদিনের মতো একটি বিশেষ দিন একেবারে গ্রামের বুকে গ্রামের মানুষদের সাথে পালন করার এহেন উদ্যোগে এই নিয়ে আলোমুখীরা তৃতীয়বার। হুগলীর দেশমুখা গ্রামের সাথে আলোমুখ ও আলোমুখীদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাই সেখানেই পালিত হলো ১১তম জন্মদিন। জন্মদিন শুরু হলো সকালে গোটা গ্রাম ঘুরে প্রভাত ফেরির মধ্যে দিয়ে আর সেই সাথেই আমন্ত্রণ জানানো হলো সমগ্র গ্রামবাসীদের আলোমুখের এই আনন্দ অনুষ্ঠানে সামিল হওয়ার জন্যে। গ্রামের ইচ্ছুক ছেলেমেয়েরাও নাম লেখালো নাচ, গান অথবা আবৃত্তি পরিবেশনের জন্য। এরপর সারাদিন চললো উৎসব প্রাঙ্গণ সাজানোর কাজ এবং মঞ্চ বাঁধার কাজ, যে মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে "সুনীল ছায়ানীড়" মঞ্চ।
বিকেলে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অতিথি আনন্দী বসু প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। তারপর শুরু হয় অন্যান্য অনুষ্ঠান। প্রথমে গান করেন নবাগতা আলোমুখী শ্রেয়সী মন্ডল। তারপর পরিবেশিত হয় অত্যন্ত পরিচিত এবং বিশেষ অতিথি আনন্দী বসুর সঙ্গীত। এরপর দলের নির্দেশক, কাণ্ডারী মনসিজ বন্দ্যোপাধ্যায় ও "শ্রীরামপুর সফর" এর অন্যতম কর্ণধার সুপর্ণা ব্যানার্জী পরিবেশন করেন একটি অসম্ভব সুন্দর শ্রুতিনাটক "যুদ্ধ ও প্রেম"। নাটকটি লিখেছেন নির্দেশক মনসিজ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় আবহ নির্মান ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন আলোমুখী গৌরব মুখার্জী। ভবেশ পাত্রের দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠান এগিয়ে চলতে থাকে। পরবর্তী পরিবেশন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শুচিস্মিতা মুখার্জীর হৃদয়স্পর্শী আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিকে আরও গভীর করে তোলে। আলোমুখের বন্ধু জন সৌমেন গুপ্ত তার নাটকীয় সংলাপের মাধ্যমে পরিবেশন করলেন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে " স্বাধীনতা" শব্দটা কতটা অর্থবহ। গ্রামবাসী দের পক্ষ থেকে নৃত্য পরিবেশন করে কিশোরী জয়তী বাগ, আবৃত্তি করেন স্বরাজ ব্যানার্জী, গান শোনান কণিকা ব্যানার্জী এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সুজিত ব্যানার্জী। আবৃত্তি শোনান চন্দ্রা চ্যাটার্জী এবং অসম্ভব ভালো নৃত্য পরিবেশন করে দুই শিশু প্রবাহ ও প্রদক্ষিণ, সেই সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে জাগৃতি দসের কবিতা সকলকে মুগ্ধ করে।
এইসবের পাশাপাশি আলোমুখের নিজস্ব প্রযোজনায় ছিল দুটি ছোট নাটক। প্রথমটি "উপেক্ষিতা" যার প্রয়োগ পরিকল্পনা করেছেন ন্যান্সি এবং একক অভিনয় করেছন ঊর্ণিশা। দ্বিতীয় নাটক "আশাদীপ" যার প্রয়োগ ও পরিকল্পনা করেছেন ঊর্ণিশা এবং অভিনয় করেছেন কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ পাল ও রিমা মাইতি। সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে ছিলেন ঊর্ণিশা, কৌশিক খাঁ ও গৌরব মুখার্জী। সব মিলিয়ে গ্রামের বুকে, গ্রামের মানুষদের সঙ্গে বেঁধে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগে আলোমুখীরা আবার একবার সফল।